খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

পায়ের ভয়ঙ্কর রোগ ডায়াবেটিক ফুট কি করবেন জেনে নিন

ডাঃ মোঃ তরিকুল ইসলাম | প্রকাশিত ০৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:৫৩:০০

ডায়াবেটিক ফুট বা ডায়াবেটিক পা' একটি ডায়াবেটিস মেলাইটাস জনিত পায়ের সমস্যা । ১৫% ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে এই জটিলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস থাকার কারণে রোগীর পায়ে একধরনের  ইনফেকশন বা  আলসার হয়ে থাকে যাকে ডায়াবেটিক ফুট বা ডায়াবেটিক ফুট সিন্ড্রম বলা হয়।
পৃথিবীতে মানুষের পা কাটার কারণগুলোর মধ্যে  অন্যতম  হল ডায়াবেটিক ফুট বা এ সংক্রান্ত জটিলতা  (৫০%)। ডায়াবেটিস রোগীর পায়ে আঘাত লাগলে বা ক্ষত হলে সেখানে ক্ষুদ্র রক্তনালীর বিকাশ, এক্সট্রাসেলুলার ম্যাট্রিক্স, ত্বক ইত্যাদির বৃদ্ধি খুব ধীর গতিতে হয়। ফলে ক্ষত নিরাময় প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় এবং শুকাতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এতে জীবাণু সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ক্ষতস্থানে দুর্গন্ধযুক্ত পচন (গ্যাংগ্রিন) ধরে যায়। রোগীর জীবন রক্ষার্থে অনেক সময় পা বা পায়ের কিছু অংশ কেটে বাদ দিতে হয়।
ডায়াবেটিস রোগীর পায়ে ক্ষত তৈরিতে প্রধান কারণগুলো হল- ১. ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথী ২. কম রক্ত চলাচল ও ৩. জীবাণু সংক্রমণের সম্ভাবনা। ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথী হল পায়ে ব্যথার অনুভূতি কমে যাওয়া বা অসারতা। এর ফলে রোগী পায়ে আঘাত পেলেও ব্যথা অনুভব করেন না, ফলে পা কেটে গেলে বা পায়ে ফোস্কা পড়লেও তিনি তা বুঝতে পারেন না। সাধারণত পায়ের পাতা, পায়ের আঙ্গুল, গোড়ালিতে ক্ষত সৃষ্টি হয়। ডায়াবেটিস রোগীর পায়ের  রক্তনালীর ভিতরটা সংকুচিত হয়ে যায় এবং রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে ক্ষতস্থানে পুষ্টি ও রক্তের জীবানুরোধক উপাদানগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে পৌঁছাতে পারে না। অবশেষে সেখানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে, যেখান থেকে পায়ে গ্যাংগ্রীন দেখা দিতে পারে।
পায়ে সাধারণত অনেক মাংসপেশি, রগ, ও ফ্যাট থাকে। অল্প সংক্রমণেই কম্পারটমেন্ট সিন্ড্রোম হয় এবং রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উপরের চামড়া ভাল থাকলে ও এসব মাংসপেশি, রগ, ফ্যাট দ্রুত পচন ধরে। 
কাদের  ডায়াবেটিক ফুট হওয়ার সম্ভাবনা বেশী?  
পায়ে পূর্বের কোনও ক্ষত বা পায়ের কোনও অংশের অঙ্গচ্ছেদ থাকলে। মোটা নখ, পায়ের হাড়ের জোড়ার সীমিত নড়াচড়া, হাড়ের অঙ্গবিকৃতি থাকলে। পায়ে জীবাণুর সংক্রমণ বা অন্যান্য সমস্যা যেমন- লাল চাকা, গরম হওয়া, কড়া পড়া বা কড়ার নিচে রক্ত জমাট বাঁধা থাকলে। পায়ের বিভিন্ন রক্তনালীর পালস বা ধমনীর গতি না পাওয়া গেলে। পায়ের অনুভূতি না থাকলে। এ ছাড়াও পা ও পায়ের আঙ্গুলের বিকৃতির যেমন আঙ্গুল বেকে যাওয়ার  কারণেও পা ঝুঁকিপূর্ণ হয়। 
ডায়াবেটিক ফুট নিয়ে অনেকে চিন্তিত থাকেন। কারণ এই রোগের চিকিৎসা বলতেই অনেকের ধারনা পা বা আঙ্গুল কেটে ফেলতে হবে। না হলে মোটা অংকের টাকা খরচ করে ঢাকা বা বিদেশে  রোগটির চিকিৎসা করাতে হবে। কিন্তু এই ধারনাগুলো একেবারে ভুল। খুলনাতে এখন এর উন্নত মানের  চিকিৎসা হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আঙ্গুল বা পা না কেটে চিকিৎসা সম্ভব।  এখন রোগীদের বা তার পরিবারের খুঁজে বের করতে হবে কারা এর চিকিৎসা ভাল করছেন।
প্রতিরোধের উপায়-প্রথমত ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। নিয়মিত পায়ের যতœ  নিতে হবে, সব সময় পা পরিস্কার ও শুকনা রাখতে হবে, মোজা এবং জুতা ব্যবহার করতে হবে। পায়ে যাতে কোনও আঘাত না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ঘরে বাইরে কোথাও খালি পায়ে হাঁটা যাবে না। পায়ে বেশী ঠান্ডা বা বেশী গরম লাগানো যাবেনা। নিজে বা অন্যকে দিয়ে নিয়মিত পা পরীক্ষা করতে হবে। সাবধানে পায়ের নখ কাটতে হবে। পুরু চামড়া বা কড়া নিজে ধারালো কিছু দিয়ে কাটা যাবেনা।  পায়ে কোন রকম   সংক্রমণ বা ক্ষত দেখা দিলে দেরি না করে সাথে সাথেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।    
ডাঃ মোঃ তরিকুল ইসলাম
এম বিবি এস, এফ সিপি এস, এম এস, এফ আই সি এস
প্লাস্টিক,  রিকন্সট্রাক্টিভ ও এস্থেটিক সার্জন    
সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগ
খুলনা মেডিকেল কলেজ


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






কলমীশাকের পুষ্টিকথা

কলমীশাকের পুষ্টিকথা

২২ জুন, ২০১৯ ০০:০০





লিভার রোগ: ভয় কতটুকু?

লিভার রোগ: ভয় কতটুকু?

২৫ মে, ২০১৯ ০০:১০



ব্রেকিং নিউজ