খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ |

উপকূলীয় বাঁধগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে 

১১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০

উপকূলীয় বাঁধগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে 

সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ফণী প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় ভেড়ী বাঁধগুলো লন্ডভন্ড হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। প্লাবিত হয়েছে অনেক স্থান। বাঁধ ভেঙে বা উপচে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। কোন কোন এলাকার মানুষকে উদ্যোগী হয়ে বাঁধ রক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে অনেক স্থানে বাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। কোথাও কোথাও বাঁধ রক্ষা পেলেও ফাটল দেখা দিয়েছে।
শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী বেশ দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল। যে কারণে সিডর বা আইলার মতো ক্ষয়ক্ষতি এবার ঘটেনি। অতীতের তুলনায় ক্ষয়ক্ষতি কম হলেও এবারের ঘূর্ণিঝড় উপকূল এলাকার বাঁধগুলোর দুর্বলতা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে গেছে আরেকবার। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলার সময়ও বাঁধগুলোর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, আইলার পর গত প্রায় ১০ বছরেও অনেক স্থানে বাঁধের সক্ষমতা বাড়েনি। অনেক স্থানে দৈর্ঘ্য-প্রস্থ-উচ্চতা অনুযায়ী মাটি ফেলা হয়নি। বাঁধ নির্মাণের উপকরণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। উপকূল এলাকার অনেক বাঁধই অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একশ্রেণীর কর্মকর্তা আর ঠিকাদারদের অনিয়ম-দুর্নীতির মূল্য দিতে হয়েছে উপকূল এলাকার মানুষদের।
শুধু উপকূল এলাকার বাঁধ নির্মাণেও একই ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অঞ্চলের বাসিন্দারা অতীতে এ কারণে চরম ক্ষতির শিকার হয়েছে। বাঁধ নির্মাণ নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। সরকার বিভিন্ন সময় অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে উদ্যোগও নিয়েছে, তবে সুফল মেলেনি। জারুরি হচ্ছে পাউবোর দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া। শুধু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে না।
ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি, বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশে লেগেই আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামীতে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। এ অবস্থায় বাঁধগুলোই হতে পারে সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। আমরা মনে করি, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি, বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় উপকূল বাঁধের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে যেসব বাঁধ ভেঙে গেছে সেগুলো দ্রুততার সঙ্গে পুনঃনির্মাণ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো সংস্কার করতে হবে। এ কাজে কোন অনিয়ম দুর্নীতি যেন না হয় সেটা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। ঘূর্ণিঝড়ে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




মাদক নিয়ন্ত্রনে আরও কঠোর হোন 

মাদক নিয়ন্ত্রনে আরও কঠোর হোন 

২০ জুলাই, ২০১৯ ০০:১২










ব্রেকিং নিউজ