খুলনা | শনিবার | ২৪ অগাস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ |

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি  জীববৈচিত্র রক্ষায়ও বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই

১৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি  জীববৈচিত্র রক্ষায়ও বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই

বৃক্ষ মানুষের পরম ও প্রকৃত বন্ধু। বৃক্ষ মানুষকে মহৎ করে তোলে, শুদ্ধতা অর্জনের জন্যও বৃক্ষমুখী হওয়ার বিকল্প নেই! দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিশু-কিশোরদের যদি বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে গড়ে তোলা যায় তাহলে সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন দেশ ভরে উঠবে সবুজে সবুজে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণের প্রতি উৎসাহিত করতে হবে।
এ ধরণীতে নিঃস্বার্থ, প্রকৃত ও উপকারী বন্ধু হলো বৃক্ষ। বৃক্ষের ছায়াতলেই গড়ে উঠেছিল মানবসভ্যতা। তাই বৃক্ষ ছাড়া মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। এক কথায় বৃক্ষ মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব রোধ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাসহ নৈসর্গিক শোভাবর্ধনে বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবেশের দূষণ রোধ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে গাছ সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখে থাকে। অথচ নগরায়ণ, অপরিকল্পিত উন্নয়ন আর যন্ত্র-প্রযুক্তির মোহে অযাচিতভাবে বৃক্ষনিধন করা হচ্ছে। উজাড় হচ্ছে বন। ফলে দেখা দিচ্ছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, বাড়ছে উষ্ণায়ন আর মানবসভ্যতা পড়ছে হুমকির মুখে। গত বছর বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উপলক্ষে মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ বীর শহিদের অমর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ৩০ লক্ষ গাছের চারা রোপণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ছিল সত্যিই প্রশংসনীয় ও দৃষ্টান্ত স্বরূপ। দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের মতো সামাজিক আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে সবার মাঝে। শুধু জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান বা বৃক্ষমেলার সময় নয়, নিজ নিজ উদ্যোগে প্রত্যেক সচেতন মানুষকে সময়-সুযোগ বুঝে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে। প্রত্যেক ব্যক্তিকে হতে হবে বৃক্ষপ্রেমী! বিশেষ বিশেষ দিনগুলোকে উপলক্ষ করে বৃক্ষরোপণ করলে সেটা ভালো কাজ দিবে। পরিবেশের দূষণ ও বিপর্যয়সহ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর একটি। উষ্ণায়ন বৃদ্ধির ফলে জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবে ভুগছে দেশ। ফলে নানাবিধ ক্ষতির সঙ্গে বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগও। বাংলাদেশকে ষড় ঋতুর দেশ বলা হলেও তিনটি ঋতুর বেশি অন্য কোনো ঋতু এখন আর দৃশ্যমান ও অনুভূত হয় না! এর থেকে পরিত্রাণ পেতে ভালো উপায় হচ্ছে বেশি বেশি করে গাছ লাগানো। যে কোনো উন্নয়ন কর্মকান্ডে পরিবেশকে গুরুত্ব দেয়া উচিত সবার আগে। কেননা, প্রাকৃতিক পরিবেশকে উপেক্ষা করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়! সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের কয়েক হাজার একর বনভূমি ইতোমধ্যে উজাড় হয়েছে। 
বাংলাদেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজনীয় বনভূমি বাংলাদেশে নেই! জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বন বিষয়ক এক প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশের মোট ভূখন্ডের প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ বনভূমি রয়েছে। যদিও সরকারি হিসেবে বনভূমির পরিমাণ প্রায় ১৭ শতাংশ বলা হয়ে থাকে
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০১৯’ এবং ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০১৯’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবেশ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে নতুন প্রকল্প গ্রহণকালে প্রাকৃতিক জলাধার সৃষ্টি ও তা সংরক্ষণ এবং অধিক হারে বৃক্ষরোপণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দেশের নাগরিকদের প্রত্যেককে কর্মস্থলে, বাসস্থানে বনজ, ফলদ ও ভেষজ গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সড়কের চারপাশে, নদী কিংবা খালের পাশে ও বিভিন্ন ফাঁকা জায়গায় গাছ লাগাতে হবে। পরিবেশের অবক্ষয় রোধে ও দারিদ্র বিমোচনে বৃক্ষরোপণ ব্যাপক সহায়ক। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিশু-কিশোরদের যদি বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে গড়ে তোলা যায় তাহলে সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন দেশ ভরে উঠবে সবুজে সবুজে। পাশাপাশি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণের প্রতি উৎসাহিত করতে হবে।
আমরা মনে করি, বৃক্ষরোপণে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি উদ্যোগী হতে হবে। কারও মুখাপেক্ষী না হয়ে সবুজ বাংলাদেশ গড়তে নিজেদেরই উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জীববৈচিত্র রক্ষায়ও বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০


মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

১০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০


ব্রেকিং নিউজ












পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮