খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

প্লাটফর্ম নিচু হওয়ায় উঠা-নামায় দুর্ভোগ : আছে নানা অসঙ্গতি 

খুলনা আধুনিক রেল স্টেশনে নেই পর্যাপ্ত যাত্রী সেবা

মোহাম্মদ মিলন | প্রকাশিত ০৪ জুলাই, ২০১৯ ০১:০০:০০

খুলনা আধুনিক রেল স্টেশনে নেই পর্যাপ্ত যাত্রী সেবা। আছে নানা অসঙ্গতি। নেই পার্সেল ও গুডস গোডাউন এবং অফিস। অনুসন্ধান রুম নেই। আর টিকিট কাউন্টারের সামনে নেই ফ্যানের ব্যবস্থা। স্টেশনের ৬টি টিকিট কাউন্টারের মধ্যে ৩টি কাউন্টারই বন্ধ। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী রয়েছে বগিও সংকট। এমনই অভিযোগ রেলের যাত্রী ও খুলনার নাগরিক নেতাদের। 
রেল স্টেশন সূত্রে জানা যায়, খুলনা রেল স্টেশনে প্রতিদিন ১০টি ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে আন্তঃনগর চিত্রা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস ঢাকা, সাগরদাড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস রাজশাহী, রূপসা ও সীমান্ত এক্সপ্রেস সৈয়দপুর, রুকেট ট্রেন পার্বতীপুর, নকশীকাঁথা ট্রেন গোয়ালন্দ ও কমিউটার ট্রেন বেনাপোলের উদ্দেশ্যে খুলনা থেকে ছেড়ে যায়। একইভাবে বিভিন্ন স্টেশন থেকে এসব ট্রেন খুলনা স্টেশনে প্রবেশ করে। এসব ট্রেনে যাত্রীর পাশাপাশি মালামাল আনা-নেয়া করা হয়। এসব মালামাল রাখার জন্য পুরাতন রেল স্টেশনে গোডাউন থাকলেও নতুন আধুনিক এই রেল স্টেশনে সেই ব্যবস্থা নেই। অথচ ট্রেনে মালামাল পরিবহন করে রাজস্ব আয় হচ্ছে। শুধু তাই নয়, স্টেশনে রয়েছে নানা সমস্যা।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, ঢাকা-খুলনা রুটে চিত্রা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রীদের চাহিদা অনেক। তবে পর্যাপ্ত বগি না থাকায় যাত্রীদের টিকিট দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ দু’টি ট্রেনে শোভন চেয়ার ও এসি চেয়ারের বগি বাড়ানো প্রয়োজন। এছাড়া রূপসা ও সীমান্ত এক্সপ্রেসে প্রতিদিনই সিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে। ফলে রাত ৯টা ১৫ মিনিটের ট্রেন ছাড়ার সময় থাকলেও ছাড়তে হচ্ছে রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে। যাত্রীদের বসে থাকতে হচ্ছে। এই দু’টি ট্রেনেও বগি প্রয়োজন।     
একাধিক যাত্রী বলেন, খুলনা রেল স্টেশন দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। তবে আধুনিক হলেও পরিপূর্ণ সেবা দেয়া হচ্ছে না। ৬টি টিকিট কাউন্টারের মধ্যে যাত্রীদের টিকিট নিতে হয় মাত্র ২টি কাউন্টার থেকে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ওই দু’টি কাউন্টার থেকে টিকিট নিতে হচ্ছে যাত্রীদের। এছাড়া দীর্ঘ সময় যাত্রীদের কাউন্টারে থাকলেও কাউন্টারের সামনে ফ্যান না থাকায় পড়তে হয় সীমাহীন দুর্ভোগে। 
যাত্রীরা আরও অভিযোগ করে বলেন, আধুনিক রেলস্টেশন হলেও ট্রেনের চেয়ে প্লাটফর্ম নিচু হওয়ায় উঠা-নামায় দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের বেলায় এ সমস্যার অন্ত নেই। 
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব মোঃ আশরাফ উজ জামান বলেন, খুলনা আধুনিক রেল স্টেশনে নেই কাক্সিক্ষত সুযোগ-সুবিধা। আধুনিক রেল স্টেশন হলেও সেবার মানে ঘাটতি রয়েছে। কাউন্টার আছে, জনবল নেই। জনবল স্বল্পতার কারণে টিকিট কাউন্টার থাকছে বন্ধ। ফ্যান বিহীন গরমে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিচ্ছে। পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে। বসার জন্য সু-ব্যবস্থা নেই। 
তিনি বলেন, আমাদের প্রধান দু’টি দাবি হচ্ছে খুলনা-ঢাকা রুটে সরাসরি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ডাবল রেল লাইন। একই সাথে স্টেশনে সেবার মান বৃদ্ধি করতে হবে। বৈকালি জংশন থেকে খুলনা রেল স্টেশন পর্যন্ত ২৭৩ একর রেলের জমির মধ্যে ১০০ একর ব্যবহার করা হলেও বাকী ১৭৩ একর জমি উপযুক্ত ব্যবহার হচ্ছে না। ১৭৩ একর জমি উদ্ধার করে পরিকল্পিতভাবে এই জমি ব্যবহার করতে হবে। তিনি বলেন, রেলওয়ে হাসপাতালেও দখল হয়ে গেছে। এসব দিকে সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে।     
খুলনা রেল স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার জানান, আধুনিক রেল স্টেশনের ৬টি টিকিট কাউন্টারে প্রয়োজন ১৫ জন কর্মী। কিন্তু রয়েছে মাত্র ৮ জন। জনবল স্বল্পতার কারণে তিনটি কাউন্টার বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বাকী একটি কাউন্টার থেকে কলকাতা-খুলনা রুটের বন্ধন এক্সপ্রেসের টিকিট এবং ২টি কাউন্টার থেকে সকল শ্রেণীর যাত্রীদের টিকিট প্রদান করা হচ্ছে। এতে যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগের কথা তিনি স্বীকার করেন। 
তিনি আরো বলেন, খুলনা রেল স্টেশনে পার্সেল গোডাউন না থাকায় বুকিং করা মালামাল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্লাটফর্মসহ বিভিন্ন স্থানে মালামাল রাখতে হচ্ছে। একই সাথে উচ্চ শ্রেণীর যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত বেডিং সামগ্রী ও গুরুত্বপূর্ণ মালামাল রাখার কোন কক্ষ নেই। ফলে যাত্রীদের মালামাল রক্ষণাবেক্ষণে বেগ পেতে হচ্ছে। রূপসা এক্সপ্রেস বাদে প্রায় সকল ট্রেনে প্রতিদিন মালামাল বহন হচ্ছে। গোডাউন না থাকায় এসব মালামাল স্টেশনের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র রাখতে হচ্ছে। এ জন্য বাড়তি নিরাপত্তা দিতে হচ্ছে। এছাড়া যাত্রীদের জন্য তোষক, কম্বল, বেডশীড, বালিশসহ বেডিং সামগ্রী রাখার জন্য কোন কক্ষ নেই। এসব সামগ্রী ওয়েটিং রুমসহ বিভিন্ন স্থানে রাখতে হচ্ছে। এ জন্য অনেক সময় ধূলা-ময়লা লেগে যায়। এই স্টেশনে অফিসসহ গোডাউন ও বেডিং সামগ্রী রাখার জন্য কক্ষের খুবই প্রয়োজন। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে। রেল স্টেশনের পাশে অনেক জায়গা রয়েছে। এই জমিতে অফিসসহ গোডাউন করা সম্ভব। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ওয়াশফিড দূরে থাকায় ট্রেন ছাড়তে কিছুটা দেরি হচ্ছে। এসব বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। 
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







উৎসব মুখর পরিবেশে আ’লীগের সম্মেলন

উৎসব মুখর পরিবেশে আ’লীগের সম্মেলন

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:২৮




কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস আজ

কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস আজ

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:২২



ব্রেকিং নিউজ







উৎসব মুখর পরিবেশে আ’লীগের সম্মেলন

উৎসব মুখর পরিবেশে আ’লীগের সম্মেলন

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:২৮




কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস আজ

কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস আজ

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:২২