খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ অগাস্ট ২০১৯ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ |

সোনালি আঁশের সুদিন ফেরান

০৩ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

সোনালি আঁশের সুদিন ফেরান

পাট খাতের দুর্দিন নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদনে যে হতাশাজনক চিত্র প্রকাশিত হয়েছে, তা অপ্রত্যাশিত ছিল। যে কোনো রফতানি পণ্যের ক্ষেত্রে সুদিন-দুর্দিনের জোয়ার-ভাটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মন্দা যখন টানা দুই বছর ধরে চলে, তখন আমরা উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না। এই প্রশ্ন তখন স্বাভাবিক যে, দুই বছর ধরে সংশ্লিষ্টরা তাহলে কী করছে? 
রফতানিযোগ্য পাটপণ্যের মজুদ যখন ৭০ হাজার টনে দাঁড়ায়, তখন তা কেবল উৎপাদক ও রফতানিকারকের জন্য বোঝা হতে পারে না। আমরা দেখছিলাম, পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার কী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। এক সময় দেশের প্রধান অর্থকরী এই ফসলটির উৎপাদন ও বাজার উন্নয়নে কতটা মনোযোগ বেড়েছে। বর্তমান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতাতেই তোষা ও দেশি পাটের জিনোম সিকোয়েন্স বা জীবন-সূত্র উন্মোচন হয়েছিল। মিলেছিল পাটের তিনটি জিনোম কোডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। গত দুই বছরে পাট খাতের উন্নতির সেই ধারাবাহিকায় ছেদ পড়ল কেন? আমরা মনে করি, এখন দেশের অভ্যন্তরে ও বহির্বিশ্বে পাটের বাজার সম্প্রসারণে মনোযোগ দেওয়ার বিকল্প নেই। পাটচাষি, পাটপণ্য উৎপাদক, রফতানিকারকদের জন্য পর্যাপ্ত প্রণোদনা ও উপযুক্ত বাজারমূল্য নিশ্চিত না করতে পারলে বর্তমান সরকারের টানা তিন মেয়াদের নানা উদ্যোগ ও উৎসাহ অর্থহীন হয়ে পড়বে।
আমরা জানি, দেশের ঐতিহ্যবাহী এই অর্থকরী ফসল নিয়ে কয়েক দফা নীতি প্রণীত হয়েছে। কিন্তু আখেরে বাজার সম্প্রসারণ ও বহুমুখীকরণ প্রক্রিয়া যদি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া না যায়, তাহলে নীতিমালা নিছক কাগজের তোড়া ছাড়া আর কী? আমরা দেখতে চাইব, পাটের বাজার খোঁজার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দূতাবাস ও হাইকমিশনকে সক্রিয় করা হয়েছে। কেবল কাঁচা পাট ও চট নয় পাটজাত সুতা, বস্ত্র ও ফ্যাশন পণ্যের যে বিপুল চাহিদা বিশ্বজুড়ে রয়েছে, দূতাবাসগুলো তার সঙ্গে রফতানিকারকদের সহজেই সংযোগ ঘটিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধির দিকেও নজর দিতে বলব আমরা। কারন কেবল সরকারি কাজেই প্রতি বছর ৮০ কোটি পাটের বস্তা প্রয়োজন হয়। সরকারিভাবেই যদি পাটের ব্যবহার বাধ্যতা মূলক করা হয়, তাহলে কি পাট খাত বিপুল বিক্রমে ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারে না? আর প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে পারলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি পাটের জন্যও হাতের কাছে মিলবে ১৭ কোটি মানুষের বিরাট বাজার। প্রশ্ন হচ্ছে, পাট খাত নিয়ে সরকারের নীতিগত সদিচ্ছাগুলো প্রায়োগিক ক্ষেত্রে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে?
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০


মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

১০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০




ব্রেকিং নিউজ










সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

২২ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮