খুলনা | শনিবার | ২৪ অগাস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

এ কেমন বর্বরতা!

মণিরামপুরে সামান্য একটি লুঙ্গির জন্য পিটিয়ে পাগলীকে হত্যা

জাহিদ আহমেদ লিটন, যশোর  | প্রকাশিত ২৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:৩৬:০০

মণিরামপুরে সামান্য একটি লুঙ্গির জন্য পিটিয়ে পাগলীকে হত্যা

মানুষের জন্যই মানুষ। সংকটে, বিপদে মানুষই ছুটে এসে সাহায্য করবে এ প্রত্যাশা আমরা করতেই পারি। না হলে মানব-জন্ম অনেকটাই বৃথা। এই সমাজে বাঁচার অধিকার সবার আছে। হোক না সে ধনী, গরীব কিংবা প্রতিবন্ধী। আর সামান্য একটি লুঙ্গির জন্যে মারপিটে জীবন দিতে হলো মণিরামপুর উপজেলার কুয়াদা বাজারের অজ্ঞাত এক পাগলীকে। 
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই পাপলী কুয়াদা বাজার এলাকায় বেশ কয়েকদিন যাবত ঘোরাফেরা করছিল। গত বৃহস্পতিবার সকালে ভোজগাতি ইউনিয়নের মৃত মোমিন গাজীর ছেলে শহিদুল ইসলাম শহিদল্লাহর বাড়ি থেকে একটি লুঙ্গি গায়ে জড়িয়ে বাজারে আসে ওই পাগলী। ওইদিন বেলা ১১টায় কুয়াদা বাজারের বুলবুলের ওষুধের দোকানের সামনে ওই পাগলীকে ধরে এলোপাতাড়িভাবে লাথি, ঘুষিসহ মারপিট করে শহিদুল ইসলাম শহিদুল্লাহ ও সোহরাব নামে এক ব্যক্তি। 
সূত্র জানায়, লুঙ্গি গায়ে জড়িয়ে শুয়ে থাকা প্রতিবন্ধী নারীকে তল পেটে দফায় দফায় লাথি মেরে উলঙ্গ করে লুঙ্গি কেড়ে নিয়ে যায় শহিদুল। লাথির আঘাতে তার গোপনাঙ্গ থেকে রক্তপাত শুরু হয়। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই ওই পাগলীর মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় খবর দিলে পুলিশ বাজুয়াডাঙ্গার ৭ মাইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। মর্গে দু’দিন থাকার পর তার লাশের কোনো দাবিদার না থাকায় গত শনিবার আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম তাকে দাফন করে। 
তবে ওই পাগলীকে দাফন করা হলেও কুয়াদা বাজারে স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কেন না সবার সামনে এমন পিটিয়ে হত্যার পরও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আইন কি শুধু সুুস্থ মানুষের জন্য এ প্রশ্ন স্থানীয়দের। 
কুয়াদা বাজারের ব্যবসায়ী আনিচুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি জানতে পারেন ওই পাগলী শহিদুল্লাহর বাড়ি থেকে একটি লুঙ্গি নিয়ে এসেছে তাই শহিদুল তাকে মারপিট করেছে। এই ঘটনার সঠিক বিচার হোক। ডহরসিংয়া গ্রামের মোটরসাইকেল চালক আহাদ আলী জানান, মানসিক প্রতিবন্ধী ওই নারী ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। সে অবস্থায় হঠাৎ করে তাকে লাথি মারে শহিদুল। প্রচন্ড এ আঘাতেই তিনি মারা যান।
কুয়াদা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক অহেদুজ্জামান বাচ্চু জানিয়েছেন, তিনি শুনেছেন গত বৃহস্পতিবার সকালে পাগলী এক নারীকে লুঙ্গি চুরির দায়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। আবার সেই নারীর লাশ পাওয়া গেছে শুক্রবার সকালে। আমরা চাই এ ঘটনার সঠিক তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
রামনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শাজাহান কবির বলেন, প্রতিবন্ধী নারীর এই ঘটনায় এলাকায় এখন শোকের মাতম চলছে। সকলের মুখে এখন একই কথা, একটি লুঙ্গির জন্যে এভাবে মারা ঠিক হয়নি।
ডহর সিংহের আহাদ, ভোজগাতি গ্রামের কামরুজ্জামান, তেলের দোকানী আনিচ, বাজুয়াডাঙ্গার হায়দার, কৃষক মান্নান, ইজিবাইক চালক মোশাররফ, চায়ের দোকানদার শ্যামল, ওষুধের দোকানদার বাবুল, বইয়ের দোকানদার আসাদুজ্জামানসহ অনেক প্রত্যক্ষদর্শী এই জঘন্যতম ঘটনার বিচার দাবি করেন।
লাশ উদ্ধারকারী কর্মকর্তা যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার এস আই কামাল হোসেন জানিয়েছেন, তিনি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন সদর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গার ৭ মাইলে একজন অজ্ঞাত মহিলার লাশ পড়ে আছে। তিনি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে মর্গে প্রেরণ করেন। স্থানীয়রা নানা অভিযোগ করেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ











পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮



ব্রেকিং নিউজ












পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮