খুলনা | সোমবার | ১৯ অগাস্ট ২০১৯ | ৪ ভাদ্র ১৪২৬ |

শিরোনাম :
মোংলায় সাংগঠনিক তদন্তে এসে অভিযুক্তের সাথে ভ্রমণ ও ভুরিভোজ কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতারডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৩ হাজার, চিকিৎসা শেষে ফিরেছে ৪৫ হাজারবেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থী শিঞ্জন একদিনের রিমান্ডে অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বাড়ছে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন, চলছে বাছবিচারহীন গ্রেফতারখুলনায় প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গাড়ি ও ড্রাইভারের সুবিধা গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ!ফের নগরীর বেসরকারি বিশ্বদ্যিালয়ের বিবিএ’র ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগঈদযাত্রায় সড়কে গেছে ২২৪ প্রাণস্ত্রী পরিচয়ে কুয়াকাটাসহ নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ওই ছাত্রীকে রেখেছিলো ‘শিঞ্জন রায়’

বিপন্ন পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের  মূলোৎপাটন জরুরি

২৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০

বিপন্ন পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের  মূলোৎপাটন জরুরি

আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও নিয়মিত তদারকির অভাবে পলিথিনের উৎপাদন ও ব্যবহার আগের অবস্থায় চলে এসেছে। নিষিদ্ধ হওয়ার প্রথমদিকে এর বিরুদ্ধে ইতিবাচক সাড়া মিললেও ব্যবহার বন্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা না নেয়ায় বর্তমান অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পরিবেশের উপর বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
আমাদের দেশে অনেক জিনিসই নিষিদ্ধ কিন্তু তা দস্তুরমতো ব্যবহার হচ্ছে অনেকটা প্রকাশ্যেই। এ দেশে নিষিদ্ধ কিন্তু যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে এমন একটি দ্রব্যের নাম জানতে চাইলে অনেকেই অকপটে বলে ফেলবেন সেই নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন ব্যাগের কথা। ২০০২ সালে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতিকারক দিক বিবেচনা করে রপ্তানিমুখী শিল্প ব্যতীত সব ধরনের পলিথিন ব্যাগ উৎপাদনকারী শিল্পের উৎপাদন, বাজারজাত করণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিনের ব্যাপক আকারে ব্যবহার আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে। তরকারির বাজারে একশ গ্রাম কাঁচামরিচ ক্রয় করলেও বিক্রেতা ছোট একটি পলিথিন ব্যাগে ভরে তা ক্রেতার হাতে ধরিয়ে দেয়। 
বর্তমানে দেশে কতগুলো পলিথিন ব্যাগ উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে ও এগুলোর উৎপাদন পরিমাণ কত তার কোনো পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, ১৯৯৩ সালে সারাদেশে ৪.৫ মিলিয়ন পলিথিন ব্যাগ ব্যবহৃত হতো প্রতিদিন। ২০০০ সালে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৯.৩ মিলিয়নে। বর্তমানে সর্বনাশা এই পলিথিনের ব্যবহার বেড়েছে ও বেড়ে চলছে লাগামহীন ভাবে। প্রাথমিক এক হিসাবে এর পরিমাণ ১১.৭৫ মিলিয়ন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে সারাদেশে ১০০০টি পলিথিন ব্যাগ উৎপাদনকারী ছোট-বড় অবৈধ কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৭০০টি খোদ রাজধানীতে। বাকি কারখানাগুলো চিটাগাং ও দেশের অন্যান্য জেলায় অবস্থিত। বিদেশ থেকে প্লাস্টিকের দানা ও পাউডার এনে কারখানাগুলোতে প্রতিদিন অগণিত ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ব্যাগ তৈরি হচ্ছে ও তা সব আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিপণন ও দেদারছে ব্যবহার হচ্ছে।  নিষিদ্ধ ঘোষণার পর বাজার থেকে কিছু পলিথিন ব্যাগ আটক করা হলেও সরকারের সব কার্যক্রম রহস্য জনক ভাবে থেমে যায়। এরপর দীর্ঘ দিন পার হয়ে যায় কিন্তু আইন ভঙ্গ করে যারা পলিথিন উৎপাদন, বিক্রয় ও ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কোনো আইনগত প্রক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। এরই ফলশ্র“তিতে আজ সর্বনাশা পলিথিনে দেশ ভাসছে। সরকার ২০০০ সালে পরিবেশ রক্ষা আইন-১৯৯৫ পরিবর্তন করে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে পলিথিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের কারা প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করে। কিন্তু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি আটক ও কারখানা সিল করার ক্ষমতা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রদান করা হয়নি। এদিকে পরিবেশ আদালতকে দোষী ব্যক্তিকে ১০ লাখ টাকা অর্থ দন্ড অথবা ১০ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত করার ক্ষমতা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার ক্ষমতাও প্রদান করা হয়।
যে পলিথিন আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেই পলিথিন কিভাবে প্রতিদিনই নদী-পানি-কৃষিজমি ইত্যাদি নষ্ট করছে, শহরাঞ্চলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে ও মানব জীবনকে বিপর্যস্ত করছে তা ভাবতেও অবাক লাগে। অথচ এসব যেন দেখার কেউ নেই। বিপন্ন পরিবেশকে দ্রুত রক্ষার জন্য সারাদেশ থেকে পলিথিনের মূলোৎপাটন করা জরুরি। আমরা মনে করি, সরকারকেই এ ব্যাপারে সচেষ্ট হতে হবে। তবেই হয়তো নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার কমে আসবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০


মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

১০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ