খুলনা | বুধবার | ২১ অগাস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

দাকোপে ৯ম শ্রেণীর ছাত্রীকে অপহরণের পর নিষিদ্ধ পল্লীতে আটকে রাখার অভিযোগ

সোহাগ দেওয়ান | প্রকাশিত ১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:৩০:০০

খুলনার দাকোপ উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রীকে অপহরণের পর বানিশান্তা পতিতা পল্লীতে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৫ দিন আগে অপহরণ হওয়া কিশোরী কন্যাকে খোঁজাখুঁজি করে অবশেষে পতিতা পল্লীতে তাকে আটকে রাখার কথা জানতে পারে পরিবারের সদস্যরা। মেয়েকে ফিরে পেতে নিষিদ্ধ ওই পল্লীতে ছুটে গিয়েও কোন লাভ হয়নি দিনমজুর মা মনজিলা বেগমের। এ বিষয়ে লোক জানাজানি করলে কিশোরী মেয়েকে মেরে পশুর নদীতে ভাসিয়ে দেবে বলেও হুমকী দেয় নিষিদ্ধ পল্লীর সন্ত্রাসীরা। বিধবা এই নারী কিশোরী কন্যাকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয়ভাবে কোন সহায়তা না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। বর্তমানে ওই স্কুলছাত্রীকে বানিশান্তা পতিতা পল্লীর সর্দারাণী লুৎফি বেগমের বাড়িতে রাখা হয়েছে বলে মনজিলা বেগম জানিয়েছেন। 
এ ঘটনায় গতকাল বুধবার খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ১নং ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন ও স্কুলছাত্রীর মা মনজিলা বেগম। ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলমাস হোসেন মৃধা বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে এজাহার হিসেবে রুজু করতে দাকোপ থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। গত ১২ জুলাই রাতে মনজিলা বেগমের কিশারী কন্যা (৯ম শ্রেণীর ছাত্রী) কে অপহরণ করে নিয়ে পাচারকারী চক্র। দাকোপ উপজেলার আমতলা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার মৃত আলমগীর ঢালীর স্ত্রী মনজিলা দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান।
আদালতে দায়েরকৃত মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, ওই স্কুলছাত্রী স্কুলে যাওয়া-আসার পথে হৃদয় হাওলাদার (১৯) নামের এক যুবক নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতো। তাছাড়া বিভিন্ন সময় ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিতো। এলাকায় একটু অসহায় ও গরীব প্রকৃতির মানুষ হওয়ায় তারা কোন প্রতিবাদ করতে পারেননি। অবশেষে গত ১২ জুলাই রাতে ঘরের বেড়া কেটে ওই স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় পতিতা পল্লীর সর্দারাণী লুৎফি বেগমের ছেলে হৃদয় হাওলাদার (১৯) ও তার সহযোগী আরিফ (২৮) নামের এক যুবক মিলে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করেছে। এরপর তারা ছাত্রীটিকে নিষিদ্ধ ওই পল্লীতে আটকে রেখেছে। 
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী এড. মোমিনুল ইসলাম বলেন, আদালত বাদীর আরজি আমলে নিয়ে দাকোপ থানাকে মামলা রুজুপূর্বক ভিকটিমকে দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন। 
এ বিষয়ে দাকোপ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, আমরা এখনো পর্যন্ত আদালতের আদেশের কপি হাতে পায়নি। ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ