খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

বাগেরহাটে তীব্র গরমে হিটস্টোকে মরছে ঘেরের মাছ, দিশেহারা চিংড়ি চাষি

মামুন আহম্মেদ, বাগেরহাট  | প্রকাশিত ৩০ জুন, ২০১৯ ০১:০০:০০

তীব্র গরমে হিটস্টোকসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চল বাগেরহাটের সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি মরতে শুরু করছে। গ্রেড উপযোগী চিংড়ি মাছ মরে যাওয়ায় জেলার চাষিরা ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা করছেন। এতে চলতি ২০১৯-২০ মৌসুমে রপ্তানিজাত চিংড়ি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর। 
এদিকে হঠাৎ করে দেখা দেয়া রোগে এরই মধ্যে জেলার কয়েক হাজার ঘেরের বাগদা চিংড়ি মরতে শুরু করেছে। তীব্র গরমে চিংড়ি ঘেরে এই মড়কের কারণ সম্পর্কে জেলা মৎস্য বিভাগ নিশ্চিত করে কিছু বলতে না পারলেও চিংড়ি চাষিরা ধারণা করছেন পানি স্বল্পতা ও ঘেরে পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশির কারণে চিংড়ি ঘেরে এ মড়ক দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে জেলার মোংলা, রামপাল, চিতলমারী, মোড়েলগঞ্জ ও সদর উপজেলার কাড়াপাড়া, ষাটগম্বুজ, ডেমা, যাত্রাপুর, গোটাপাড়া ও বেমরতা ইউনিয়নের হাজার হাজার চিংড়ি চাষি। 
বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের ঘের ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী জানান, চলতি মৌসুমে ২০ বিঘা জমিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করেছেন তিনি। ঘেরে রেণু ছাড়ার পর মাছ কেবল গ্রেড হওয়ার উপযোগী হয়েছে। কিন্তু প্রচন্ড গরমে মাছ মারা যাচ্ছে। এছাড়া নদী থেকে যে পানি ঘেরে নেয়া হয় সেটিও তুলনামূলক বেশি তাপমাত্রার। ফলে পানি পাল্টে দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। এ কারণে চিংড়ি মাছ হিটস্টোকে মারা যাচ্ছে। একই অবস্থা বাগেরহাট সদর উপজেলার অধিকাংশ ঘেরগুলোর। 
চিতলমারী উপজেলার কুরমনি গ্রামের কৃষক বলরাম বিশ্বাস জানান, দেড় লাখ টাকা খরচ করে চিংড়ি ঘেরের মাটি খনন করে ২১ হাজার রেণু পোনা ছেড়েছি। বৃষ্টি না হওয়ায় ঘেরের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে ঘেরের মাছ মরতে শুরু করেছে। 
বাগেরহাট সদর উপজেলার ঘের ব্যবসায়ী আলামিন খান সুমন জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫৫ বিঘা পরিমাণ জমির ঘেরে বাগদা চিংড়ি চাষ করেছেন। প্রচন্ড গরমের কারণে তার ঘেরে চিংড়ি মাছ মরে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন জাল টানলে প্রচুর মরা চিংড়ি উঠছে, যা সবই গ্রেড উপযোগী। এ পর্যন্ত তার ঘেরে অন্তত ৮ লাখ টাকার চিংড়ি মারা গেছে।
বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খান কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এখন আপনাকে চিংড়ি চাষে লাভবান হতে হলে চাষের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। গত সপ্তাহে বাগেরহাটে তীব্র গরমে ঘের ও পুকুরের পানির তাপমাত্র ৩৯ ডিগ্রি পর্যন্ত দেখা গেছে যা মাছের জন্য মারাত্মক। তিনি আরও বলেন, জেলার চাষিরা যে পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করে তা পরিকল্পিত না। তাদের ঘের প্রস্তুতিতে সমস্যা রয়েছে। তারা যদি ঘেরে সেড বা ছাউনি নির্মাণ করতো তাহলে গরমে মাছ মারা যেতো না। এছাড়া গরমে মাছের মারা যাওয়া ঠেকাতে ঘেরে বিভিন্ন প্রজাতির শ্যাওলা দিয়ে পানির তাপমাত্র কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে বলে তিনি জানান। 
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অমল কান্তি রায় বলেন, বাগদার সহনশীল তাপমাত্র হচ্ছে ২৭-২৮ ডিগ্রি সেখানে একটানা ৩৫-৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রার পাশাপাশি জেলার অধিকাংশ ঘেরের পানি ১ থেকে ২ ফুট নেমে এসেছে। অথচ এগুলোয় ৩ থেকে ৪ ফুট পানি থাকার কথা। ফলে তীব্র গরমে হিটস্টোকসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলার কিছু কিছু এলাকার ঘেরে চিংড়ি মারা যাচ্ছে। তবে এরই মধ্যে জেলার চিংড়ি চাষিদের ঘেরের তাপমাত্র নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সেড নির্মাণসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



সবজি চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

সবজি চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ ০১:১০









গলদার মূল্য হ্রাসে রেকর্ড

গলদার মূল্য হ্রাসে রেকর্ড

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০২:১০


ব্রেকিং নিউজ