খুলনা | শনিবার | ২৪ অগাস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

মরদেহ রংপুরে আটকে দেয়ার ঘোষণা

তৃতীয় জানাজা শেষে হিমঘরে  এরশাদ : আজ দাফন

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:৪২:০০


বায়তুল মোকাররমে পল্লীবন্ধু হোসাইন মোহাম্মাদ এরশাদের ৩য় জানাজার সম্পন্ন হয়েছে। এরপর তার মরদেহ সিএমএইচের হিমঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ মঙ্গলবার সাবেক এই সামরিক শাসকের লাশ দাফন করার কথা রয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এরশাদের মরদেহের গাড়িটি বায়তুল মোকাররমে পৌঁছায়। এরপর আছরের নামাজ শেষ তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরশাদের তৃতীয় জানাজা পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মিজানুর রহমান। জানাজাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগ দেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
জানাজার আগে এরশাদের শাসনামলের সময় নেওয়া নানা কর্মকান্ড সংক্ষেপে তুলে ধরেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ। এ সময় জি এম কাদের বলেন, বর্ণাঢ্য ও ঘটনাবহুল জীবন ছিল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের। দেশ, জাতি, সমাজের জন্য তার অনেক অবদান রয়েছে৷ মানুষ ভুল, ত্র“টির ঊর্ধ্বে নয়। তার যদি কোনো ভুল ত্র“টি থেকে থাকে, তিনি যদি কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকেন, তাহলে তাকে মাফ করে দেবেন।
প্রসঙ্গত, রবিবার সকালে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এরশাদ। সেদিন বাদ জোহর ক্যান্টনমেন্ট জামে মসজিদে এরশাদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার মরদেহ সর্বসাধারণ ও নেতা-কর্মীদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কাকরাইলে জাতীয় পার্টির অফিসে নেওয়া হয়। তারপর সিএমএইচের হিমঘরে তাকে রাখা হয়। 
এর আগে বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় জানাজা সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংসদ ভবনের টানেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশগ্রহণ করেন। জানাজা পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদের মসজিদের ইমাম মাওলানা আবু রায়হান।
জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া স্পিকারের পক্ষে সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জানাজার আগে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ এরশাদের জীবনী পাঠ করেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমদ মরহুমের কর্মময় জীবনের কথা তুলে ধরেন। এরশাদের পরিবারের পক্ষে রওশন এরশাদ বক্তব্য রাখেন।
সংসদ ভবন থেকে এরশাদের মরদেহ নেওয়া হয় জাতীয় পার্টির কাকরাইল অফিসে। সেখানে দলের বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মী শেষ শ্রদ্ধা জানান তাদের প্রিয় নেতাকে।
এদিকে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারে করে এরশাদের মরদেহ রংপুরে নেওয়া হবে। রংপুর ঈদগাহ মাঠে বাদ জোহর তার চতুর্থ জানাজা হবে। এরপর বিকেলে মরদেহ ঢাকায় এনে সামরিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে। 
প্রসঙ্গত, রবিবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এরশাদ। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। 
অন্যদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফন যেকোনো মূল্যে রংপুরেই করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে উত্তরবঙ্গ জাতীয় পার্টি (রংপুর ও রাজশাহী)। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও মরদেহ রংপুর থেকে নিয়ে যেতে দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তারা।
রাজধানীর সামরিক কবরস্থানে সাবেক এই রাষ্ট্রপ্রধানের দাফনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার দুপুর ১২টায় রংপুরে অনুষ্ঠিত জাতীয় পার্টির উত্তরবঙ্গ প্রতিনিধি সভায় নেতৃবৃন্দ এ ঘোষণা দেন। নগরীর সেন্ট্রাল রোডের দলীয় কার্যালয়ে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি কার্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সভাপতিত্বে সভায় দুই বিভাগের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮