খুলনা | শনিবার | ২৪ অগাস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ফের ঝিমিয়ে পড়েছে কেসিসি’র সীমানা বৃদ্ধির কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:৪৮:০০


ফের ঝিমিয়ে পড়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)’র সীমানা বৃদ্ধি সংক্রান্ত কার্যক্রম। এর আগে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মতামতসহ প্রস্তাব আকারে প্রেরণের অনুরোধ জানায় স্থানীয় সরকার বিভাগ। তা এখনও পাঠানো সম্ভব হয়নি। ফলে সব কিছু মিলে এ প্রস্তাবের চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
কর্পোরেশনের সাথে সংশ্লি¬ষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর কেসিসি’র তৃতীয় সাধারণ সভা ও ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ সাধারণ সভায় শহরতলীর ২৬টি মৌজা কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ওই সভায় উল্লেখ করা হয়, শহরতলীর এসব মৌজায় কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুকুল পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়েছে। তাই সর্বাধিক নাগরিক সুবিধাদি প্রদানের লক্ষে প্রস্তাবিত এলাকা কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা এবং সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত ২০১৪ সালের ৮ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ওই একই বছর ২৬ নভেম্বর প্রস্তাবিত স্থানসমূহে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মতামত চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ খুলনা জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠায়। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে ২৬টি প্রস্তাবিত মৌজার মধ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলার হরিণটানা, মাথাভাঙ্গা, ডুবি, খোলাবাড়িয়া, আলুতলা, ঠিকরাবাঁধ, কৃষ্ণনগর, আড়ংঘাটা, তেলিগাতী,  যোগীপোল, শিরোমনি, গিলাতলা, আটরা, শ্যামগঞ্জ, সাচিবুনিয়া (আংশিক), ডুমুরিয়া উপজেলার চক আসানখালি ও দেয়ানা এই ১৭টি মৌজা অন্তর্ভুক্তের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এরপর ২০১৬ সালের ৯ ফেব্র“য়ারি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে উপ-সচিব সরোজ কুমার নাথ সীমানা সম্প্রসারণের লক্ষে গণবিজ্ঞপ্তি জারী করার জন্য জেলা প্রশাসনকে দাপ্তরিক পত্র প্রেরণ করেন। যার প্রেক্ষিতে তৎকালীন জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান ১৭টি মৌজায় কেসিসি’র অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লি¬ষ্ট এলাকার অধিবাসীদের মতামত চেয়ে ওই বছর ৩০ এপ্রিল গণবিজ্ঞপ্তি জারী করেন। অধিবাসীদের মতামত ও সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকার স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণ করা হয়। এরপর সচিব কমিটির সভায় প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হলে চাহিত তথ্য না থাকায় সিদ্ধান্ত হয় অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। 
কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (অঃদঃ) স্বাক্ষরিত একটি চিঠি কর্পোরেশনে প্রেরণ করা হয়। ওই চিঠিতে খুলনা জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগ সন্নিহিত ১৭ টি মৌজায় (১৪টি সম্পূর্ণ ও ৩টি আংশিক) সীমানা বৃদ্ধির ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে চাহিত প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু আসন-১ ও আসন-৫ এর দুই সাংসদ এ ব্যাপারে চূড়ান্ত মতামত প্রদান না দেয়ায় তা পাঠানো সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, অধুনালুপ্ত খুলনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মনিরুল হুদা ‘খুলনা পৌরসভার ১শ’ বছর’ নামক প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, ১৮৮৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বাংলার লেফটেনেন্ট গভর্নর খুলনাকে মিউনিসিপ্যালিটি ঘোষণা করেন। ১৮৮৪ সালের ১ জুলাই কয়লাঘাট, হেলাতলা, বানিয়াখামার, টুটপাড়া, গোবরচাকা, শেখপাড়া, নূরনগর, শিববাড়ি, চারাবাটি, ছোট বয়রা ও বারিয়াপাড়া নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। তখন কর্পোরেশনের এলাকা ছিল ৪ দশমিক ৬৪ বর্গকিলোমিটার। রেভারেন্ট গগনচন্দ্র দত্ত প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালের মিউনিসিপ্যালিটি এ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও অর্ডিনেন্স অনুযায়ী এ মিউনিসিপ্যালিটির আয়তন ১৪ দশমিক ৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় সম্প্রসারণ করা হয়। তখন ১৪টি ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়। ১৯৬২ সালে রায়েরমহল, বয়রা, গোয়ালপাড়া, দৌলতপুর, মহেশ্বরপাশা এলাকা মিউনিসিপ্যালিটির অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি নাম পরিবর্তন করে ‘খুলনা পৌরসভা’ নামকরণ করা হয়। ১৯৭৪ সালের ২০ ফেব্র“য়ারি ন্যাপ নেতা গাজী শহিদুল্ল¬াহ স্বাধীনতা উত্তরকালে খুলনা পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালের ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ পৌর কর্পোরেশন ঘোষণা করেন। ১৯৯০ সালের ৮ আগস্ট সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত হয়। কাজী আমিনুল হক মেয়র মনোনীত হন। তিনি খুলনার প্রথম মেয়র। ১৯৯২ সালে ইউনিয়ন বাতিল করে ৩১টি ওয়ার্ডে সম্প্রসারণ করা হয়। ২০১৩ সালের ১৫ জুন নির্বাচনে বিএনপি’র নগর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি মেয়র নির্বাচিত হন। সর্বশেষ গত বছর ১৫ মে নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক। কর্পোরেশনের এখনকার আয়তন ৪৫ দশমিক ৬৫ বর্গকিলোমিটার। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ











পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮



ব্রেকিং নিউজ












পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮