খুলনা | বুধবার | ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

লবণচরার কুরাইশি স্টীল লিমিটেডের সম্পত্তি আত্মসাৎ

হাতিমের চেয়ারম্যান ও মাহবুব ব্রাদার্সের পরিচালকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

এন আই রকি | প্রকাশিত ২৫ জুলাই, ২০১৯ ০১:০০:০০

হাতিম গ্র“পের চেয়ারম্যান ফজল-ই-হোসেন এবং মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাঃ লিমিটেডের পরিচালক শেখ মাহাবুব রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে নগরীর লবণচরাস্থ ‘কুরাইশি স্টীল লিমিটেড’-এর সম্পত্তি আত্মসাতের ঘটনা মামলা দায়ের হয়েছে। দুনীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে উপ-সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে ৬ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মামলা করেন। 
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, কুরাইশি স্টীল লিমিটেডের সরকারি অংশের শেয়ার না জানিয়ে বিক্রি, শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিএসইসিকে অবহিত না করে মিলের উৎপাদন বন্ধ, প্রতিষ্ঠানটির যন্ত্রপাতি গোপনে বিক্রি এবং মিলের জমির মালিকানার প্রকৃত তথ্য গোপন করে দু’টি পৃথক রেজিস্ট্রি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে বিক্রয় করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। 
মামলার আসামিরা হলেন চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট রোডের সরাফ আলী ছেলে ও হাতিম গ্র“পের চেয়ারম্যান ফজল-ই-হোসেন। তার আপন ভাই সাফাকাত হোসেন এবং মোহাম্মদ হোসেন। চট্টগ্রামের সদরঘাট রোডের মৃত মোহসীন আলীর ছেলে ফখরুদ্দীন মোঃ জালালী, খুলনা সদরের ১৭ ক্লে রোডের মৃত শরাফ আলী ছেলে এনায়েত হোসেন, খুলনার দৌলতপুরের আলহাজ্ব শেখ মজনুর ছেলে ও মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাঃ লিমিটেডের ডাইরেক্টর শেখ মাহাবুব রহমান, দৌলতপুরের মৃত মানিক আহম্মদ হাওলাদারের ছেলে এবং মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাঃ লিমিটেডের এসিসটেন্ট অফিসার মোঃ সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার, হাতিম গ্র“পের চেয়ারম্যান ফজল-ই- হোসেনের স্ত্রী আমাতল্লাহ এফ হোসেন এবং খুলনার গোবরচাকা এলাকার মৃত আঃ হাকিমের ছেলে মোঃ মজিবর রহমান। 
জানা যায়, নগরীর লবণচরাস্থ ৬ দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর ১৯৬৯ সালের ২ ডিসেম্বর ব্যক্তি মালিকানায় কুরাইশি স্টীল লিঃ নামীয় প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনতা উত্তর অবাঙালি মালিকানাধীন শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাষ্ট্রপতির আদেশে জাতীয়করণ করা হয়। পরবর্তীতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ স্টীল মিলস্ করপোরেশন পরবর্তীতে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়। ১৯৮৪ সালের সরকারের গৃহিত বেসরকারিকরণ নীতির আলোকে জনস্বার্থে কুরাইশি স্টীল লিঃ-এর পূর্বের শেয়ার হোল্ডারগণের নিকট প্রতিষ্ঠানটি শর্ত সাপেক্ষে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে সম্মত হওয়ায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাথে কুরাইশি স্টীল লিঃ-এর শেয়ার হোল্ডারগণের পক্ষে ফজল-ই-হোসেনের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী সরকার বা বিএসইসির মেয়ার ৪৩ দশমিক ৬ ভাগ এবং ক্রেতা পক্ষ ফজল-ই-হোসেন গংদের নামে অবশিষ্ট ৫৬ দশমিক ৪ ভাগ শেয়ার হস্তান্তরের শর্ত বিদ্যমান ছিল। চুক্তিতে প্রধান বিষয় ছিল, ক্রেতা পক্ষ প্রতিষ্ঠানের সকল দেনা, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের পাওনা পরিশোধ করবেন। যতদিন পরিশোধ করবেন না ততদিন বিএসইসির প্রতিনিধির সিদ্ধান্ত ছাড়া কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। সরকারের অনুমতি ছাড়া ক্রেতাপক্ষ তাদের শেয়ার হস্তান্তর ও মিলের পরিবর্তন করতে পারবে না। পরবর্তীতে ক্রেতা পক্ষ শেয়ারের মূল্য সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় এবং আংশিক পরিশোধিত মূল্য সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়। সে কারণে প্রতিষ্ঠানটির সকল ক্ষমতা সরকার বা বিএসইসির অনুকূলে বহাল থাকে। এ ঘটনার পর ২০১৭ সালের ১৩ জুন খুলনা জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটির দখল গ্রহণপূর্বক সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে মিলটির যন্ত্রপাতি অবকাঠামোর অস্তিত্ব নেই। পাশাপাশি ফজল-ই-হোসেন মালিকানার প্রকৃত তথ্য গোপন করে ৩ দশমিক ৪২ এবং ৩ দশমিক ৩৬ একর জমি ৬ কোটি ১০ লাখ টাকায় মাহাবুব ব্রাদার্সের নিকট বিক্রি করে। 
চট্টগ্রাম দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বুধবার বিকেলে বলেন, মামলাটি অনেক বড়। গত ২০ জুলাই খুলনার দুদক কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ৬ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সাথে অন্য কারো জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলা তদন্তকালে তা আমলে নেওয়া হবে। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ



ভয়াবহ যত  ট্রেন দুর্ঘটনা

ভয়াবহ যত  ট্রেন দুর্ঘটনা

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:৫৮



রাঙ্গাঁকে বহিষ্কার দাবি সংসদে

রাঙ্গাঁকে বহিষ্কার দাবি সংসদে

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:৫৬