খুলনা | শনিবার | ২৪ অগাস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ |

বজ্রপাতে মৃত্যুতে উৎকণ্ঠা আছে উদ্যোগ নেই!

১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০

বজ্রপাতে মৃত্যুতে উৎকণ্ঠা আছে উদ্যোগ নেই!


বজ্রপাতে বিশ্বে প্রতিবছর যত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, তার প্রায় অর্ধেক ঘটছে বাংলাদেশে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের এমন তথ্য আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। মৃত্যুর কাফেলায় থাকছেন দীনমজুর, ক্ষেতমজুর, এক কথায় জীবন-জীবিকার তাগিদে যারা খোলা আকাশের নীচে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য চাহিদা মেটাতে মাঠে ময়দানে নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন সেই হতভাগা কৃষক। 
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রাকৃতিক চক্রের কারণেই বজ্রসহ ঝড়-বৃষ্টিপাত এবং বজ্র্রপাতে অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু আমাদের দেশে নতুন নয়। উষ্ণ বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসা ‘নতুন’ মেঘ যখন বঙ্গীয় ব-দ্বীপে এসে হিমালয়ের হিমেল বাতাসের সঙ্গে ঘর্ষণের শিকার হয়, তখন প্রাকৃতিক কারণেই বজ্রপাত হতে পারে। আষাঢ়-শ্রাবণের ঘনঘোর বর্ষায় ক্রমেই প্রশমিত হয় বাতাস ও মেঘের ঝগড়া। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বজ্রপাতের হার আষাঢ় মাসেও কমছে না, বরং বেড়ে চলছে। গত শনিবারও আষাঢ় মাস যখন শেষ হয়ে যাচ্ছে, মাত্র একদিনে দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু শনিবার বা চলতি মাসে নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে দেখছি আমরা। 
বজ্রপাত নিয়ে গবেষণাকারী একটি সংস্থার হিসাবে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের গত দুই মাসে দেশে ১২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। যে সংখ্যা সংবাদ মাধ্যমের আলোয় এসেছে, তাতেই বাংলাদেশ বজ্রপাতে মৃত্যুর ‘ডেড জোন’ হিসেবে আখ্যা পাওয়া অত্যুক্তি হতে পারে না। প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে হঠাৎ আকাশ থেকে ধেয়ে আসা প্রাকৃতিক ঘাতকের প্রাণ কেড়ে নেওয়া কতটা ‘প্রাকৃতিক’? এর কারণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আমরাও একমত যে, একদিকে বড় বড় গাছের সংখ্যা কমে যাওয়া, অন্যদিকে মোবাইল ফোনসহ যান্ত্রিক ব্যবহার বৃদ্ধি মানুষকে বজ্রপাতের নিশানা করে তুলছে। একই সঙ্গে বায়ুদূষণ বেড়ে যাওয়াও যে দায়ী, সংবাদ মাধ্যমগুলো আগেও এই ধরনের সম্পাদকীতে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। গ্লোবাল ক্লাইমেট মডেলিং বিশ্নেষণ করেও একই ধারণা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বজ্রপাত গবেষক। বস্তুত এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত যে, বায়ুমন্ডলে ধাতব উপাদান বেড়ে গেলে তা বজ্রপাতের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। আমরা দেখছি, গত কয়েক বছর ধরে বায়ুদূষণ সম্পর্কিত সূচকগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম দিকে থাকছে। তবে বজ্রপাতের মাত্রা বৃদ্ধির কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও গবেষণা সমীক্ষার বিকল্প নেই।
এটা ঠিক, বিলম্বে হলেও বজ্রপাত সরকারি পর্যায়ে দুর্যোগ হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে। ২০১৬ সালে এটাকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু উৎকণ্ঠা যতখানি, তা নিরসনে উদ্যোগ ততখানি চোখে পড়ছে না। আমরা গভীর হতাশার সঙ্গে দেখছি, বজ্রপাতের আগাম সতর্কবার্তা দিতে ৬৮ কোটি টাকা ব্যয় করে কেনা লাইটেনিং সেন্সর কোনো কাজে আসছে না। নিছক ‘কারিগরি জনবল’ না থাকার কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রযুক্তির এমন পরিণতি কাম্য হতে পারে না। বাংলা প্রবাদে নিধিরামের ঢাল-তলোয়ার না থাকার কথা রয়েছে। এখানে দেখা যাচ্ছে, ঢাল-তলোয়ার আছে, নিধিরাম নেই! দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় দেশে ১০ লাখ তালগাছ লাগানোর যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল, তারইবা অগ্রগতি কী?
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০


মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

১০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০


ব্রেকিং নিউজ












পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮