খুলনা | রবিবার | ১৮ অগাস্ট ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

প্লাটিনাম জুট মিলের চারটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা জীবনের ঝুঁকিতে শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা

মোহাম্মদ মিলন  | প্রকাশিত ২২ জুলাই, ২০১৯ ০০:৩৮:০০

খালিশপুরে প্লাটিনাম জুট মিলের ৪টি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। শ্রমিক ভবনগুলোর বেহাল দশা। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ ও ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এসব ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে শ্রমিকরা। তবে দূর-দূরান্ত থেকে এখানে চাকুরি করতে আসা শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে বসবাস করছে। তারা বলছেন, নিয়মিত মজুরি পাওয়া যায় না। একই সাথে ব্যাচেলরদের বাহিরে কোথাও বাসা ভাড়া দিতে চায় না। ভবনগুলো মিল কর্তৃপক্ষ মেরামত বা নতুন করে করছে না। ফলে বাধ্য হয়েই এখানে ঝুঁকি নিয়ে থাকতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থসংকটের কারণে মিলগুলোর সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। 
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পরিত্যাক্ত ভবনের সিড়ি ভাঙ্গা। আবার কোন কোন ভবনে উঠতে বাঁশের মই ব্যবহার করছে শ্রমিকরা। বসবাসের অযোগ্য এ ভবনগুলোর দেওয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ছে। এমনকি বারান্দাও ধ্বসে পড়েছে। জানালার গ্রিল-কাঠ নেই। ঘরের দেওয়ালে ফাটল, ভেতরে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ। এমন পরিবেশের মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে শ্রমিকরা। ভবনগুলোর ভয়াবহ অবস্থা হলেও আবাসন সমস্যার কারণে ঝুঁকি নিয়েই তাদের থাকতে হচ্ছে। শুধু মাত্র পরিত্যাক্ত এ ভবনগুলোই নয়, যে ভবনগুলো পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়নি সেগুলোরও অবস্থা নাজুক। যে কোন সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকির মধ্যেই শ্রমিকদের পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকতে হচ্ছে।   
মিলের ব্যাচিং বিভাগের শ্রমিক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ৭নং লাইনের ১১ নম্বর রুমে থাকি। এটি পরিত্যক্ত হওয়ার পরও আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে থাকতে হচ্ছে। এখানে থাকা অনেক কষ্টকর হলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থাকছি। তার ভবনে এক-দেড়শ’ শ্রমিক বসবাস করে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, নিয়মিত মজুরি নেই। আর্থিক সংকটের মধ্যেও পরিবারকে টাকা পাঠাতে হয়। বাহিরে ভাড়া থাকতে গেলে অনেক টাকার প্রয়োজন। যা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আবার ব্যাচেলর শ্রমিকদের কলোনীর বাহিরে কেউ বাসা ভাড়া দিতে চায় না।   
মিলের শ্রমিক কলোনীর  মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, মিলে নিয়মিত মজুরী দেওয়া হচ্ছে না। ফলে আর্থিক অস্বচ্ছলতা এবং বাসা ভাড়া না পাওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে পরিত্যাক্ত ভবনে থাকতে হচ্ছে। এছাড়া মিলের শ্রমিকদের চাহিদার চেয়ে বাস স্থান কম থাকায় জীবনের ঝুঁকি থাকলেও কোন রকম জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। আবার বাহিরে বাড়ি ভাড়া করে থাকতে গেলে বর্তমান উর্দ্ধগতির বাজারে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, বৃষ্টি হলে ছাদ চুয়ে তিন চারদিন পর্যন্ত পানি পড়ে। অনেক সময় পলেস্তরা ভেঙে পড়ে। তারপরও ঝুঁকি নিয়েই থাকতে হয়।মিলের সাবেক সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, মিলের শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা রয়েছে। সেই সাথে ব্যাচেলর শ্রমিকেরা কলোনীর বাহিরে বাসা ভাড়া চাইলে বাড়িওয়ালারা দিতে চায় না। আর যদিও দেয় তাহলে ভাড়া দিয়ে পুশিয়ে উঠতে পারেনা শ্রমিকেরা। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই কলোনীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থাকতে হয়। মিল কর্তৃপক্ষ বেশকিছু ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও শ্রমিকদের বসবাসের জন্য এখনো পর্যন্ত নতুন করে আবাসন গড়ে তোলার কোন ব্যবস্থা নেয়নি। শ্রমিকদের বসবাসের জন্য দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি। 
মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন বলেন, ২০১২ সালে সিবিএ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর ১০ নম্বর ব্যাচেলর ভবন ভেঙে নতুন করে একতলা টিনসেট একটি ভবন করে দেয়া হয়। বাকী ৩/৪টি ভবন সম্পূর্ণ পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেছে মিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে শ্রমিকরা এসব ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করছেন। শুধু এই ভবনগুলোই নয়, অন্যান্য ভবনগুলোরও একই দশা। সম্প্রতি জুনিয়ার অফিসার্স কোয়াটারের একটি তিন তলা ভবনের বিকট শব্দ নিয়ে সিড়ি ভেঙে পড়ে। এতে অবশ্য কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ভবনগুলো দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। 
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবনগুলো পরিত্যাক্ত ঘোষণা করার পরও শ্রমিকরা অগোচরে বসবাস করছে। আর অর্থ সংকটের কারণে ভবনগুলো সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। 
মিলের প্রকল্প প্রধান মঈনুল করীম বলেন, পরিত্যক্ত ভবনে শ্রমিকরা যাতে না থাকতে পারে সেজন্য বার বার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়ে এখানে বসবাস করছে। এছাড়া মিলে আর্থিক সংকটের কারণে অন্য ভবনগুলোর সংস্কার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।   


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







শ্রীশ্রী মনসা পূজা আজ

শ্রীশ্রী মনসা পূজা আজ

১৮ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৩৮







ব্রেকিং নিউজ







শ্রীশ্রী মনসা পূজা আজ

শ্রীশ্রী মনসা পূজা আজ

১৮ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৩৮