খুলনা | শনিবার | ২৪ অগাস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

কালীগঞ্জের ডক্টরস্ প্রাইভেট হাসপাতাল

জীবিত নবজাতককে কাটুনে প্যাকিং করে পরিবারের নিকট হস্তান্তর, চিকিৎসা না পেয়ে ১৬ ঘন্টা পর মৃত্যু

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি | প্রকাশিত ১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:২৬:০০

জীবিত নবজাতককে কাটুনে প্যাকিং করে পরিবারের নিকট হস্তান্তর, চিকিৎসা না পেয়ে ১৬ ঘন্টা পর মৃত্যু

কোথায় আজ মনুষ্যত্ব কোথায় আজ মানবতা? সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটির ও আছে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার অধিকার হতে পারে সে জন্ম থেকে অসুস্থ।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ডক্টরস্ প্রাইভেট হাসপাতালে জীবিত নবজাতককে কাটুনে প্যাকিং করে পরিবারের নিকট হস্তান্তর অতঃপর চিকিৎসা না পেয়ে ১৬ ঘন্টা পর শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপারেশন থিয়েটারের ভিতর থেকেই ওষুধের কাটুনে জীবিত নবজাতকে প্যাকিং করে পরিবারের কাছে তুলে দেয়। 
জানা গেছে, গত সোমবার প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে কালীগঞ্জ মেইন বাসস্ট্যান্ডের ডক্টরস্ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হন দামোদরপুর গ্রামের প্রবাসী আঃ কাদেরের গর্ভবতী স্ত্রী হেপি আক্তার। পূর্ব থেকেই হ্যাপির গর্ভের শিশুটি ছিল অসুস্থ এবং উক্ত হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে অপারেশনে পর পৃথিবীতে আসে বিকলঙ্গ শিশুটি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটি বিকলঙ্গ অবস্থায় জন্ম গ্রহণ করেছে এবং বাঁচবে না বলে কাপড়ে জড়িয়ে ওষুধের কাটুনে প্যাকিং করে স্বজনদের কাছে তুলে দেয় এবং বাড়ি নিয়ে যেতে বলে। তবে রোগীর পরিবার নবজাতককে মৃত ভেবে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর বাচ্চাটির হঠাৎ কান্নার শব্দ সবাইকে হতবাক করে। গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বাচ্চাটি বেঁচে ছিল। 
নবজাতকের পিতা কাদের বিদেশ থেকে মুঠোফোনে সময়ের খবরকে বলেন, আমার মেয়ে অসুস্থ অবস্থায় জন্মেছে। তবে তাকে চিকিৎসা না করে কেন কাটুনে ভরে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হল? মারা গেলে ক্লিনিকেই যেত। আমার স্ত্রীর পেটে বাচ্চা আসা থেকে শেষ পর্যন্ত ডাক্তার কামরুন্নাহারের তত্ত্বাবধানে ছিল। তারা আমার স্ত্রীর ৩/৪ বার আল্ট্রাসনো করেছে। তারা তো বুঝতে পেরেছে গর্ভের সন্তান বিকলঙ্গ। তাহলে তারা আমাদেরকে অন্য জায়গায় রোগী নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারতো। তা না করে ডাক্তার কামরুন্নাহারকে দিয়ে কেন অপারেশন করালো। আর সিজারই যখন করতে হবে তার আগে কেন আমার স্ত্রীকে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টার নামে টানা হেচড়া করা হলো? আমি আপনাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ডাক্তার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী ডাঃ আবু বকর সিদ্দিক জানান, শিশুটি এনানসিফেলিতে আক্রান্ত ছিল এর বেশি কিছু বলতে পারব না। আপনাদেরকে কেন জানাতে হবে সব কথা? এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সাথে অশোভন আচরণ করেন। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাঃ সেলিনা বেগম জানান, আমি নতুন এসেছি, বিষয়টি তদন্ত করে দেখব এবং আইনগত ব্যবস্থা অবশ্যই গ্রহণ করব।
উল্লেখ্য, বিগত ২০১২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ডক্টরস প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে চুরি হয়েছিল এক নবজাতক। অভিযোগ পেয়ে একটি নবজাতক উদ্ধার করে চুরি যাওয়া সন্তানের মায়ের কোলে তুলে দেয় পুলিশ। কিন্তু উদ্ধার করা নবজাতক নিয়ে দেখা দিয়েছিল বিতর্ক। তাকে নিজের সন্তান বলে দাবি করছিলেন দুই মা। ওই সময় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁদের দু’জনের দু’টি ছেলে সন্তান হয়। এর মধ্যে এক মা কালীগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের দুবাই প্রবাসী বিপুল বিশ্বাসের স্ত্রী ক্ষমা রাণী ও আরেক মা রোজিনা খাতুন মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী। বাচ্চা চুরির মতো ঘটনা ঘটেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারনে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ











পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮



ব্রেকিং নিউজ












পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮