খুলনা | বুধবার | ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ |

গ্যাসের দামে আতংকিত ভোক্তারা

০২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০

গ্যাসের দামে আতংকিত ভোক্তারা

বিশ্ব বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমার পর দেশে মূল্য সমন্বয়ের যে দাবি ভোক্তাদের তরফে ছিল, সেটা তো পূরণই হয়নি উল্টো বছরের শুরুতেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণায় ভোক্তা মহলে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। গৃহস্থালি, শিল্পসহ সব শ্রেণীর গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে সরকার। প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের গড় দাম ৭.৩৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯.৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ গ্যাসের দাম এক লাফে গড়ে ৩২.৮ শতাংশ বেড়েছে । দেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় হারের মূল্যবৃদ্ধি। এ দাম বৃদ্ধির ফলে বছরে সব গ্রাহকের অতিরিক্ত খরচ হবে ৮ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। ফলে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি অনেক পণ্য ও সেবার দাম বাড়াবে।
গত রবিবার এক প্রজ্ঞাপন জারি করে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বর্ধিত মূল্যহার অনুযায়ী, বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত গ্যাসের এক চুলার মাসিক বিল ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৯২৫ টাকা হয়েছে। দুই চুলার মাসিক বিল ৮০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭৫ টাকায়। অর্থাৎ উভয় ধরনের চুলাতেই ১৭৫ টাকা করে দাম বাড়ানো হয়েছে। আর গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত মিটারভিত্তিক প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৯.১০ টাকা থেকে ১২.৬০ টাকা হয়েছে। দাম বৃদ্ধির সাম্প্রতিক হার প্রবণতা বিবেচনায় এবারই সবচেয়ে বেশি হারে গ্যাসের দাম বেড়েছে। এ বছর প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম গড়ে ৩২.৮ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে ২০১৭ সালের ফেব্র“য়ারিতে দুই ধাপ মিলে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম  গড়ে ২২.৭ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বিইআরসি। পরে প্রথম ধাপ কার্যকর হলেও আদালতের রায়ে দ্বিতীয় ধাপ বাতিল হয়ে যায়। তার আগে ২০১৫ সালের আগস্টে গ্যাসের দাম গড়ে ২৬.২৯ শতাংশ বাড়িয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। অর্থাৎ এবার সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বড় দামবৃদ্ধির ঘোষণা এলো গ্যাস খাতে। এর আগের দামবৃদ্ধির হারও ২০ শতাংশের আশেপাশে ছিল। 
দেশীয় গ্যাসের মজুদ কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির পথে হেঁটেছে সরকার। গতকাল থেকে নতুন দামবৃদ্ধি কার্যকর হবে। অর্থাৎ পোস্টপেইড গ্রাহকরা জুলাই মাস থেকে নতুন মূল্যহারে বিল পরিশোধ করবেন। আর প্রি-পেইড গ্রাহকরা ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল্য অনুযায়ী টাকা রিচার্জ করবেন।এছাড়া গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস বা সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার ৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বর্ধিত মূল্যের মধ্যে ফিড গ্যাসের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫ টাকা এবং অপারেটর মার্জিন পূর্বনির্ধারিত ৮ টাকাই রাখা হয়।তবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের আগের মূল্য ১৭.৪ টাকাই রয়েছে।
আগামী এক বছর যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহৃত হবে গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত মোট ব্যয় হবে ১৮ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। সে ব্যয় মেটাতে বর্ধিত দামে গ্যাস বিক্রি করে সরকার অতিরিক্ত ৮ হাজার ৬২০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করবে। যা বর্তমান আয়ের চেয়ে ৪৪ শতাংশ বেশি। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুতর দামও বৃদ্ধি পায়। দেশে এখন ৫৭.৪৩ ভাগ বিদ্যুৎ গ্যাসে উৎপাদন হয়। গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। যার প্রভাব পড়বে সাধারন ভোক্তাদের উপর।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ