খুলনা | বুধবার | ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ |

ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন ও রেলসেতু  মেরামতে দ্রুত উদ্যোগ নিন

০৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০

ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন ও রেলসেতু  মেরামতে দ্রুত উদ্যোগ নিন

রেলওয়ের উন্নয়নে সরকারের প্রকল্প ও বরাদ্দের শেষ নেই, তারপরও সরকারের অন্যতম বৃহৎ সংস্থাটির উন্নয়ন দৃশ্যমান নয়। এর পেছনে ভেতরের ও বাইরের নানা স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র, অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি উড়িয়ে দেয়ার উপায় নেই। রেলওয়ের উন্নয়নে বর্তমানে প্রায় অর্ধশত প্রকল্প চলমান। এ ছাড়া রয়েছে ৩০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনাও। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দ্রুতগতিসম্পন্ন বুলেট ও বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনার উদ্যোগও আছে কর্তৃপক্ষের। কিন্তু এত কিছুর পরও যা নেই তা হলো, রেললাইনের দৃশ্যমান উন্নতি ও সংস্থাটির লাভের মুখ দেখা। উদ্বেগের বিষয়, দেশজুড়ে ৩ হাজার ৩৩৩ কিলোমিটার রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে ফিশপ্লেট, ক্লিপ, হুক ও নাটবল্টুসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ থাকে খোলা। এমনকি রেললাইন মজবুত ও স্থিতিশীল রাখতে স্থাপিত স্লিপারগুলোর অবস্থাও নাজুক। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে অধিকাংশ রেলসেতু।
বেসরকারি পরিবহন মালিকরা চান না রেলওয়ের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হোক ও রেলওয়ের সেবার মান উন্নত হোক। কারণ তেমনটি হলে সবচেয়ে নিরাপদ পরিবহনটিতে মানুষ ঝুঁকবে এবং তাদের ব্যবসা কমে যাবে। আশঙ্কার বিষয়, রেলওয়ের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা এদের সঙ্গে যোগসাজশে রেলওয়ের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে থাকেন। বিভিন্ন অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন ও ব্রিজ অবহেলায় পড়ে থাকার পেছনে এটিও একটি কারণ বৈকি। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বড়ছড়া রেলসেতুতে ট্রেন দুর্ঘটনায় হতাহত হন অনেকে। এর কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও এখনও সেতুর নিচে পড়ে থাকা বগিটি সরিয়ে নেয়া হয়নি এবং পাহাড়ি ঢলের পানি বগিতে বাধা পড়ে রেল সেতুটিকেই হুমকির মুখে ফেলছে। অথচ দেখার যেন কেউ নেই।
রেললাইন-সেতু ঝুঁকিমুক্ত করা সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও লাইন সংস্কার, মেরামত ও পরিদর্শনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা যেন নির্বিকার। রেলের উন্নয়নে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও রেললাইনের এমন দুরাবস্থা কেন তার কোনো সদুত্তর নেই। ৩ হাজার ৬টি রেলসেতুর ৯০ শতাংশই ব্রিটিশ আমলের। এগুলোর সংস্কার, মেরামত ও উন্নয়নের কাজকর্মও তেমন চোখে পড়ে না। এর পেছনে রেলে কালোবিড়াল সিন্ডিকেটের কলকাঠির নড়চড় রয়েছে। সরকারের অন্যতম সম্পদশালী সংস্থা হওয়ার পরও রেলের  দৈন্যদশা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। দেশজুড়ে রেলের সম্পত্তি বেহাত, বেদখল, এমনকি বিক্রি করে দেয়ার মতো ঘটনা নৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় একটি সংস্থা যে চলতে পারে না, তা বলাইবাহুল্য।
কুলাউড়ার মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন ও রেলসেতু মেরামত করা দরকার। এ ছাড়া রেলওয়ের সম্পত্তি বেদখল, রেলওয়েকে অবহেলায় রেখে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে বাস কোম্পানিগুলোর উদ্দেশ্য সাধন করা ও রেলসংক্রান্ত যে কোনো দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের উচিত আরামদায়ক পরিবহন সংস্থাটিকে দেশের সব জেলায় বিস্তৃত করা। রেলওয়েতে যে নানা ধরনের দুর্নীতি-অনিয়ম জেঁকে বসেছে তা প্রমাণিত হয় বেসরকারি খাতে লিজ দেয়া ট্রেনগুলো অনেক লাভ করলেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলাগুলোর লোকসান দেয়া। রেলকর্তারা বলে থাকেন রেলে বিনিয়োগ থেকে লাভ নয়, মূলতঃ সেবাই উদ্দেশ্য। এর পেছনে তাদের অনিয়ম-দুর্নীতি  বৈধ করার কোনো দুরভিসন্ধি যে নেই, তা হলফ করে বলা যায় না। সরকার রেলের উন্নয়নে ঝুঁকিপূর্ণ লাইন-সেতু মেরামতের পাশাপাশি ঘাপটি মেরে থাকা কালো বিড়ালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা আশাবাদী।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ