খুলনা | শনিবার | ২৪ অগাস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ |

ডেঙ্গু নিয়ে সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরী

১৫ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০

ডেঙ্গু নিয়ে সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরী

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনা অনেক ঘটনার ঘনঘটায় আমরা ভুলেই গেছি। ২০১৭ সালে রাজধানীর ধানমন্ডির গ্রিন রোডে এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ডেঙ্গুর বদলে ক্যানসারের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তখন ভুল চিকিৎসায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। গত সপ্তাহে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন চিকিৎসক মারা গেছেন। অর্থমন্ত্রী বাজেট ঘোষণার কয়েক দিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। সর্বশেষ টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সাংসদ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে তাঁকে এক বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে নিতে হয়। খোদ রাজধানীতে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারন করেছে। খুলনা মহানগরীতেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত বছরের চেয়ে এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপই বলা যায়। এবার জুন মাসে ঢাকার সরকারি হাসপাতাল গুলোতে গত তিন বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। গত জুন মাসে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭১৩। আগের তিন বছরে জুন মাসের রোগীর সংখ্যা সব সময় ৩০০ জনের কাছাকাছি ছিল। এটা শুধু ঢাকার সরকারি হাসপাতাল গুলোতে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিতে ভর্তি হওয়া রোগীর হিসাব। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক গুলোতে এবং বাসায় থেকে অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। 
চলতি বছরের শুরু থেকে খুলনা মহানগরীতে ডেঙ্গু জ্বর দেখা দিলেও জুন মাসের মাঝামাঝি এই সংখ্যা ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে বাসায় থাকা নারী ও কিশোরীর সংখ্যাও রয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ১ নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রতিদিন হাসপাতালে জ্বরে আক্রান্ত বহু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। ডেঙ্গু বাহক এডিশ মশার প্রজনন বেশি হওয়ার কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে ডেঙ্গু ভয়ঙ্কর রূপে আত্ম প্রকাশ করতে পারে। ফলে এই রোগ প্রতিরোধ কীভাবে সম্ভব, তা এখনই ভাবতে হবে। এ ক্ষেত্রে ডেঙ্গু বিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার বিকল্প নেই। 
বলার অপেক্ষা রাখে না, ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী হচ্ছে এডিস মশা। এই মশা সাধারণত দিনে কামড়ায়। সাধারণ মশার চেয়ে এই মশা আকারে বড় এবং ডোরা কাটা। এরা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। তাই কোথাও পানি জমে থাকতে দেয়া উচিত নয়। যেহেতু রোগটি মশাবাহিত তাই মশার বংশ বৃদ্ধি রোধ, নিধন ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সবার আগে। পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হতে হবে। সাধারণত এপ্রিল-জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে। 
আমরা মনে করি, ডেঙ্গুর ভয়াবহতা অনুধাবন করে এই রোগ প্রতিরোধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারেই বিবেচনা করা সঙ্গত। ফলে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে হলে মশক নিধনে  সিটি করপোরেশনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সিটি করপোরেশন কর্তব্য হওয়া দরকার মশা নিধন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা। ব্যক্তি সচেতন হলে মশা বাহিত রোগ হ্রাস পেতে পারে। মনে রাখা দরকার, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ব্যাপারে হেলাফেলা বা উদাসীনতা প্রত্যাশিত নয়।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০


মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

১০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০


ব্রেকিং নিউজ












পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮