খুলনা | বুধবার | ২১ অগাস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

বিরতিহীন বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের চাকা ঘুরেছে 

আগামীতে দেশে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালু করা হবে : ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী

যশোর ও বেনাপোল প্রতিনিধি | প্রকাশিত ১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:২৯:০০

আগামীতে আমাদের দেশে রেল যোগাযোগ খাতে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় বেনাপোল এক্সপ্রেসের উদ্বোধন ও বনলতা এক্সপ্রেসের রুট বাড়ানোর ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আশা প্রকাশ করেন। এদিন ভিডিও কনফারেন্সে ট্রেন দু’টোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে বেনাপোলের একজন শিক্ষার্থী ও একজন সুবিধাভোগীর সাখে সরাসরি কথা বলেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর সোয়া ১টায় ট্রেনটি বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
বেনাপোল এক্সপ্রেসের উদ্বোধন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-বেনাপোল রুট অনেক লম্বা। ঢাকা, টঙ্গি, টাঙ্গাইল, বঙ্গবন্ধু সেতু, সিরাজগঞ্জ, ঈশ্বরদী, পাবনা, ভেড়ামারা, পোড়াদহ, দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ হয়ে যশোর যেতে হয়। ট্রেনে যেতে হয় ৩৭০ কিলোমিটার। আমরা পদ্মা ব্রিজ করছি। পদ্মা ব্রিজে রেলসেতু দিচ্ছি। পদ্মাসেতুর মাধ্যমে ফরিদপুরের ভাঙ্গাকে ফরিদপুর হয়ে যশোরের সঙ্গে লিঙ্ক করে দেব। এতে যাত্রাপথের দূরত্ব কমে যাবে, সময়ও কমে যাবে।
শেখ হাসিনা বলেন, রাজশাহীবাসীর অনেকদিন দাবি ছিল, ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে দেওয়া। আমরা সেটি করে দিচ্ছি। এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক আমাদের রেল লাইনকে নতুন জীবন দানে সহায়তা করেছে। পুরনো ব্রিজগুলো নতুন করা দরকার। পাশাপাশি উপযুক্ত লোকবল আমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। 
এদিকে ট্রেনটি উদ্বোধন উপলক্ষে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। প্ল্যাটফর্মের ওপরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। হরেক রকম ফুল দিয়ে গোটা ট্রেনটি সাজানো হয়েছে নান্দনিক সাজে। এ উপলক্ষে গোটা বেনাপোলে সাজ সাজ রব পড়ে। মানুষের মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ। বেনাপোল স্টেশন ছিল এ উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু।
বেনাপোলে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ গ্রহণ করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক শামসুজ্জামান, যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন ও সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অবঃ) ডাঃ নাসির উদ্দিন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে বেনাপোল থেকে ঢাকা পর্যন্ত শোভন চেয়ারে টিকিটের মূল্য ৪৮৫ টাকা, এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) চেয়ার ৯৩২ টাকা, এসি সিট কেবিন ১ হাজার ১১৬ টাকা ও এসি কেবিন ১ হাজার ৬৭৪ টাকা। বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন ও যশোর রেলওয়ে জংশন থেকে টিকিট বিক্রি হয়েছে।
বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার সাইদুজ্জামান বলেন, বুধবার সকালে প্রথম পাঁচ ঘণ্টায় এই স্টেশন থেকে শোভন চেয়ারের ১৪টি ও এসি চেয়ারের ১৮টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এছাড়া অনলাইনে এই ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাবে ২২ জুলাই থেকে।
ট্রেনে যাত্রীদের জন্য দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা থাকছে। রেলওয়ে থেকে যাত্রীদের সেবার জন্য রেলওয়ে ক্যাটারিং সার্ভিস নামে নতুন একটি সেবা চালু করা হয়েছে। সুলভ মূল্যে ট্রেনের ভেতরে ভালো মানের খাবার সরবরাহ করা হবে। প্রথম দিন থেকেই এ সেবা চালু থাকছে। এটি কারও জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কেউ ইচ্ছা করলে না নিতেও পারেন। পর্যটন করর্পোরেশন থেকে এই খাবার এনে ট্রেনের ভেতরে সরবরাহ করা হবে। ৮৯৬টি আসনের এই ট্রেন প্রতিদিন বেলা সোয়া একটায় যশোরের বেনাপোল রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যাবে। যশোর রেলওয়ে জংশনে পৌঁছে ১৫ মিনিটের বিরতি নেবে। সেখানে যাত্রী ওঠানোর পাশাপাশি রেলের ইঞ্জিন ঢাকামুখী ঘোরানো হবে। এরপর ঈশ্বরদী গিয়ে ট্রেনের চালকসহ অন্যান্য কর্মী বদলের জন্য আরও ১৫ মিনিটের বিরতি থাকবে। পরে ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে শেষ গন্তব্যে ছেড়ে যাবে। তবে তার আগে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রী নামানোর জন্য কিছুক্ষণ ট্রেনটি থামানো হবে।
দেশের বৃহত্তর স্থলবন্দর বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন ১০/১২ হাজার পাসপোর্ট যাত্রী ভারতে যাতায়াত করে থাকে। বেনাপোল থেকে ঢাকায় আসা আধুনিক এই ট্রেনের বগি ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। এ ট্রেনে বিমানের মতো বায়ো-টয়লেট সুবিধা রয়েছে। আসনগুলোও আধুনিক। প্রতিদিন রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকা থেকে ট্রেনটি বেনাপোলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে।
বর্তমানে যশোর থেকে ঢাকায় যে ট্রেন সেবা চালু রয়েছে, সেটি ১৪টি স্থানে বিরতি নেয়। এতে যশোর থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। সেখানে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি সময় নেবে ৭ ঘণ্টা। আর যশোর থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে বেনাপোলে পৌঁছে যাবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ