খুলনা | শনিবার | ২৪ অগাস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

৫ শিশুসহ নিহত ৬ : রেল ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

টানা বৃষ্টি ও পানির ঢলে প্লাবিত নতুন নতুন এলাকা

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:৩৪:০০

দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। টানা বৃষ্টির পাশাপাশি ভারত থেকে আসা পানির ঢলে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। কুড়িগ্রাম, জামালপুর ও নেত্রকোণায় বন্যায় ৫ শিশুসহ এখন পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রশাসন দুর্গতদের সহায়তায় উদ্যোগ নিলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল।
পাহাড়ি ঢল আর ভারি বর্ষণে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ভোগান্তি কমেনি। গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ১৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে, যা এ যাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাঁধ ভেঙে বন্যাকবলিত চার উপজেলার ২১৩ টি গ্রামের প্রায় ৩ লাখ মানুষ। পানি ঢুকেছে শহরের বিভিন্ন এলাকায়। কুড়িগ্রামের চাক্তাবাড়ি ব্রহ্মপুত্রের বাঁধ ভেঙে নতুন করে ১০ গ্রামে পানি ঢুকেছে। কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়কে যান চলাচল বন্ধ।
লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলায় পানির তোড়ে দিশেহারা দুই পাড়ের মানুষ। ত্রানের আপেক্ষায় শত শত মানুষ। নেত্রকোণায় নতুন করে প্লাবিত ৫ উপজেলার নিম্নাঞ্চল বন্ধ ২২৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পর্যাপ্ত ত্রান না পাওয়ার অভিযোগ স্থানীয় সংসদ সদস্যের।
উত্তরের বন্যার পানির চাপে জামালপুরে যমুনার পানি রেকর্ড ভেঙে আজ ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। পানিবন্দি জেলার দুই শতাধিক গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ। পানিতে পড়ে গতকাল ইসলামপুরে দুই শিশু এবং দেওয়ানগঞ্জে সোমবার মারা যায় ৪ শিশু। রেল লাইনে পানি ওঠায় বিঘিœত ট্রেন চলাচল।
মৌলভীবাজারে নদীর পানির চাপে ৬ জায়গায় বেড়ি বাধ ভেঙে ঢুকছে পানি। সিলেটে ১৩ উপজেলার ১২টিই এখন বন্যা আক্রান্ত। নগরীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিপর্যন্ত সুনামগঞ্জ, নতুন করে প্লাবিত বেশ কয়েকটি এলাকা। সবমিলে দুর্ভোগে ১১ উপজেলার ২৫ লাখ মানুষ। তলিয়ে আছে বিভিন্ন জায়গার অন্তত ৩০ কিলোমিটার সড়ক। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনে কাজ করেছে প্রশাসন।
এদিকে হবিগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ভেঙে ১২ গ্রাম প্লাবিত। তবে বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্টের কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 
বগুড়া : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে যমুনার পানি বেড়েই চলছে। এতে যমুনাবেষ্টিত বগুড়ার সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলার নতুন নতুন গ্রাম পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ছে। এসব উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ৯৮টি গ্রামের প্রায় ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ এখন পানিবন্দী। বন্যায় সারিয়াকান্দি উপজেলায় দুই শতাধিক জলাশয় তলিয়ে যাওয়ার কারণে প্রায় ৭৩ দশমিক ৯৭ মেট্রিকটন মাছ ভেসে গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ টাকার। এছাড়া এসব উপজেলায় প্রায় ৮৬ হাজার ৩ হেক্টর জমির ফসলে ক্ষতি হয়েছে বন্যায় নিমজ্জিত হয়ে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় ৬১টির মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক জানান, যমুনা পয়েন্টে পানি বেড়ে বিপদসীমার ৯২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়া অব্যাহত হয়েছে। আপাতত কমার কোনো লক্ষণ নেই। তবে যমুনা নদীর ডান পাশ দিয়ে নির্মিত সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ এখনও ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। কিন্তু পানির চাপ ক্রমেই বাড়ছে। তাই পাউবোর পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যোগ করেন পাউবোর এই কর্মকর্তা।
জামালপুর : যুমনা নদীর পানি বাড়া অব্যাহত থাকায় জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলা কার্যত পানির নিচে। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকার সঙ্গে দেওয়ানগঞ্জের রেল যোগাযোগ। এর আগে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে পানি ওঠায় সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত বন্যায় ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
১৯৫০, ১৯৯৮, ১৯৮৮, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের সব রের্কড ভেঙে (মঙ্গলবার দুপুর ২টায়) জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট এলাকায় বিপদসীমার ১৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনার পানি। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) আব্দুল মান্নান ।
সবশেষ তথ্য মতে (বিকেল ৪টা), বন্যার কারণে জেলার প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। দেওয়ানগঞ্জে রেল লাইনে পানি ওঠায় ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে। দুপুরে রেল লাইন পরিদর্শন শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান জামালপুর টাউন জংশন স্টেশনের মাস্টার মোঃ শাহাবুদ্দিন। তিনি আরও জানান, রেল লাইনে পানি ওঠায় দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত রেল চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বেশ কয়েকটি স্থানে রেল লাইনে ওপর দিয়ে ২ ফুট পর্যন্ত পানি উঠায় সাময়িকভাবে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক থাকবে।
নেত্রকোনা : জেলার সোমেশ্বরী ও ধনু নদীর পানি কমতে শুরু করলেও ৫টি উপজেলার ২ শতাধিক গ্রামের সাড়ে ১৮ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছেন। ত্রাণ পেলেও তা একেবারে অপ্রতুল বলে দাবি বন্যার্তদের।
রাঙ্গামাটি : জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও জনজীবন এখনও স্বাভাবিক হয়নি। অন্যদিকে টানা ১০দিন ধরে রাঙ্গামাটির সঙ্গে প্রতিবেশী জেলা খাগড়াছড়ি-বান্দরবানের বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
খাগড়াছড়ি : জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিভিন্ন খাল ও নদী ভাঙন। বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। নষ্ট হয়েছে হেক্টরের পর হেক্টর ফসলি জমি। সব হারিয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বান্দরবান : জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানিও কমতে শুরু করেছে। এসব এলাকার বাসিন্দারাও ঘরে ফিরছেন। কিন্তু কয়েকটি সংযোগ সড়ক বন্ধ থাকায় ভোগ্যপণ্যের দাম তিন থেকে চারগুণ বেড়েছে বলে দাবি বন্যার্তদের।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র : কুড়িগ্রাম-জামালপুর-গাইবান্ধার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ১১ জেলার ১৩টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভবনে এ কথা জানান বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া। 
তিনি বলেন, দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের বেশ কিছু অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আশা করছি আগামী এক-দুইদিনের ভেতরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় আসবে। তিনি বলেন, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮