খুলনা | বুধবার | ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ |

ক্ষতিকর খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ জরুরী 

১০ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০

ক্ষতিকর খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ জরুরী 

পৃথিবীর সম্ভবত একমাত্র জাতি আমরা, যারা নিজেদের খাদ্যে নিজেরাই ভেজাল মেশাই। অথচ ভেজালের প্রকৃত তথ্য জানলে অনেকে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিতেন হয়তো। ভেজাল ও পচা-বাসি খাবার, অতিরিক্ত সার-কীটনাশক ব্যবহারে উৎপাদিত কৃষিজাত খাবার, কৃত্রিম রংসহ নানা ধরনের রাসায়নিক পদার্থমিশ্রিত ফলমূলসহ নানা ধরনের খাবার স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর জেনেও আমরা সেগুলো দেদারছে খাচ্ছি। অথচ আমাদের দেশে এগুলোর উৎপাদন, বিপণন ও সেবনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেই। ফলে আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
সব ধরনের রাসায়নিক কীটনাশক-বালাইনাশকই বিভিন্ন মাত্রার বিষাক্ত পদার্থ, কৃষিতে সেগুলোর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার মাটি ও পানি বিষাক্ত করে, বিষ প্রবেশ করে আমাদের খাদ্যচক্রে। এসব বিষযুক্ত খাবার মানুষের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র, যকৃৎসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিউরোলজি ও লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে রোগীর ভিড় দিন দিন বেড়ে যাওয়ার পেছনে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে উৎপন্ন খাদ্য গ্রহণের সম্পর্ক থেকে থাকতে পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। এ ছাড়া শিল্পজাত খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক রং ফল পাকানোর জন্য কার্বাইড এবং ফলমূল, শাকসবজি, মাছ প্রভৃতি পচনশীল খাবারের পচন ঠেকার জন্য ফরমালিনজাতীয় রাসায়নিক পদার্থের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে।
পোলট্রি ও মৎস্যশিল্পের বাণিজ্যিক প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের বাড়তি ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, এই দু’টি শিল্পে ব্যবহারের জন্য বাণিজ্যিকভাবে যেসব খাদ্য উৎপাদন করা হচ্ছে, সেগুলোতেও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর কাঁচামাল ও উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্বেগজনক খবর হলো, চামড়াশিল্পের বর্জ্য থেকে তৈরি করা হচ্ছে মাছ ও মুরগির খাবার। চামড়াশিল্পে প্রায় ২০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়, যেগুলো মাটি ও পানিকে বিষাক্ত করে তোলে, সেসব বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থমিশ্রিত ট্যানারি বর্জ্য তৈরি খাবার খাওয়ানো হচ্ছে মাছ ও মুরগিকে। আমাদের প্রাণিজ আমিষের বৃহত্তম উৎস মাছ ও মুরগি এভাবে বিষাক্ত হচ্ছে, আমরা ও আমাদের শিশুরা তা খাচ্ছে। চামড়াশিল্পে বর্জ্য থেকে পোলট্রি ফিড তৈরির ওপর আদালতে নিষেধাজ্ঞা আছে কিন্তু এই মারাত্মক ক্ষতিকর বাণিজ্যিক তৎপরতা বন্ধ হয়নি, বরং আরও প্রসারিত হয়েছে। গত কয়েক দশকে জনস্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন দিকে আমাদের যে অগ্রগতি ঘটেছে, তা টেকসই হবে না যদি আমরা ক্ষতিকর খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন, বিপণন ও সেবন বন্ধ করার জন্য কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিই।
 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ