খুলনা | মঙ্গলবার | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২ আশ্বিন ১৪২৬ |

শিরোনাম :

মোংলা সমুদ্র বন্দরের অবকাঠামো ও  যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি

০৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০

মোংলা সমুদ্র বন্দরের অবকাঠামো ও  যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি

দীর্ঘদিন অযতœ অবহেলায় পড়ে থাকার পর দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মোংলা যে সাম্প্রতিককালে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, এটি আমাদের জন্য সুখবর। চট্টগ্রাম আমাদের প্রধান সমুদ্র বন্দর এবং সমুদ্র পথে আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই পরিবহন করা হয় এর মাধ্যমে। চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ার ফলে এর দক্ষতা কমে যাচ্ছে, পণ্য খালাসে সময় বেশি লাগছে। তাই আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সুবিধার্থে অনেক দেশিয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী অনেক রাষ্ট্রকে মোংলা বন্দরের দিকে ঝুঁকতে দেখা  যাচ্ছে। বিষয়টি আমাদের দেশের জন্য ইতিবাচক। 
সম্প্রতি মোংলা বন্দর পুরোপুরি ব্যবহারে নেপালের আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ধন বাহাদুর ওলি মোংলা বন্দর পরিদর্শন করে বলেছেন, এই বন্দর দিয়ে সড়কপথে বাণিজ্যিক পণ্য নেপালে আনা- নেওয়ার কাজ দ্রুতই শুরু হবে। মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে যেসব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে তিনি সেসবের প্রশংসা করেন। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে নেপালের চুক্তি হয়েছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময়ও মোংলা বন্দর ব্যবহার এবং সীমান্তে আরও তিনটি স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তা ছাড়া বাংলাদেশ ভুটানকে তামাবিল, বাংলাবান্ধা ও নাকুগাঁও স্থলবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে একটি সারের চালান নিয়ে এসেছিল নেপালের কোম্পানি। স্থানীয় আমদানিকারক খুলনার দেশ ট্রেডিং করপোরেশনের অনুকূলে চীন থেকে প্রায় ২৫ হাজার ৩৫০ টন সার নিয়ে গত বৃহস্পতিবার মোংলা সমুদ্রবন্দরে ভিড়েছে বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি ঠেটো টোকজ’। জাহাজের সার খালাস প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মোংলা বন্দর বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপাল, ভারত ও ভুটানের পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। নেপাল ও ভুটান এতদিন ভারতের সমুদ্র বন্দরই ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু তাতে ওই দু’টি দেশের পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। নেপাল ও ভুটানের আমাদের মোংলা বন্দর ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে আমাদের এবং তাদের লাভ হয় এমন পদক্ষেপ নিতে হবে। বন্দর ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এমন পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে, যাতে অপেক্ষাকৃত কম সময়ে তাদের পণ্য গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। মোংলা বন্দর উন্নয়ন হলে শুধু ওই দু’টি দেশ নয়, ভারতের অনেক পণ্যও এই বন্দর দিয়ে আনা-নেওয়া লাভজনক হবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের সক্রিয় সহযোগিতার প্রয়োজন হবে। ১৯৯৮ সালে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর উদ্বোধন করা হয়েছিল, কিন্তু ভারত সহযোগিতা করেনি বলে তখন তা চালু করা যায়নি। ভারত যদি উত্তর-পূর্ব ভারতে তাদের পণ্য পরিবহনের জন্য ট্রানজিট বা ট্রানশিপমেন্ট সুবিধা পেতে পারে, একই সুবিধা কেন নেপাল ও ভুটানকে তারা দেবে না?
২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোংলা বন্দরে রাজস্ব আহরণে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ হার বেড়ে প্রায় ৫০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে বন্দরে কন্টেইনারবাহী জাহাজ আগমনের সংখ্যা বেড়েছে আড়াই গুণ। ভারত, নেপাল ও ভুটান মোংলা বন্দরের ট্রানজিট (বাংলাদেশের ভূখন্ড) ব্যবহারের মাধ্যমে এ বন্দরে পণ্য খালাস-বোঝাইয়ের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে বলে আমরা মনে করি। সে জন্য বন্দরের অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

আমাদের উচ্চশিক্ষার মান  কেন এই অধোগতি?

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




আজ পবিত্র আশুরা

আজ পবিত্র আশুরা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০








ব্রেকিং নিউজ