খুলনা | রবিবার | ১৮ অগাস্ট ২০১৯ | ৩ ভাদ্র ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

বন্যার কবলে বাংলাদেশ, ভারত ও  নেপাল ; বাড়ছে নিহতের সংখ্যা 

খবর ডেস্ক | প্রকাশিত ১৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:৪৩:০০


টানা মৌসুমী ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের ফলে সৃষ্ট বন্যা এবং ভূমিধসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। খবর বিবিসি, সিএনএন ও রয়টার্স।
গতকাল সোমবার নেপালের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছে, মৌসুমী বন্যার কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা ৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। কমপক্ষে ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন ও আহত হয়েছেন ৩৮ জন। এর মধ্যে শুক্রবার রাতেই মারা যান ১৫ জন। এদিকে কাঠমান্ডুর বিভিন্ন সড়কও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। দুর্গত এলাকা থেকে অনেককে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার থেকে টানা বৃষ্টিতে নেপালের বহু এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। এসব এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার ৪শ' মানুষকে উদ্ধার করেছে নেপাল পুলিশ। প্রায় ১০ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি সেতু ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের পূর্বাংশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কোসি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে, টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আকস্মিক বন্যায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ত্রাণ সংকটের কারণে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন পার করছেন এসব জেলার বন্যাকবলিত মানুষ। বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় বন্ধ রয়েছে পাঠদান কার্যক্রম। রাস্তায় পানি ওঠায় অনেক জেলা শহরের সঙ্গে উপজেলাগুলোর যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে। প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে।
এছাড়া ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে কক্সবাজারে ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কয়েক লাখ শরণার্থী। টানা বৃষ্টিপাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিবিরগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পানিবন্দী হয়ে পেড়েছে। এছাড়া পাহাড় কেটে তাদের আবাসস্থল তৈরি করায় সেখানে ভূমিধসে মৃত্যুর ঝুঁকিও রয়েছে। সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে এরই মধ্যে ক্যাম্প এলাকায় কয়েকজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কক্সবাজার, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান সিএনএনকে বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন নদী আছে। সেসব নদীর পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এসব জেলার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। 
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, চীন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 
এতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের ৩৩টি জেলার মধ্যে ২৮টি বন্যাকবলিত হয়েছে। এসব জেলার ১ হাজার ৮শ’ গ্রাম বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। বন্যায় এখন পর্যন্ত সেখানে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। আসামের পানি সম্পদমন্ত্রী কেশব মহান্ত জানান, রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে। 
এদিকে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য বিহারে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।  
বিহার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রত্যয় অমৃত বলেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৯ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিহারে প্রায় ৪৬ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। 
দেশটির আসাম রাজ্যের ৩৩টি জেলার মধ্যে ২৫টিই বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দুই হাজার গ্রামের মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র ও এর শাখাগুলোর পানি বাড়তে থাকায় প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এ অঞ্চলে আরো বেশ কিছুদিন ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আসামে ১০ জনসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসে ১৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। 
প্রতিবছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এমন বন্যার পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ঝড়, বন্যা ও ভূমিধসে এ অঞ্চলে এক হাজার দুইশ’র বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী বন্যায় তলিয়ে যায় ভারতের কেরালা রাজ্য।
এদিকে এই তিন দেশেই আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণ এশিয়ার এ অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বিবিসি লিখেছে, গত বছর এ অঞ্চলে ঝড় ও ভূমিধসে অন্তত ১২০০ মানুষের প্রাণ যায়। ভারতের কেরালা রাজ্য এক শতাব্দির মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বিষন্ন ঈদ 

অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বিষন্ন ঈদ 

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০৭







ব্রেকিং নিউজ







শ্রীশ্রী মনসা পূজা আজ

শ্রীশ্রী মনসা পূজা আজ

১৮ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৩৮