খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ অগাস্ট ২০১৯ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ |

প্রকৃতির সাথে মানুষের  লড়াই বন্ধ করা জরুরি

০১ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০

প্রকৃতির সাথে মানুষের  লড়াই বন্ধ করা জরুরি

মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কটা মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই। তবে প্রকৃতির বনাম মানুষের লড়াইটা শুরু হয়েছিল তখনই, যখন মানুষ গাছ কেটে ঘর বাড়ি, পাহাড় কেটে রাস্তা, কিংবা নদীতে বাঁধ বানিয়ে নতুন নতুন সভ্যতার সূচনা করেছিল। তবে সে লড়াইটা ছিল টিকে থাকার লড়াই, বেঁচে থাকার লড়াই। তাই হয়তো নির্মল ধরিত্রী ও তা মেনে নিয়েছিল কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া ছাড়াই।
এটা তখনই সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে, যখন মানুষ বনাঞ্চল উজাড় করে শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে কয়লা পুড়িয়ে বায়ুমন্ডলে কার্বনের অদৃশ্য ছাদ তৈরি করেছে। আর তাতে সূর্যের তাপ (অতিবেগুনি রশ্মি) আটকে রেখে ধরিত্রীকে করে তুলেছে উষ্ণ থেকে উষ্ণতর। তাই ধরিত্রী ও হিমালয় কিংবা আটলান্টিকের বরফ গলিয়ে তার প্রতিশোধ নিচ্ছে বরাবর। কেননা ধরিত্রী তো আর সর্বংসহা নয়। কথায় আছে বিপদ ঘাড়ে না চাপলে অনেকেরই টনক নড়ে না। তাই বিপদ এবার গায়ে জুড়ে বসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল নিয়ে নিয়ে বহু বছর ধরে আলোচনা চললেও এবছর এর চরম প্রভাব লক্ষ্য করেছে বিশ্ব। কুয়েতের তাপমাত্রা পৌঁছে গেছে ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এমনকি শীত প্রধান ইউরোপের দেশ ফ্রান্সেও গত পহেলা জুলাই তাপমাত্রা ছিল ৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চালু করা হয়েছিল রেড এ্যালার্ট। এ তো হলো ভিনদেশের খবর। খোদ বাংলাদেশের তাপমাত্রাও এ বছর আগের সব রেকর্ড ভেঙে পৌঁছে গেছে ৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
প্রকৃতি বনাম মানুষের এ লড়াইটা প্রথম খেয়াল করেছিল বিজ্ঞানীরা ১৯৫০ সালে। ‘পৃথিবীর গতিশীল উষ্ণায়নের ফলে আটলান্টিকের বরফ গলে সমুদ্রের উচ্চতা বাড়বে। সমুদ্র তটবর্তী শহরগুলো ডুবে যাবে। এবং গ্রীষ্মকালে তাপদাহ প্রচন্ডরকম বাড়বে।’ এমন সব আশঙ্কার কথা তারা তখনই জানিয়েছিল, বলেছিল এর কারণ এবং সমাধানের কথাও। গবেষকরা গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ এবং বন উজাড় করণ কেই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবুও বিংশ শতাব্দীতে জলবায়ু মোকাবিলায় সফল কোনো উদ্যোগ তো নেয়াই হয়নি বরং একবিংশ শতাব্দীতে এসে শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামে কার্বন নিঃসরণ এবং বন উজাড়করণ বেড়ে চলছে জ্যামিতিক হারে।
উন্নত দেশগুলোর এ নিয়ে মাথাব্যথা না থাকাটাই স্বাভাবিক। পুরো বিশ্বকে ডুবিয়ে হলেও তারা তাদের অর্থনৈতিক লাভটাকেই বেছে নেবে। তবে বাংলাদেশের মতো ভুক্তভোগী দেশকে এ বিষয়ে ভাবতেই হবে। কেননা বিশ্ব জলবায়ু ঝুঁকি সূচক ২০১৮ অনুযায়ী বাংলাদেশ ৬ষ্ঠ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাই এ অবস্থায় সরকারের বনভূমি রক্ষায় জোরালো ভূমিকা রাখা দরকার ছিল। অথচ সরকারই বনভূমি উজাড় করে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের ৭০% বনভূমি নিধন হয় সরকারি নানান প্রকল্প এবং অনুমোদন নিয়ে। ফলে বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ কমতে কমতে ১১.২% নেমেছে। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী যা কিনা ২৫% থাকা দরকার। এমন পরিস্থিতিতেও সরকার বনাঞ্চল বিধ্বংসী নতুন নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে। একে তো রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে সুন্দরবনকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে, তার ওপর আবার সুন্দরবনের পাশে আরও পাঁচটি সিমেন্ট কারখানাসহ অসংখ্য কারখানা স্থাপনের বনবিধ্বংসী প্রকল্পের ছাড়পত্র দিয়েছে। বিষয়টি ভাইরাল হয়নি বলেই হয়তো এ বিষয়ে এখনো কেউ মুখ খুলছে না। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় বসে আরও দু-চারটে রামপাল স্থাপনের অনুমোদন হয়তো সরকার দিতেই পারে। তবে তা যেন কোনোভাবেই দেশের কিংবা প্রকৃতির ক্ষতির কারণ না হয় সেটা ভাবা জরুরি। তাই এসব প্রকল্প সংরক্ষিত বনভূমি বা তার পাশে না করে বরং বিভিন্ন খাস জমি কিংবা অব্যবহৃত জমিতে করা যেত। তাতে যেমনি প্রকৃতিও ভালো থাকত, তেমনি ভালো থাকত আমাদের আগামী। মনে রাখা দরকার, আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী আমাদেরই রেখে যেতে হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০


মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

১০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০




ব্রেকিং নিউজ










সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

২২ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮