খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২২ অগাস্ট ২০১৯ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

নগরীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে তারের জঞ্জাল, ঝুঁকিতে পথচারী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২৫ জুলাই, ২০১৯ ০০:১৭:০০

মহানগরীর মূল সড়ক বা গলিপথের ওপরের দিকে তাকালেই চোখে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে তারের জঞ্জালের স্তূপ। প্রতিনিয়ত ঘটছে এতে ওভারলোডিং, শর্ট সার্কিট ও আর্থিং। বাণিজ্যিক ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট ক্যাবল অপারেটরদের তারের ভারে বৈদ্য্িযতক খুঁটিগুলো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এছাড়া খুঁটিতে ঝুলছে নানান সব বিজ্ঞাপনীয় প্যানা-প্লাকার্ড। নগরবাসীর নিরাপত্তা হুমকির পাশাপাশি শহরের সৌন্দর্যহানি হচ্ছে এ জঞ্জালে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোতে তারের জঞ্জাল ঝুলছে। ডাকবাংলো, পিকচার প্যালেস, পিটিআই, টিবি বাউন্ডারি রোডের মোড়, মর্ডাণ ফার্নিচার মোড়, কবরখানা মোড়, রূপসা ট্রাফিক মোড়, এদিকে সাতরাস্তার মোড়, ময়লাপোতা মোড়, গল্লামারি মোড়, শিববাড়ী মোড়, নতুন রাস্তার মোড়, খালিশপুর, দৌলতপুরসহ পুরো নগর জুড়ে চিত্র একই। বিভিন্ন সময়ে এসব তার ছিঁড়ে মৃত্যুর ঝুঁকির সৃষ্টি হলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না। সেবা সংস্থাগুলোর দায়িত্বহীনতার কারণে নগরের ১৬ লক্ষাধিক মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। 
ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, অগ্নি দুর্ঘটনার ৭৫ শতাংশই বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের নানা ত্র“টির কারণে হয়ে থাকে। তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এসব তার সরানোর কোন উদ্যোগ নেই।
খুলনা শহরে কতগুলো বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে তারও পরিসংখ্যন নেই ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো)। খুলনা শহরের কেসিসি’র ৬৪০ দশমিক ৬৮ কিলোমিটারসহ কেডিএ’র সড়ক রয়েছে। 
ওজোপাডিকো’র নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোঃ আবু হাসান সময়ের খবরকে বলেন, “খুলনা শহরে কত পিলার আছে, তার সঠিক পরিসংখ্যন নেই। ক্যাবল অপারেটররা (গেল মাস থেকে) প্রতি মাসে বিল দিচ্ছে। এর আগে প্রতি বছর ৬ হাজার টাকা দিয়ে রেজিস্ট্র্রেশন নবায়ন করতো। তারের স্তূপের কারণে অবশ্যই ঝুঁকি থাকে; তবে সে ঝুঁকি পাবলিকের নয়, ক্যাবল অপারেটরদের।” 
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তার ছিঁড়ে গেলে তখন জনসাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শহরের সঞ্চালন সংযোগের বৈদ্যুতিক আন্ডার লাইনের জন্যে সার্ভে চলছে।’ মাটির নিচে তার নেয়া হলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাগমারা মেইন রোডের বাসিন্দা মোঃ আল-আমিন জানান, বাগমারা মেইন রোডে চারতলার উপরে রড উঠানোর সময়ে রাজমিস্ত্রি বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া প্রায় ছোট-বড় ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
বড় বাজার ও রেলওয়ে মার্কেট মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, বৈদ্যুতিক তারের স্তূপের ভয়ে পথ চলতে হয় পথচারীদের।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, মাটির নিচে বিদ্যুতের তার নেয়া হলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কমে যাবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বর্ষায় তার ছিঁড়ে পড়ার ভয়ও থাকবে না। নান্দনিক শহর গড়ে তুলতে তারের জঞ্জাল সরানো জরুরি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ










সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

সংসদ বসছে  ৮ সেপ্টেম্বর

২২ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮