খুলনা | শুক্রবার | ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

চিংড়ির মড়ক রোধে যথাযথ  প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরী

০১ জুলাই, ২০১৯ ০০:১১:০০

চিংড়ির মড়ক রোধে যথাযথ  প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরী

চিংড়ি চাষ বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির একটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা ও উচ্চ বাজারমূল্য বর্তমানে চিংড়িকে বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানী পণ্যে পরিনত করেছে। যে কারণে চিংড়িকে বলা হয়ে থাকে “সাদা সোনা”। সত্তর দশক থেকে শুরু করে নব্বই দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশে চিংড়ি চাষের ক্রমবিকাশ পরিলক্ষিত হয়েছিল। কিন্তু ১৯৯৪ সাল হতে ভাইরাসজনিত রোগের কারণে চিংড়ি চাষ বিশেষভাবে বাধাগ্রস্থ হয় এবং এতে চিংড়ি শিল্পে চরম ক্ষতি সাধিত হয়। যে ধারাবাহিকতা আজও অব্যহত। এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ের চিংড়ি চাষীসহ ব্যাবসায়ীদের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠার শেষ নেই। 
চলতি চিংড়ি চাষ মৌসুমে তীব্র গরমে হিটস্টোকসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি মরতে শুরু করছে। চাষিরা নানা ধরনের পরিচর্যা চালিয়েও দূষনমুক্ত পানির অভাবে মাছের মড়ক থামাতে পারছে না। বিশেষ করে চলতি বছর গরমের তীব্রতায় ঘের ও পুকুরের পানির তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্বি পাচ্ছে। যা মাছের জন্য মারত্মক ক্ষতির কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ কারণে খুলনাসহ উপকুলীয় জেলাগুলোতে চিংড়ি উৎপাদনকারীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি  প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও  চিংড়ি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে রপ্তানিজাত চিংড়ি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। চাষীরাও ঋনের বোঝা নিয়ে উদ্বিগ্ন। চিংড়ি ঘেরে এই মড়কের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে না পারলেও চিংড়ি চাষিরা ধারণা করছেন পানি স্বল্পতা ও ঘেরে পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশির কারণে চিংড়ি ঘেরে এ মড়ক দেখা দিয়েছে। ঘেরে পানি পাল্টেও কোনো লাভ হচ্ছে না। এ পর্যন্ত এ অঞ্চলের চিংড়ি ঘেরে অন্তত কোটি  টাকার চিংড়ি মারা গেছে। 
আশংকার বিষয় হচ্ছে সময় মত মৌসুমী বৃষ্টি না হওয়ায় আমাদের দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এর থেকে পরিত্রান পেতে হলে চিংড়ি চাষের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। কারন আমাদের দেশের চাষিরা যে পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করে তা অপরিকল্পিত এবং বর্তমানের আবহওয়ার উপযোগী নয়। তাদের ঘের প্রস্তুতিতে সমস্যা রয়ে যাচ্ছে। এ অঞ্চলের অধিকাংশ ঘেরের পানি বর্তমানে ১ থেকে ২ ফুট নেমে এসেছে। অথচ এগুলোয় ৩ থেকে ৪ ফুট পানি থাকার কথা। চিংড়ি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং এই ক্ষতির কবল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যথাযথ প্রযুক্তির উদ্ভাবন একান্ত প্রয়োজন। আর এই প্রযুক্তির উদ্ভাবনের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের মৎস্য গবেষকগণের নিরলস গবেষনা চালিয়ে যাওয়া জরুরী বলে আমরা মনে করি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




ব্রেকিং নিউজ