খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

একান্ত সাক্ষাৎকার

খাদ্যে ভেজাল বিরোধী আন্দোলনে দেশজুড়ে সুখ্যাতিতে কয়রার পলাশ মাহমুদ : স্বপ্ন নিরাপদ স্বদেশ

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ০৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:৫০:০০

ভেজাল খাদ্যের কারণে এ দেশে বসবাস অনিরাপদ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য সর্বোচ্চ আদালতের। গত ১২ মে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বিষয়ে কনসাস কনজুমার সোসাইটির (সিসিএস) নির্বাহী সম্পাদক পলাশ মাহমুদের করা রিটে ৫২ পণ্য উৎপাদন, বিক্রয় ও বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। খাদ্যে ভেজাল বিরোধী আন্দোলনে ইতোমধ্যে জাতীয় পর্যায়ে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন খুলনার কয়রা উপজেলার কৃতি সন্তান ‘সময়’ টেভিশনের অনলাইন সিনিয়র রিপোর্টার পলাশ মাহমুদ। নিম্নমানের ও ভেজাল খাদ্যের মহামারী রুখে দিয়ে নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর তিনি। সময়ের খবর’র সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি জানান, প্রায় সব ধরনের খাদ্য পণ্যের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভেজাল। সম্প্রতি ৯৬টি প্রতিষ্ঠানের দুধের মধ্যে ৯৩টিতে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে। আবার বিএসআইটিআই ৫২টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ভেজাল পেয়েছে। নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের চেয়ারম্যান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিএসটিআই’র চেয়ারম্যান, বাণিজ্য সচিব ও খাদ্য সচিবকে বিবাদী করে এই রিট আবেদন করেছিলেন তিনি।
হাইকোর্টে রিটের বিষয়ে পলাশ মাহমুদ বলেন, পণ্যের মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিএসটিআই’র। আর নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দায়বদ্ধতা রয়েছে। এজন্য তাদেরকেই বিবাদী করে রিটটি করেছিলাম। আদালত শুনানি শেষে যে রায় দিয়েছেন তাতে জনগণের হৃদয়ের আকাক্সক্ষা পূরণ করেছে। তবে মাঠ পর্যায়ে কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে সে শঙ্কা থেকেই যায়।
তিনি বলেন, এখনও খুব খুশি হওয়ার কিছু নেই। কারণ শুধু এই ৫২টি পণ্য নয়, অন্যান্য পরীক্ষায় দেখা গেছে প্রায় ৭০ ভাগ পণ্যে ভেজাল আছে। চাইলেই এই মহামারী দূর হবে না। এজন্য সরকার, জনগণ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সবাইকে কাজ করতে হবে। আদালত সেটিই বলেছেন। সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে ভেজালের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করতে বলেছেন।
ভেজাল খাদ্যে ক্ষতির প্রভাব তুলে ধরে পলাশ মাহমুদ বলেন, দেশে বর্তমানে দুই কোটির বেশি মানুষ কিডনি রোগী। প্রায় দেড় কোটি হৃদরোগী। ক্যান্সারে প্রতি বছর তিন লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। কিডনি রোগে প্রতি ঘণ্টায় মরছে ছয়জন। ২০৩০ সালের মধ্যে ক্যান্সার রোগী হবে অন্তত দুই কোটি। ‘তার মানে কয়েক বছরের মধ্যে ক্যান্সার, কিডনি ও হার্টের রোগী হবে প্রায় ৭ কোটি। বিষয়টি চিন্তা করলে তো ঘুম আসে না। আমরা কোথায় যাচ্ছি? কী হচ্ছে দেশে? দেশে স্বাস্থ্যঝুঁকি কোথায় যাচ্ছে চিন্তা করে দেখুন। এজন্য আমরা ব্যাপকভাবে মানুষকে সচেতন করতে কাজ করছি। নিম্নমানের ও ভেজাল খাদ্যের মহামারী রুখে দিয়ে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা চাইলেন পলাশ মাহমুদ।
কে এই পলাশ মাহমুদ : সিসিএসের নির্বাহী সম্পাদক পলাশ মাহমুদ খুলনার কয়রা উপজেলার ১নং কয়রা এলাকার মরহুম মোহাম্মদ আলী গাজীর ছেলে। সিসিএস পরিচালনা করার পাশাপাশি কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। বর্তমানে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ সোসাইটি’ (আইওয়াইএস) এর কান্ট্রিডিরেক্টর, থাইল্যান্ডের ‘ও-ইয়েস ফাউন্ডেশন’র এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর, সুইডভিত্তিক ‘ওয়ার্ল্ড পিস কনফারেন্স’র কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল শুক্রবার ওয়াল্ড পিস কনফারেন্স শেষে দেশে ফিরেছেন তিনি।
যার রিটের কারণে হাইকোর্ট এই যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন সেই পলাশ মাহমুদের জন্মস্থান সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানায়। তবে ছোটবেলা বাবা মারা যাওয়ায় তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায়। সেটাই এখন স্থায়ী ঠিকানা তার। কয়রার কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখান থেকে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। পলাশ মাহমুদের ক্যাম্পাস জীবনে বেশ সাংগঠনিক ও সংগ্রামী ভূমিকা ছিল। প্রথম বর্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হলেও দুই গ্র“পের এক সংঘর্ষ দেখে আর রাজনীতিতে অগ্রসর হননি। পলাশ মাহমুদ ২০০৬ সালে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকতা শুরু করেন। একই সঙ্গে বিভাগের ছাত্র সংসদে সক্রিয় হন। ছাত্র সংসদে একাধারে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন ও স্নাতক শ্রেণীতে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন। অন্যদিকে, সাংবাদিক সমিতিতে ২০১০ সালে যুগ্ম-সম্পাদক ও ২০১১ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। ক্যাম্পাস জীবনে তিনি ছাত্রদের স্বার্থে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতেন। ২০১৩ সালে ক্যাম্পাস ছেড়ে ঢাকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন পলাশ মাহমুদ। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নিয়ে শুরু করেন সামাজিক সংগঠন ‘কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি’ (সিসিএস)। ওই বছরের মার্চ মাসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ-তরুণীকে নিয়ে তিনি যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। পলাশ মাহমুদ দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক বণিকবার্তা, দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক যুগান্তরে খুবই সুনামের সাথে কাজ করেন। ২০১৮ সালে দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন বিভাগে টানা ৮ মাস সেরা কর্মী পুরস্কার ও বর্ষসেরা পুরস্কার পান। যমুনা টেভিশন হয়ে বর্তমানে তিনি বেসরকারি টেলিভিশন ‘সময় টিভি’র অনলাইন বিভাগে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত আছেন।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ











ব্রেকিং নিউজ