খুলনা | শনিবার | ২৪ অগাস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ |

উত্তরাঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ান

১৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০

উত্তরাঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ান

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনাসহ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যার ফলে এসব অঞ্চলের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। পানি বৃদ্ধির কারণে সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু গ্রামে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাঘাট, পাট, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের জমি। এছাড়া পানি বৃদ্ধির ফলে বেশ কিছু এলাকায় নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তীরবর্তী এলাকার মানুষ। ভাঙনে গত ১৫ দিনে বিলীন হয়েছে সুন্দরগঞ্জ, সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার অন্তত পাঁচ শতাধিক বসতভিটা, আবাদি জমি, গাছপালাসহ বিভিন্ন ফসলের জমি। অন্যদিকে নদী ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন বাঁধসহ উঁচু এলাকায়। অনেকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেতে ঘরবাড়ি সরিয়ে এবং সহায় সম্বল নিয়ে ছুটছেন অন্য এলাকায়। উঁচু জায়গায় ও অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেয়া কর্মহীন এসব মানুষ অনেকে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রাউতারা নবনির্মিত রিং বাঁধটি দুই দফায় দুই স্থানে কেটে দিয়েছে স্থানীয়রা। ফলে  ৩টি ইউনিয়নসহ চলনবিল অঞ্চলের ৯ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। ভারত গাজল ডোবায় পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে রংপুরের কাউনিয়ার তিস্তার তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে বন্যা দেখা দিয়েছে। অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত তিন দিনের টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মহারশী ও সোমেশ্বরী নদীর পানির স্রোতে তীরবর্তী বাঁধ ভেঙে ঝিনাইগাতী উপজেলার ঝিনাইগাতী সদর, ধানশাইল ও কাংশা ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ভারীবর্ষণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঝিনাইগাতী বাজার ও বাড়িঘরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বর্ষণ এবং উজানের পানি অব্যাহত থাকলে দুই-এক দিনের মধ্যে ঝিনাইগাতি উপজেলা পরিষদসহ পুরো বাজার এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দী রয়েছেন লক্ষাধিক জনসাধারণ। লালমনিরহাটে হাতীবান্ধা উপজেলায় ভারীবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে তিস্তা ও ধরলা নদীর চর অঞ্চলগুলোতে বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তিস্তা ব্যারাজ দোয়ানী পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  অবিরাম ভারী বর্ষণে রাঙামাটি জেলার লংগদু ও বরকল উপজেলায় পানির তোড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যায়কবলিত জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল। দুর্গতরা এখন আশ্রয় কেন্দ্রে। এদিকে প্রায় সপ্তাহব্যাপী ভারী বর্ষণে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের সাপছড়ি, শালবাগান, কলাবাগানসহ বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বান্দরবানের লামায় নিম্নাঞ্চল বন্যা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। 
মূলতঃ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়া, অবিরাম বর্ষণ, বিভিন্ন নদীর পানি বেড়ে যাওয়া ও বাঁধ ভেঙে এ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে বহু বাড়িঘর ও আবাদি জমি। পানিবন্দি ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। রাস্তাঘাট ক্ষতিসাধিত হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জনদুর্ভোগ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রেই আগাম ও পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। কারণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকানো ও বন্ধ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ক্ষয়ক্ষতি যাতে কমিয়ে আনা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং যেসব এলাকা বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে, সেসব এলাকার বাঁধ দ্রুত পুননির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। যে সব বাঁধ নির্মিত হয়েছে, সেগুলো নিয়মিত সংস্কার করতে হবে। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

রক্তে ভেজা ‘পনেরই আগস্ট’ আজ

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০


মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

মহামিলনের পবিত্র হজ্জ শুরু

১০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০


ব্রেকিং নিউজ












পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

পেঁয়াজের বাজার বেসামাল

২৪ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৮