খুলনা | সোমবার | ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ |

ডেঙ্গু আক্রান্তের বাড়ছে সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে : সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরী

০২ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

ডেঙ্গু আক্রান্তের বাড়ছে সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে : সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরী

রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারন করেছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। রাজধানী ঢাকায় এর প্রকোপ বেশি হলেও সারা দেশ থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর প্রতিদিন পত্র পত্রিকায় আসছে। ইতোমধ্যে আক্রান্ত কয়েক জনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বুধবার ঢাকায় পুলিশের এসআই কহিনুরসহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন চিকিৎসক মারা গেছেন। অর্থমন্ত্রী বাজেট ঘোষণার কয়েক দিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। খুলনা মহানগরীসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকেও প্রতিদিন আক্রান্তে খবর আসছে। বিষয়টি নিয়ে গোটা দেশবাসী এখন আতঙ্কিত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত বছরের চেয়ে এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপই বলা যায়। এবার জুন মাসে ঢাকার সরকারি হাসপাতাল গুলোতে গত তিন বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। গত জুন মাসে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭১৩। আর জুলাই মাস জুড়ে সারা দেশে আক্রান্তে সংখ্যা কয়েকগুন বেড়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোতে এবং বাসায় থেকে অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। 
চলতি বছরের শুরু থেকে খুলনা মহানগরীতে ডেঙ্গু জ্বর দেখা দিলেও জুন মাসের মাঝামাঝি এই সংখ্যা ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ছে। জুলাই মাসে যা ব্যাপক আকার ধারন করে। আক্রান্তদের মধ্যে বাসায় থাকা নারী ও কিশোরীর সংখ্যাও রয়েছে। প্রতিদিন হাসপাতালে জ্বরে আক্রান্ত বহু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। ডেঙ্গু বাহক এডিশ মশার প্রজনন বেশি হওয়ার কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে ডেঙ্গু ভয়ঙ্কর রূপে আত্ম প্রকাশ করতে পারে। ফলে এই রোগ প্রতিরোধ কীভাবে সম্ভব, তা এখনই ভাবতে হবে। এ ক্ষেত্রে ডেঙ্গুবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার বিকল্প নেই। 
বলার অপেক্ষা রাখে না, ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী হচ্ছে এডিস মশা। এই মশা সাধারণত দিনে কামড়ায়। সাধারণ মশার চেয়ে এই মশা আকারে বড় এবং ডোরা কাটা। এরা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। তাই কোথাও পানি জমে থাকতে দেয়া উচিত নয়। যেহেতু রোগটি মশাবাহিত তাই মশার বংশ বৃদ্ধি রোধ, নিধন ও প্রতিরক্ষা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সবার আগে। পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হতে হবে। সাধারণত এপ্রিল-জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে। 
আমরা মনে করি, ডেঙ্গুর ভয়াবহতা অনুধাবন করে এই রোগ তিরোধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারেই বিবেচনা করা সঙ্গত। ফলে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে হলে মশক নিধনে  সিটি করপোরেশনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এ লক্ষে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সিটি করপোরেশন কর্তব্য হওয়া দরকার মশা নিধন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা। ব্যক্তি সচেতন হলে মশাবাহিত রোগ হ্রাস পেতে পারে। মনে রাখা দরকার, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ব্যাপারে হেলাফেলা বা উদাসীনতা প্রত্যাশিত নয়।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০








ব্রেকিং নিউজ