খুলনা | শনিবার | ২৪ অগাস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

কর্তৃপক্ষের নির্দেশেও দখল পাননি ইজারাদার

দিঘলিয়ার ‘নগরঘাটা’ ফেরিঘাটের টোল আদায়ে বাধা প্রদানের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:৫১:০০

দিঘলিয়ার ‘নগরঘাটা’ ফেরিঘাটের টোল আদায়ে বাধা প্রদানের অভিযোগ


দিঘলিয়ার ‘নগরঘাটা’ ফেরিঘাটের টোল আদায়ে বাধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডারে ব্যর্থ হয়ে ঘাটের প্রাক্তণ ইজারাদার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা মোঃ ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলা চালিয়ে নতুন ইজারাদারের লোকজনকে মারধর করে ঘাট থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ‘মেসার্স হায়দার আলী মোড়ল’ নামক প্রতিষ্ঠানকে ঘাট বুঝিয়ে দিলেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে তিনি দখল নিতে পারছেন না। এমনকি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ফেরিতে কর্মরত ফেরি চালক, সুকানী ও খালাসীসহ সরকারি কর্মচারীরাও আতঙ্কে রয়েছে। 
এদিকে, হামলা ও বৈধ ইজারাদার হওয়া সত্ত্বেও ঘাটের দখল না পাওয়ার প্রতিকার চেয়ে বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, র‌্যাব, জেলা প্রশাসক, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বৈধ ইজারাদারের পক্ষ থেকে সোমবার লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে অবিলম্বে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ না হলে একদিকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও জীবনহানীর আশঙ্কা করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক শাস্তির আওতায় আনা এবং ঘাটে ফেরি চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরির দাবি জানানো হয়। 
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, খুলনা সড়ক বিভাগের আওতাধীন দিঘলিয়া-আড়–য়া-গাজীরহাট-তেরখাদা সড়কের ১ম কিলোমিটারে অবস্থিত ‘নগরঘাটা ফেরিঘাটের ২০১৯-২০২০, ২০২০-২০২১ ও ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের টোল আদায়ের জন্য ‘মেসার্স হায়দার আলী মোড়ল’ নামক প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১৪ জুলাই কার্যাদেশ পান। সে মোতাবেক অগ্রিম জামানত, ১ম কিস্তির টাকা, ভ্যাট ও আয়কর প্রদান পূর্বক ১৪ জুলাই কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি ঘাটের দায়িত্ব বুঝে নেন। নতুন ইজারাদারের লোকজন টোল আদায় শুরু করলে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দিঘলিয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা মোঃ ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে তহিদুল মোল্লা, সেলিম মেম্বর, মাজাহারুল ইসলাম পরাণ, মোঃ হাফিজ, মোঃ আকিদুলসহ ১০-১৫ জন সশস্র সন্ত্রাসী নতুন ইজারাদারের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে পথচারিসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যানবাহন চলাচলেও অচলাবস্থা তৈরি হয়। 
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সূত্র জানান, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ৩০ জুন তৎকালীন ইজারাদার মোল্লা মোঃ ফিরোজ হোসেনের কাছ থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ নগরঘাট ফেরিঘাটটি বুঝে নেয়। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তত্ত্বাবধায়নে ঘাটটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। বৈধ ইজারাদার মোঃ হায়দার আলী মোড়ল অভিযোগ করেন সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তিনি ঘাটের ইজারা প্রাপ্ত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ তাকে ঘাট বুঝিয়ে দিলে তিনি লোকজন নিয়োগ করে টোল আদায় শুরু করেন। কিন্তু পূর্বের ইজারাদারের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলার কারণে তার পক্ষে ঘাট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। অবিলম্বে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ না হলে একদিকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও জীবনহানির আশঙ্কার পাশাপাশি ঘাট পরিচালনা না করতে পারলে তিনি ব্যবসায়িকভাবে মারাত্মক লোকসানের সম্মুখীন হবেন বলেও উল্লেখ করেন। 
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী তাপসী দাশ এ প্রতিবেদককে বলেন, জোর পূর্বক সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পূর্বের ইজারাদার মোল্লা মোঃ ফিরোজ হোসেন ঘাটটি দখল করে রেখেছেন। যা বে আইনী। তাদের হামলার কারণে ফেরিতে কর্মরত সড়ক বিভাগের কর্মচারিরাও ভীতসন্তস্ত্র হয়ে পড়েছে। বিষয়টি পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় থানাকে অবহিত করা হয়েছে। এরপরও তারা নিবৃত্ত না হলে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। 
এ বিষয়ে পূর্বের ইজারাদার মোল্লা মোঃ ফিরোজ হোসেন বলেন, ঘাটের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। এ কারণে তিনি আদালতে মামলা করেন। এরপরও কর্তৃপক্ষ টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এছাড়া তিনি ৩০ জুন কর্তৃপক্ষকে ঘাট বুঝিয়ে দেননি। এমনকি নতুন ইজারাদারের কোন লোকজনের ওপর তিনি হামলাও করেননি। তবে, ঘাট দখলের জন্য ২৫-৩০ জন লোক আসলে তিনি তাদের চলে যেতে বলেন। আদালতের নির্দেশেই তিনি ঘাটের দখলে রয়েছেন বলেও দাবি করেন। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ











পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮



ব্রেকিং নিউজ












পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮