খুলনা | বুধবার | ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

যাত্রী হয়রানির পাশাপাশি পণ্য আমদানিতে সমস্যা বাড়ছে বেনাপোল ও ভোমরা বন্দরে

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১১ জুলাই, ২০১৯ ০০:৪৬:০০


ভারতে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশী যাত্রীদের বেনাপোল বন্দরে হয়রানি পোহাতে হয় এ খবর নতুন নয়। ভারতীয় কাস্টমস, বিএসএফ’র নানামুখী হয়রানির পাশপাশি নতুন করে যোগ হয়েছে দেশটির মুদ্রার সমস্যা। পাশাপাশি বেনাপোল বন্দরে ইমিগ্রেশনের সময়সীমা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে সাধারণ যাত্রীদের। এদিকে ভোমরা বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে ২০-২৫ দিন সময় লেগে যাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খুলনা অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে পাথর আমদানিকারকদের এ সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে।
সম্প্রতি ভারত থেকে আসা একাধিক যাত্রীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, বেনাপোল বন্দরে সমস্যার কোন অন্ত নেই। সব থেকে বড় সমস্যা ইমিগ্রেশনে দীর্ঘ লাইন। এর কারণ হল যেসকল যাত্রীদের ভিসায় ‘হরিদাসপুর’ উল্লেখ থাকে তারা শুধুমাত্র বেনাপোল দিয়েই যেতে পারবে। কিন্তু যাদের ভিসায় ‘ঘোজাডাঙ্গা’ উল্লেখ থাকে তারা বেনাপোল ও ভোমরা দু’টি বন্দর দিয়েই ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন। খুলনা-যশোর অঞ্চল ও বরিশাল বিভাগের বেশির ভাগ মানুষই বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রবেশের আবেদন করে। ফলে প্রতিদিনই দীর্ঘ লাইন পড়ে যায় এ বন্দরে। এরপর ভারতীয় কাস্টমস ও বিএসএফ’র রয়েছে নানাবিধ হয়রানি। সম্প্রতি জুটেছে ভারতীয় মুদ্রা নিয়ে নতুন সমস্যা। দেশটি থেকে ফেরত আসা যাত্রীদের কারো কাছে কোন ধরণের ভারতীয় মুদ্রা থাকলেই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারী দিয়েছে সেদেশের সরকার। অনেকে শখের বশত বা পরবর্তীতে যাওয়ার সময় মুদ্রা বিনিময়ের ঝামেলা এড়াতে ৫শ’ বা ১ হাজার টাকা আগে বাংলাদেশে আনতে পারলেও এখন আর সেটি পারছে না। 
সাধারণ যাত্রীদের দাবি, ভারতে প্রবেশের জন্য ‘এ্যানি ল্যান্ড বর্ডার’ সিস্টেম চালু করা উচিত। পাশাপাশি সকাল ৭টা থেকে ৬টা পর্যন্ত ইমিগ্রেশনের সময় বাড়িয়ে আরও ২ ঘন্টা করা প্রয়োজন। বিএসএফ ও ভারতীয় কাস্টমসের আন্তরিকতা এবং যাত্রীদের লাইনের পরিমাণ বাড়ালে হয়রানির পাশাপাশি সময় বাঁচবে।
এদিকে সম্প্রতি ভোমরা বন্দর নিয়ে বাংলাদেশে পণ্য আমদানিতে সময় বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে পাথরের ট্রাক ভারত থেকে দেশে আমদানি হতে ২০/২৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে। যার ফলে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। কারণ পণ্য আমদানি না হওয়া পর্যন্ত আমদানিকারকদের ট্রাকের ভাড়া গুণতে হচ্ছে। তবে পচনশীল দ্রব্যাদি আমদানি হচ্ছে ২/৩ দিনের মধ্যেই। 
খুলনা অঞ্চলের একাধিক আমদানিকারকের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বেনাপোল বন্দরে সপ্তাহে ৭দিনই ২৪ ঘন্টা পণ্য আমদানির চলে। কিন্তু ভোমরা বন্দরে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পণ্য আমদানির কাজ চলে। 
ব্যবসায়ীদের দাবি, বেনাপোলের মত ভোমরা বন্দরেও ২৪ ঘন্টা পণ্য আমদানির কাজ শুরু করলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে। অনেক ব্যবসায়ীরা প্রতি নিয়ত ভারতে যাওয়া আসা করেন। 
এ ব্যাপারে খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজি আমিনুল হক জানান, খুব দ্রুত এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের সমস্যাগুলো নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে বৈঠক করা হবে। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ