খুলনা | সোমবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১ পৌষ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

‘চার বছরে স্কুল ফিরে পেয়েছে হারানো ঐতিহ্য’ : ২০২০ সালে নারী শিক্ষার্থী ভর্তির সম্ভাবনা

নগরীর শতবর্ষী বি কে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউট জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি

বশির হোসেন   | প্রকাশিত ১৫ জুলাই, ২০১৯ ০২:১৬:০০


খুলনার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বি কে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউট। বিদ্যালয়ের চত্বরে ঢুকতেই নজর কাড়ে বিদ্যালয়ের ঝকঝকে পরিবেশ। নবনির্মিত নতুন গেট দিয়ে ঢুকতেই দেখা গেলে পতাকা দণ্ডে পতপত করে উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা। তিন পাশে প্রায় শতবর্ষী ভবনগুলো কালের সাক্ষী বহন করে চলেছে। বিদ্যালয় ভবনের বারান্দায় সাজানো হরেক রকম ফুলগাছের টব। ১৬টি সিসি ক্যামেরা দিয়ে পুরো স্কুল ভবনের নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। ক্লাসগুলোতে পরিপূর্ণ শিক্ষার্থী। নিজের সবটুকু উজার করে দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা। নগরীর বেনী বাবু রোডে শতবর্ষী এ বিদ্যালয়টি পরিবেশ ও কার্যক্রম সামনে এগিয়ে চলছে অত্যন্ত সুন্দরভাবে। 
অন্যদিকে ৫ তলা নতুন ভবনটি নির্মিত হলে ২০২০ সালে নারী শিক্ষার্থী ভর্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান।
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস : সেই ১৯০১ সালের কথা। পশ্চিম বঙ্গের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিচালিত হবার উদ্দেশ্যে খুলনায় দু’টি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। দৌলতপুরে হাজী মুহাম্মদ মুহসীন এবং নগরীর প্রাণ কেন্দ্রে বি কে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউট। ১৯১৪ সালেই স্কুলটি স্বতন্ত্রভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হয়ে তার পথ চলা শুরু করে। এ যাবত কালে ঐতিহ্যবাহী এ স্কুলটি উপহার দিয়েছে দেশের অনেক কৃতি সন্তান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ থেকে শুরু করে মন্ত্রী, খুলনার মেয়র, সংসদ সদস্যরা ছাত্রজীবনে এ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। সাবেক মন্ত্রী আমজাদ হোসেন, সংবিধান প্রণেতা এড. এনায়েত আলী, সফল ব্যবসায়ী এম এ সালাম, মোল্লা আব্দুল জব্বার এই স্কুলেরই সূর্য সন্তান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্কুলটি তার নিজস্ব গতিতে চললেও খুলনা মডেল বহুমুখি বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের ঘোষণার পর অনামিশার আঁধার নেমে আসে। জরাজীর্ণ ভবন আর অপ্রতুল ও সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ঐ বছরই দুই শতাধিক শিক্ষার্থী স্কুল ছেড়ে যায়। ঠিক তখন স্কুলটির দায়িত্বে আসেন খুলনা-২ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান। সভাপতি হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রজারার মোঃ আবুল হোসেনের স্থলভিষিক্ত হন তিনি। ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন করে শুরু হয় বদলে যাওয়ার ইতিহাস। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময় হতে আজ পর্যন্ত সভাপতির সঠিক দিক নির্দেশনা ও শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রমে এখন খুলনার একটি অনুকরণীয় স্কুলে পরিণত হয়েছে। ফিরে এসেছে হারানো ঐতিহ্য।
স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে এক বছর হলো যোগদান করেছে মোঃ মাহাবুবুর রহমান। তিনি বলেন, একটি স্কুলকে কিভাবে পরিশ্রমের মাধ্যমে মডেল স্কুলে পরিণত করা যায়, তা এখানে না এলে বোঝা যেতো না। তিনিসহ সকল শিক্ষক একবাক্যে উচ্চারণ করলো সভাপতি আলহাজ্ব মিজানুর রহমানের নাম। বললেন মিজান স্যার এই চার বছরে যে উন্নতি করেছেন, তা ফিরিস্তি বলে শেষ করা যাবে না। 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালের পর স্কুলে মেরামত বাবদ ৫ লক্ষ টাকার কাজ করে ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট। সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে শিক্ষার্থীদের দুইশ’টি বেঞ্চ, পানির সমস্যা দূর করার জন্য সাব মার্সিবল পাম্প ও শিক্ষার্থীদের জন্য ফিলটার ক্রয়, সিসি ক্যামেরা প্রতিস্থাপন, সাউন্ড সিস্টেম ক্রয়, বাথরুমে টাইলসসহ আধুনিকায়ন, শিক্ষক রুম শ্রেণীকক্ষ আধুনিকায়ন, কম্পিউটার ল্যাবে নতুন ২টি কম্পিউটার ক্রয়, বিজ্ঞান ল্যাবে আধুনিক সরঞ্জাম ক্রয়, ক্লাসগুলোতে মান্দাতা আমলের বোর্ড বাদ দিয়ে নতুন হোয়াইট বোর্ড সংযোজন, নতুন মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ক্রয়। কি হয়নি এই স্কুলে। 
দেখা যায় ২০১৬ সালের আগে যে শিক্ষার্থীরা চলে গিয়েছিল, তারা আবার ফিরে এসেছে। ১২০ জন শিক্ষার্থী থেকে বর্তমান সাড়ে চারশ’ শিক্ষার্থী এখানে যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্জন হিসাবে প্রত্যেকটি পাবলিক পরীক্ষায় শতভাগ পাস এখন নিয়মিত ব্যাপার। জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে স্কুলটি। নজর দিয়েছে বর্তমান সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদও। ঐতিহ্যবাহী এ স্কুলের বদলে যাওয়ার সাক্ষী হতে অবদান রাখছেন তারাও। এমপিওভুক্ত এ স্কুলে বর্তমানে ১৩ জন শিক্ষক রয়েছেন, যারা দিন-রাত স্কুলের উন্নয়নে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তবে এই স্কুলের সমসাময়িক সব স্কুলই জাতীয়করণ হয়েছে ইতোমধ্যে। সকল চাহিদা পূরণ করার মধ্য দিয়ে খুলনার প্রাচীনতম এ স্কুলটি জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি।
খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান বলেন, মাত্র ৪ বছর স্কুলের দায়িত্ব নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি স্কুল নিয়ে আমি প্রায় প্রতিদিন স্কুলের খোঁজ নিই। নিজে অভিভাবকদের সাথে কথা বলেছি। হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনেছি। স্কুলের গেট থেকে শুরু করে সিসি ক্যামেরা প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন করেছি যা এখন দৃশ্যমান। তিনি এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলটি জাতীয়করণের দাবি জানান।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ১ এপ্রিল

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ১ এপ্রিল

৩০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৩১










ব্রেকিং নিউজ


বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৩০







বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:২১



বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১৬