খুলনা | সোমবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২ পৌষ ১৪২৬ |

ক্রিকেট নিয়ে কেন এই ভারত বিদ্বেষ?

১৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:৫৪:০০

‘বিশ্বকাপ চলাকালীন সময় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, শিশু নির্যাতনসহ বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে যেগুলো নিয়ে তরুণ সমাজ সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা আলোচনা করেনি, যতটা বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ভারতের হার নিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছে।’ ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে বাংলাদেশ-ভারতের ক্রিকেটীয় সম্পর্কই বদলে গেছে। সেই বিতর্কিত কোয়ার্টার ফাইনালের পর ভারতের সমর্থক উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে দেশে। যেমন, চলতি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ভারতের হারের পর বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে বাংলাদেশের সমর্থকদের। যা প্রকাশ পেয়েছে তাদের সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট, কমেন্ট ও শেয়ারে।
বিভিন্ন ওয়েবসাইটের খেলা বিষয়ক নিউজ ঘুরে দেখা যায় নানাজনের নানা মন্তব্য। যেমন বিবিসির পেইজে ভারতের সেমিফাইনালে হারের খবরের নিচে রুনেট বড়–য়া লিখেছেন, ‘অহঙ্কার পতনের মূল। প্রতিপক্ষকে সম্মান করাও খেলার অংশ, যা ভারত কখনো দেয়নি।’
আজিজা আইরিন লিখেছেন, ‘আমি খুব খুশি। নিউজিল্যান্ডকে অভিনন্দন। ভারতের দর্প ভেঙে চুরমার।’ আবু সালেহ লিখেছেন, ‘ভারতের প্রতি এদেশের মানুষের কতটা ঘৃণা সেটা তারা ক্রিকেট খেলায় পরাজিত হলে রাস্তাঘাট আর ফেসবুক দেখলে বোঝা যায়।’ এভাবেই ভারতীয় ক্রিকেট টিম এবং ক্রিকেটারদের মুন্ডুপাত করে স্ট্যাটাস, কমেন্টের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এই ভারত বিদ্বেষ কি শুধুই ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে? ভারতকে হারিয়ে নিউজিল্যান্ড ফাইনাল নিশ্চিত করার পর সামাজিক মাধ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশীদের ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। অনেকেই মনে করেন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সম্পর্ক অনেকটা অপরিবর্তিত থাকলেও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ভারত বিদ্বেষের ভিত্তি ক্রিকেটের পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনীতিও কিছুটা ভূমিকা রেখেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষক রাজীব নন্দী মনে করেন, ক্রিকেটের হার জিতে আনন্দ ও ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যেভাবে অতিরিক্ত আবেগতাড়িত হয়ে ওঠে, তা স্বাভাবিক। তার মতে, ‘আমার মনে হয় ২২ গজের খেলার মধ্যে রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ ও অসমাপ্ত প্রসঙ্গগুলো চলে আসা খুবই স্বাভাবিক।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, 'ভারত হারলে ভারতের কাশ্মীরের স্বাধীনতাপন্থী মানুষের মধ্যে এক ধরনের আনন্দ কাজ করে, আবার বাংলাদেশ যখন ইংল্যান্ডকে চট্টগ্রাম টেস্টে হারায় তখন চট্টগ্রামের স্থানীয় পত্রিকায় বড় করে হেডলাইন হয় যে ব্রিটিশ বধ। আবার অনেকে বলেন, পাকিস্তানকে বাংলাদেশ ক্রিকেটে হারালে একাত্তরের বিজয়ের আনন্দ পায়।’
এই বিষয়গুলোকে সাধারণ মানুষের ‘ছদ্ম বাস্তবতা’   তৈরির প্রবণতা থেকে আসে বলে মনে করেন রাজীব নন্দী, যেখানে বাস্তব সমস্যা সমাধান না করে জাতীয়তাবাদী বা দেশাত্মবোধক চিন্তাধারা থেকে জন্ম নেওয়া অপ্রয়োজনীয় আবেগকে প্রাধান্য দেয় মানুষ।
সীমান্তে সংঘাত, আঞ্চলিক রাজনীতি ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ভারতের আধিপত্য ও ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদের ক্রমাগত উত্থানের ফলে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অবচেতনভাবে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমা হয়েছে যা খেলার ফলাফলের পর প্রকাশ পায় বলে মনে করেন রাজীব নন্দী। তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া হলো আগুনে ঘি ঢালার মতো।’ সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকার কারণে মানুষের এই জাতীয়তাবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশটা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক তীব্র হয় বলে মত তার। রাজীব নন্দী আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপ চলাকালীন সময় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, শিশু নির্যাতনসহ বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে যেগুলো নিয়ে তরুণ সমাজ সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা আলোচনা করেনি, যতটা বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ভারতের হার নিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছে। বিবিসি বাংলা
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


প্রথম পর্বে ব্যাটে বলে সেরা যারা

প্রথম পর্বে ব্যাটে বলে সেরা যারা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০









টানা তৃতীয় জয়ে সেমিফাইনালে খুলনা

টানা তৃতীয় জয়ে সেমিফাইনালে খুলনা

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০



ব্রেকিং নিউজ


বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

বেসরকারি সোনালী জুট মিল বন্ধ ঘোষণা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:৩০







বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:২১



বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১৬