খুলনা | সোমবার | ১৯ অগাস্ট ২০১৯ | ৪ ভাদ্র ১৪২৬ |

শিরোনাম :
মোংলায় সাংগঠনিক তদন্তে এসে অভিযুক্তের সাথে ভ্রমণ ও ভুরিভোজ কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতারডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৩ হাজার, চিকিৎসা শেষে ফিরেছে ৪৫ হাজারবেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থী শিঞ্জন একদিনের রিমান্ডে অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বাড়ছে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন, চলছে বাছবিচারহীন গ্রেফতারখুলনায় প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গাড়ি ও ড্রাইভারের সুবিধা গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ!ফের নগরীর বেসরকারি বিশ্বদ্যিালয়ের বিবিএ’র ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগঈদযাত্রায় সড়কে গেছে ২২৪ প্রাণস্ত্রী পরিচয়ে কুয়াকাটাসহ নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ওই ছাত্রীকে রেখেছিলো ‘শিঞ্জন রায়’

Shomoyer Khobor

খুলনা বিএনপি’র ঘর গোছানোর তাগিদ কেন্দ্রের : নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ৩১ জুলাই, ২০১৯ ০০:৩১:০০

আবারও খুলনা বিএনপিকে ঘর গোছানোর তাগিদ দিয়েছে কেন্দ্র। বিএনপি’র ভ্যানগার্ড খ্যাত অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করে রাজপথে নামার জন্য প্রস্তুত করতে চায় দলটি। এতে শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতা-কর্মীরা। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী, ত্যাগী-পরিশ্রমী, হামলা-মামলায় নির্যাতনে পরীক্ষিতদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেবার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন খুলনা বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা।
গত ২৫ জুলাই বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব এড. রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত পত্রটি পৌঁছেছে খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, মহানগর ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের কাছে। ওয়ার্ড পর্যায় থেকে পর্যায়ক্রমে জেলা ও মহানগরের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার চিঠিতে বলা হয়েছে বিএনপি’র জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা ও সুপারিশ সাপেক্ষে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি কমিটি গঠন করবে। একই ভাবে থানা, উপজেলা ও পৌর শাখার কমিটি গঠনে সেই ইউনিট বিএনপি’র এবং ওয়ার্ড কমিটি গঠনে ইউনিয়ন নেতাদের সুপারিশে নিতে তাগিদ দেয়া হয়েছে। এর আগে, ২০১৫ সালের ৯ আগস্ট তৃণমূল পর্যায় থেকে দল পুনর্গঠনে জেলা ও মহানগর সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়েছিল কেন্দ্র।
দলীয় সূত্রমতে, ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর শরীফুল ইসলাম বাবুকে সভাপতি ও হেলাল আহমেদ সুমনকে সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রদলে আব্দুল মান্নান মিস্ত্রিকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে এ দু’টি ইউনিটের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। এর দুই বছর পর ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ৩৯১ সদস্যের নগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সে সময় ছাত্রদলের কমিটি গঠনে নগর বিএনপি’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ভেস্তে যায়। বিশালাকৃতির এ কমিটিতে বিতর্কিতদের ঠাসাঠাসিতে সমালোচনা উঠেছিল তখন। আর চৌদ্দ মাস পর ২৫৫ সদস্যের জেলা ছাত্রদলের প
পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে দেয় কেন্দ্র। বিএনপি’র সূতিকাগার এ সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা আন্দোলন-সংগ্রামে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের। ইউনিট কমিটি গঠন ও সেখানে কর্মসূচি পালন তো দূরের কথা খুলনার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে প্রবেশও করতে পারেনি তারা।
এদিকে, খুলনা জেলা যুবদলে এস এম শামীম কবিরকে সভাপতি ও ইবাদুল হক রুবায়েতকে সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগরে মাহাবুব হাসান পিয়ারুকে সভাপতি ও নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগরকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল পৃথক এ দু’টি ইউনিটে পাঁচ সদস্যের করে আংশিক কমিটি ঘোষণা দেয় কেন্দ্র। এর ১৬ মাস পর গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১ সদস্যের জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। 
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেলা বিএনপি’র দুই নেতার মতোপার্থক্যের মধ্যদিয়েই জেলা যুবদলের নতুন কমিটি আসছে শিগগিরই। আবার, গেল বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ ১৪ বছর পর মহানগর যুবদলের ২২৫ সদস্যের পুর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দেয় কেন্দ্র। মতনৈক্যের কারণে জেলার নয় উপজেলা ও দু’টি পৌরসভা এবং মহানগরীর পাঁচ থানায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি বিএনপি’র সবচেয়ে শক্তিশালী এ অঙ্গসংগঠনটি।
আবার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলে শেখ তৈয়বুর রহমানকে সভাপতি ও আতাউর রহমান রুনুকে সাধারণ সম্পাদক এবং নগর স্বেচ্ছাসেবক দলে এস এম একরামুল হক হেলালকে সভাপতি ও ফারুক হিল্টনকে সাধারণ সম্পাদক করে গত বছরের ৬ জুন পৃথক এ দু’টি ইউনিটে পাঁচ সদস্যের করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র।
অন্যদিকে, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই উজ্জ্বল কুমার সাহাকে সভাপতি ও খান ইসমাইল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা শ্রমিক দলের ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। ২০১১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর গঠিত মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মজিবুর রহমানের কমিটির জরাজীর্ণতায় হারিয়ে গেছেন পদ-পদবীধারী অনেকেই। এছাড়া মহানগর মহিলা দলের সভাপতি সৈয়দা রেহেনা ঈসা ও সাধারণ সম্পাদক আজিজা খানম এলিজা এবং জেলা মহিলা দলের সভাপতি তছলিমা খাতুন ছন্দা  ও সাধারণ সম্পাদক পুর্ণিমা হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিটিও দীর্ঘদিনের। সম্মেলন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না অভিযোগ তৃণমূল কর্মীদের।
সূত্রমতে, ২০১৫ সালের ৯ আগস্ট তৃণমূল পর্যায় থেকে দল পুনর্গঠনে জেলা ও মহানগর সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়েছিল কেন্দ্র। চিঠিতে ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হলেও কার্যত্ব তা সম্ভব হয়নি। ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর মহানগর বিএনপি’র সর্বশেষ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু সভাপতি এবং মনিরুজ্জামান মনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের ৯ এপ্রিল নগর বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হন। আবার, ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্র“য়ারি এড. শফিকুল আলম মনাকে সভাপতি ও আমীর এজাজ খানকে  সাধারণ সম্পাদক করে জেলা বিএনপি’র ২৯ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। একই বছরের ৬ ডিসেম্বর ১৮১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এদিকে, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপি’র ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে অনুমোদিত সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ‘এক নেতার এক পদ’ বিধান সংযুক্তি করা হয়। যদিও সে নিয়ম জেলা ও মহানগরের সবক্ষেত্রে সমানভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বিএনপি’র চলমান আন্দোলন সংগ্রামকে তরান্বিত করতে অঙ্গসংগঠনকে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে। সে লক্ষে অঙ্গ সংগঠনে ত্যাগী, পরিশ্রমি পরীক্ষিতদের স্থান করে দিতেই নির্দেশনা এসেছে। আমি সব সময়েই চেয়েছি রাজপথের পরীক্ষিত হামলা-মামলার শিকার মজলুমদের হাতে নেতৃত্ব দিতে। তৃণমূল থেকে নেতৃত্বের সৃষ্টি হতে হয়। উপর থেকে নাজিল হওয়া কমিটি দিয়ে আন্দোলন হয় না।
জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেন, অঙ্গ সংগঠনকে শক্তিশালী করে আগামী দিনের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করতে ইউনিট কমিটি গঠনের গুরুত্ব অনেক। সে লক্ষে কাজ করছি। জেলায় সকল অঙ্গসংগঠনে ত্যাগীদের সমন্বয়ে সংগঠন বিনির্মাণ করা হবে।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


জাতীয় পার্টিতে ভাঙনের সুর!

জাতীয় পার্টিতে ভাঙনের সুর!

২৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:৩৩












ব্রেকিং নিউজ