খুলনা | শনিবার | ২৪ অগাস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

রংপুরবাসীর ভালোবাসায় পল্লী নিবাসে  চিরশায়িত এরশাদ

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:৩৬:০০

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজ বাসভবন রংপুরের পল্লী নিবাসে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে পল্লী নিবাসে এরশাদকে দাফন করা হয়েছে। এ সময় সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিল। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এর আগে চার কিলোমিটার হেঁটে জাতীয় পার্টির সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের মরদেহ বহনকারী গাড়ি এরশাদের স্বপ্নের বাসভবন রংপুরের পল্লী নিবাসে নিয়ে যান দলীয় নেতা-কর্মীরা।
রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ তার মরদেহ বহনকারী গাড়ি নিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় পল্লী নিবাসে পৌঁছান। সেখানে মরদেহ পৌঁছানোর পর সেনাবাহিনীর পক্ষে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে মরদেহ দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
মঙ্গলবার বিকাল রংপুর জেলা শহরে এরশাদের বাড়ি পল্লীনিবাসের লিচুবাগানে বাবার কবরের পাশেই শায়িত করা হয় তাকে।
এ সময় ভাই জি এম কাদের, ছেলে শাদ এরশাদসহ আত্মীয়-স্বজন এবং জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁসহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের শেষ জানাজা ও দাফনে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজ্জামেল হক উপস্থিত ছিলেন।
গত রবিবার মারা যাওয়ার পর এরশাদকে বনানীতে সেনা কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল দলের পক্ষ থেকে। কিন্তু শুরু থেকেই রংপুরে দাফনের দাবি জানাচ্ছিলেন জাতীয় পার্টির জেলার নেতারা। মঙ্গলবার দুপুরে লাশ জানাজার জন্য রংপুরে নেওয়ার পর আগের সিদ্ধান্তে বাদ সাধেন তারা।
নাটকীয়তার পর দুপুরে রংপুর শহরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে এরশাদের কফিন আর ঢাকায় ফিরিয়ে না এনে নিয়ে যাওয়া হয় এরশাদের বাড়ি পল্লীনিবাসে।
জাতীয় পার্টির প্রেস উইং থেকে এক বিবৃতিতে তখন বলা হয়, রংপুরের গণমানুষের আবেগ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতাবোধে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে রংপুরেই দাফন করতে অনুমতি দিয়েছেন বেগম রওশন এরশাদ এমপি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবরের পাশে বেগম রওশন এরশাদের জন্য কবরের জন্য জায়গা রাখতেও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এরশাদের স্ত্রী রওশন জাতীয় পাটির জ্যেষ্ঠ কো চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন, সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতাও তিনি।
মঙ্গলবার সকালে জানাজার জন্য এরশাদের কফিন নিয়ে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে তার ভাই জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের সেনা কবরস্থানে দাফনের কথাই জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, উনার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বনানীতে সেনাবাহিনীর কবরস্থানেই তাকে সমাহিত করা হবে। এই কবরস্থান ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হলেও যে কোনো সময় যে কেউ সেখানে যেতে পারে।
ঢাকা সিএমএইচ থেকে এরশাদের কফিন নিয়ে বেলা পৌনে ১২টার দিকে রংপুর ক্যান্টনমেন্টে পৌঁছায় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার। ততক্ষণে রংপুর শহরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রংপুর জেলা পুলিশ।
এরশাদের কফিন দুপুরে ঈদগাহ মাঠে নেওয়ার পর জানাজার আগে বক্তৃতায় রংপুরের মেয়র ও জাতীয় পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা যুক্তি দেন, বনানীর সেনা কবরস্থানে এরশাদকে দাফন করা হলে পরে দলের সাধারণ নেতা-কর্মীরা সহজে সেখানে যেতে পারবেন না, শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন না।
এরশাদ নিজেই রংপুরে শায়িত হতে চেয়েছিলেন এমন দাবি করে সোমবারই পল্লী নিবাসের পাশে লিচুবাগারে কবর খুঁড়ে রাখেন রংপুরের নেতা-কর্মীরা। মেয়র মোস্তফা তাদের নেতাকে রংপুরে দাফন করার দাবি আবারও তুলে ধরেন।
এরপর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের বক্তব্য দিতে শুরু করলে মাঠে উপস্থিত হাজার হাজার নেতা-কর্মী হট্টগাল শুরু করেন। এরশাদকে রংপুরে দাফন করার দাবিতে তারা শ্লোগান দিতে থাকেন।
মিনিট বিশেক এই পরিস্থিতি চলার পর দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে জানাজা শুরু হয়। জানাজার পরপরই রংপুরের নেতা-কর্মীরা এরশাদের মরদেহবাহী গাড়ি ঘিরে ফেলেন এবং রংপুরে দাফনের দাবিতে শ্লোগান ধরেন।
এক পর্যায়ে মেয়র মোস্তফা ওই গাড়িতে উঠে পড়েন এবং বিকেল ৩টার দিকে এরশাদের মরদেহ নিয়ে ওই গাড়ি তার বাড়ি পল্লীনিবাসের দিকে রওনা হয়। 
এই পরিস্থিতিতে জি এম কাদের ও দলের মহাসচিব রাঙ্গাঁ দু’জনেই সিদ্ধান্ত বদলের কথা জানিয়ে বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের দাফন রংপুরেই হবে।
প্রায় একই সময় জাতীয় পার্টির প্রেস উইং থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, রংপুরের গণমানুষের ভালোবাসা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তাদের আবেগ ও অনুরাগেই রংপুরে পল্লীবন্ধুকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পর সেনাবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল পল্লী নিবাসের পাশে এরশাদের বাবার নামে গড়া মকবুল হোসেন জেনারেল এ্যান্ড ডায়াবেটিক হাসপাতাল সংলগ্ন লিচু বাগানে কবরের স্থানটি পরিদর্শন করেন।
দাফনের আগে সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান এরশাদকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সেনাবাহিনীর রংপুর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল নজরুল ইসলাম।
কুলখানি আজ : এরশাদের কুলখানি আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টির প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার বাদ আছর গুলশানের আজাদ মসজিদে কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে।
শোক বই : এরশাদের মৃত্যুর পর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় অফিস ও বনানীতে এরশাদের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শোক বই খুলেছিল জাতীয় পার্টি।  বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বনানীতে এসে শোকসন্তপ্ত নেতাদের পাশে দাঁড়ান বলে জানিয়েছে জাপা। 
মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বনানী অফিসে এসে তারা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন তুরস্ক, সুইডেন, মালদ্বীপ, ভ্যাটিক্যান সিটির রাষ্ট্রদূত। এছাড়াও মালয়েশিয়ার ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার, ওমানের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স, জাপানের চার্জ দ্যা অফেয়ার্স, রাশিয়ার প্রথম সচিব, থাইল্যান্ডের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স, আরব আমিরাত দূতাবাসের প্রতিনিধি, সৌদি আরব দূতাবাসের প্রতিনিধি, নেপাল দূতাবাসের প্রতিনিধি, নরওয়ে দূতাবাসের প্রতিনিধি, ফ্রান্স দূতাবাসের প্রতিনিধি বনানী অফিসে এসে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮