খুলনা | মঙ্গলবার | ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

বিষমুক্ত খাদ্য নিশ্চিতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ জরুরী

৩১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০

বিষমুক্ত খাদ্য নিশ্চিতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ জরুরী

সারা বাংলাদেশ আজ নোংরা আর অস্বাস্থ্যকর খাবারে ছেয়ে গেছে। খাবারে মিশ্রিত বিষ গ্রাস করছে আমাদের লিভার, কিডনি, হৃৎপিন্ড ও অস্থিমজ্জা। লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ক্যান্সারে, নবজাতক ভুগছে শারীরিক বৈকল্যে। আমাদের সন্তান আমাদের প্রশ্ন করেছে,‘ কলায় নাকি বিষ আছে? আমি কলা খেয়ে মারা যাব না তো?’ আরেক সন্তান প্রশ্ন করেছে, ‘মুরগির হাড়ে তো ক্যালসিয়াম থাকে। তুমি কেন আমাকে হাড় খেতে দাও না? হাড় না খেলে আমার মেরুদন্ড শক্ত হবে কী ভাবে?’ কেউ কি আছেন এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারেন। যদি না দিতে পারেন তবে পাঠ্যপুস্তক থেকে সরিয়ে ফেলুন খাদ্য উপাদান, এর প্রয়োজনীয়তা কিংবা সুষম খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়বস্তু। এর ফলে  অন্তত্য আমাদের এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে না। 
মজার ব্যাপার হলো, আমরা এখন কিন্তু প্রাণের আশা ছেড়ে বিষের শরণাপন্ন হই না, বরং জেনে শুনে বিষ খাই প্রাণ বাঁচানোর নামে। বিষের মিশ্রণ কিংবা ভেজাল ছাড়া বাজারে কোনো খাবার নেই। বাঁচতে হলে খেতে হবে, আর খেতে হলে বিষের সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড় করতে হবে এটাই বাস্তবতা। কারণ আমরা যা কিছু খাই তার সঙ্গেই বিষ ফ্রি। আমাদের সন্তানেরা বিষের জ্বালায় প্রতিদিন নীল হয় গর্ভের ভেতরে বা বাইরে। কিন্তু তাতে কার কী আসে যায়! মাছ, মুরগি, ফলমূল আর শস্য সম্ভার সবটাতেই বিষ। খাবারে ভেজাল আর বিষ যে শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে, তা আগে কেউ কি জানত!
সারা বছর ঢিলেঢালা ভাবে র‌্যাব কিংবা বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভেজাল বিরোধী অভিযান চলছে হোটেলে ও রেস্টুরেন্টে। ব্যস্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত, ব্যস্ত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা। এর ফলে সাজানো গোছানো রেস্টুরেন্টের অন্দরমহলের তরতাজা খবর আর ছবি বেরিয়ে আসছে বাইরে। আমরাও হুমড়ি খেয়ে সেই ছবি দেখছি, ভিরমিও খাচ্ছি। এসব হোটেল রেস্টুরেন্টের ভিড়ে অভিজাত এলাকার হোটেল-রেস্টুরেন্টও রয়েছে। খুলনা মহানগরীর অভিজাত হোটেল ওয়েস্টার্ন ইন ও রয়্যাল হোটেল ইন্টারন্যাশনালে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের নানা অপরাধে এ দু’টি হোটেলে জরিমানা করা হয় বলে জানা গেছে। এসব হোটেল কিংবা রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরের শেওলা ধরা দেয়াল, কর্দমাক্ত মেঝে, জীবাণুতে ঠাসা বাসনপত্র, ঝুলকালিতে পরিপূর্ণ চুলার চারপাশ, রান্নাঘরের লাগোয়া কাঁচা কিংবা পাকা টয়লেটের উপস্থিতি দেখে আমাদের চক্ষু চড়কগাছ। আজ আমাদের মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা শিখে গেছেন ময়লার স্তুপে বসে রান্না করে কিভাবে শতভাগ নিরাপদ আর হালাল খাবারের ধোঁয়া তুলে খাদ্যদ্রব্য বাজারজাত করতে হয়। মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করা এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের যে জরিমানা করা হয়, তার অঙ্ক শুনলেও হাসি পায় মাঝে মধ্যে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই জরিমানার পরিমাণ হয় তাঁদের এক দিনের লভ্যাংশের চেয়েও কম। শুধু বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ভেজাল বিরোধী অভিযান বিষাক্ত খাদ্যের ব্যাপকতার বিপরীতে কি যথেষ্ট? 
একদিকে ওয়াসার দুষিত পানি আর অন্যদিকে ক্ষতিকর সিসা মিশ্রিত দুধ, ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য থেকে তৈরি পোলট্রি ফিডে গঠিত প্রাণিজ আমিষ, ফরমালিন সমৃদ্ধ মাছ, ফল আর নকল ডিমের আশঙ্কা নিয়ে আমরা রোজ খাবার তুলে দিই আমাদের সন্তানের মুখে। কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে জেনে-বুঝে বিষ খাওয়াই ওদের।  
আমরা আমাদের সন্তানের জন্য চাই একটু নিরাপদ খাবার। আমরা চাই ওরা বেঁচে থাকুক, ওদের ছোট ছোট অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো সচল থাকুক, থাকুক ঝুঁকিমুক্ত। অন্তত ওদের জন্য চাই একটু বিষমুক্ত খাবার। বিষমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারকে খাদ্যে বিষ মিশ্রণের উৎসমূল থেকে শুরু করে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বিআরটিএ’র জবাবদিহি নিশ্চিত করুন

বিআরটিএ’র জবাবদিহি নিশ্চিত করুন

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




ফেসবুক ব্যবহারে থাকুক সীমারেখা

ফেসবুক ব্যবহারে থাকুক সীমারেখা

০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০









ব্রেকিং নিউজ






টানা দ্বিতীয় জয়ে শীর্ষে খুলনা

টানা দ্বিতীয় জয়ে শীর্ষে খুলনা

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০