খুলনা | শুক্রবার | ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধসহ আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ জরুরী

০৯ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০

ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধসহ আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ জরুরী

দেশে বর্তমানে ধর্ষণ-খুন যেন মহামারী আকার ধারণ করেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন বা এ সংক্রান্ত অপরাধ চেষ্টার পর নারী ও শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে বেপরোয়াভাবে। চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে জুন পর্যন্ত ৩৯৯ ধর্ষন ও ধর্ষনের চেষ্টার শিকার আর মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। দিন দিন খুন, হত্যা, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন যেভাবে বাড়ছে তাতে আমরা সভ্য সমাজে বাস করছি কিনা, এমন প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
বর্তমানে দেশের সর্বত্র যৌন পীড়নের ঘটনা ঘটছে। শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন পীড়নের অভিযোগ এনে জীবন দিতে হয়েছে ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে। বাংলাদেশ এমনকি বিশ্ব মিডিয়াকে নাড়িয়ে দিয়েছে নৃশংস এই ঘটনা।  মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে এক কিশোরীকে গণধর্ষণ করেছে সাত দুষ্কৃতকারী। মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেছে তারা। সিলেটে আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এক তরুণী। বগুড়ার ধুনটে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করা হয়েছে। হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। নওগাঁয় দুই ও রাজবাড়ীতে এক স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুমিল্লায় ধর্ষণের অভিযোগে এক মসজিদের ইমামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নওগাঁয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এক কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ করা হয়েছে। এভাবে প্রতিদিন ধর্ষন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের খবর আসছে সংবাদপত্রে। প্রকাশিত এসব খবরে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে যে, দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের অনাচার চলতেই থাকবে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? 
আমাদের দেশের সামাজচিত্র আজ অনেকটাই বদলে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এখন মেয়েদের জন্য নিরাপদ নয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগে যে সম্পর্ক ছিল, তা এখন নেই বললেই চলে। ফলে অনাচারী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে বিচারহীনতার সংস্কৃতিও যেন অপরাধীদের উসকে দিচ্ছে। সমাজে খুন-ধর্ষণ ও নিপীড়ন বেড়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে এবং এতে তারা সাহসী হয়ে দ্বিগুণ উৎসাহে বেপরোয়া অপরাধ সংঘটন করছে। যেসব দেশে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, সেসব দেশে ধর্ষণের পরিমাণ অনেকাংশে কমে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে ধর্ষণের শাস্তি নির্দিষ্ট নয়। আইনের মারপ্যাঁচে সবাই আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পায়, যা কোনোভাবে কারোরই কাম্য নয়। আর সে কারণেই শাস্তির একটা বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন একান্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।
আমরা মনে করি, বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। অর্থবিত্ত বা সামাজিকভাবে প্রভাবশালীরা বা তাদের মদদপুষ্টরাই ধর্ষণের মতো অপরাধ করে। ফলে এসব ক্ষেত্রে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে, মামলা নিলেও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে তালবাহানা করে, অপরাধীদের বাঁচিয়ে প্রতিবেদন দেয় কিংবা অপরাধী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের দেখতে পায় না। এরকম অভিযোগ অজশ্র। সরকার ধর্ষণের পরিমাণ কমাতে এর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান কার্যকর করতে পারে। ধর্ষণের মতো নীতিবিবর্জিত কাজ কারোরই কাম্য নয়। এ জঘন্য অপরাধের লাগাম টেনে না ধরা গেলে তা সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নেবে। তাই আসুন, সময় থাকতে ধর্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি এবং ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অপরাধীকে যথাযথ সাজা দেয়ার বিকল্প নেই। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




ব্রেকিং নিউজ