খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ জুলাই ২০১৯ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

সালাম : প্রচলন ও প্রদানের পদ্ধতি

মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ২৮ জুন, ২০১৯ ০১:০২:০০

পারস্পারিক ভ্রাতৃত্ববন্ধনে ও সহনশীল আচরনের ক্ষেত্রে সালামের গুরুত্ব অপরিসীম। সালাম ইসলামের একটি অন্যতম শিয়র বা নিদর্শন। সালাম আদান ও প্রদানের মাধ্যমে সমাজে সৌহার্দ্য, শান্তি, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা অর্জিত হয়। নিম্নে সালামের পরিচিতি ও প্রচলন এবং প্রদানের পদ্ধতি উপস্থাপন করা হলো : সালাম আরবী শব্দ, যার অর্থ ‘শান্তি’, নিরাপত্তা, শিষ্টাচার, অভিবাদন, স্বাগতম, ইত্যাদি। 
ব্যবহারিক অর্থে ঃ “মুসলমান পরস্পর স্বাক্ষাতের সময় যে বাক্যের মাধ্যমে অভিবাধন জানায়, ঐ বাক্যটিকে সালাম বলা হয়। যেমন “আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রহ্মাতুল্লাহ্”। সালাম সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে, “ফেরেশতা তাদের জান কবজ করে পবিত্র অবস্থায় এবং বলে আস্সালামু আলাইকুম, দুনিয়াতে যা করেছ তার প্রতিদান হল জান্নাত, সেখানে প্রবেশ কর” (সূত্র: সূরা নাহল, আয়াত নং-৩২)। নবী করিম (সাঃ) বলেন, “মুমিন হওয়া ছাড়া জান্নাতে যাওয়া যাবে না, আর পারস্পারিক ভালোবাসা ছাড়া মুমিন হওয়া যাবে না। আমি তোমাদেরকে বলবো, কিসের ফলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তা হলো সালাম দেয়া” (মিশকাতঃ ৩৯৭ পৃষ্ঠা)। 
সালাম প্রদানের ফজিলত ও উপকারিতা ঃ ইসলামি ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সুদৃঢ় করতে এবং অটুট রাখার জন্য উত্তম মাধ্যম হল সালাম বিনিময়। এতে ব্যক্তির উন্নত আচার-আচরণ ও উত্তম স্বভাবের ও প্রতিফলন ঘটে। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে অমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনৈক সাহাবী রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করেন, ইসলামে কোন আমলটি সবচেয়ে উত্তম? রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) প্রতিত্তরে বলেন, অনাহারিকে খাওয়ানো এবং পরিচিত ও অপরিচিত সকলকে সালাম দেয়া (বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত হাদিস নং-৪৪,২২)। অন্য এক হাদিসে আছে, “মহানবী (সাঃ) হযরত জিব্রাইল (আঃ) কে জিজ্ঞেস করেন মহান আল্লাহ্ তায়ালা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে কি গুনের কারণে খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন? হযরত জিব্রাইল (আঃ) উত্তরে বলেন তিনটি কারণে আল্লাহ্ তায়ালা ইব্রাহিম (আঃ) কে খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, (১) মানুষকে খাওয়ানো, (২) সালাম দেয়া, (৩) রাত্রে নামায পড়া (কুরতুবী: ৫ম খন্ড, ৩০৪ পৃষ্ঠা)। 
সালাম প্রদানে আদব ও নিয়ম : সালাম প্রদানের প্রথম আদব বা নিয়ম হল- কথার আগে বা সর্বাগ্রে সালাম দেয়া। হযরত জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সাঃ) বলেছেন, কথা বর্তা বলার আগেই সালাম করতে হয় (তিরমিযী) একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, “যানবাহনে আরোহী ব্যক্তি পদব্রজে চলন্ত ব্যক্তিকে, ও পদব্রজে চলন্ত ব্যক্তি উপবিষ্ট ব্যক্তিকে এবং কম সংখ্যক লোক অধিক সংখ্যক লোককে সালাম দিবে”। অন্য বর্ণনায় আছে যে, “কণিষ্ট ব্যক্তি বয়ো জ্যেষ্ঠকে সালাম দিবে (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)। যদি এক সাথে একাধিক লোক থাকে, তবে সকলের পক্ষ থেকে একজন সালাম দিলে যথেষ্ট হবে। তেমনি উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে সকলের পক্ষ থেকে একজন উত্তর দিলে, তা সকলের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। মুসলমান ছাড়া বিধর্মীদের সালাম দেয়া যাবে না। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ইরশাদ করেন, “তোমরা ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদেরকে আগে সালাম দিবেনা” (বুখারী)। আর যদি কোন অমুসলিম কোন মুসলমানকে আগে সালাম দেয়, তাহলে জবাবে “ওয়া আলাইকুমস্ সালাম” বলা যাবে না, শুধুমাত্র “ওয়া আলাইকুম” বলবে (সূত্রঃ ফাতাওয়ায়ে শামী, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৪১৩ পৃষ্ঠা)। কিন্তু কোন অমুসলিমকে লক্ষ করে এভাবে সালাম দেয়া জায়েয আছে, “আসসালামু আলা মানিত্তাবা আল হুদা।” কারো সালামের জবাব দেয়া যেমনি ওয়াজিব, তেমনি সেই জবাব তাকে শুনিয়ে দেয়াও ওয়াজিব। তাই মুখে উচ্চারণ করে সালামের জবাব দিতে হবে এবং একটুকু আওয়াজ হতে হবে, যাতে সালামকারী ব্যক্তি তার সালামের জবাব শুনতে পায়। নতুবা জবাব দাতার ওয়াজিব দায়িত্ব আদায় হবে না। 
আগে সালাম প্রদান করার লাভ : যে আগে সালাম দেয় সে অহংকার মুক্ত। হযরত আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী করিম (সাঃ) এরশাদ করেন “যে ব্যক্তি আগে সালাম করে সে অহংকার হতে মুক্ত”(বায়হাকী)। অন্য এক হাদিসে আছে, “হযরত আবু উমামা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেছেন, “মানুষের মধ্যে আল্লাহ্ তায়ালার নৈকট্যের সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত ঐ ব্যক্তি যে আগে সালাম করে” (সূত্রঃ আবু দাউদ)। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি আর ওমর (রাঃ) প্রায় দিনই বাজারে যেতাম শুধু মানুষকে সালাম দেয়ার জন্য, বেশী বেশী সালাম দিয়ে নেকি কুড়ানো আমাদের নেশা হয়ে গিয়েছিল।
সালাম প্রদান ও পরিপ্রেক্ষিত বর্তমান সমাজ : আজকাল দেখা যায়, ইসলামী রিতি পদ্ধতি সালাম বাক্যটি আমরা সঠিক ও শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করতে পারিনা। বিকৃতরূপে অনেকে বলেন, ‘স্লামালাইকুম’, ‘আসলামালিকুম’, ‘সিলামালিকুম’, ‘সা-মালিকুম’, ‘সালামালিকুম’, ইত্যাদি বলেন। এভাবে সালাম ও সালামের জবাব বিকৃত করে প্রদান করা মারাত্মক গুনাহের কাজ। পরিশেষে বলবো বেশী বেশী সালাম প্রচালন করে আমাদের ইসলামী সংস্কৃতি বিকাশিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করবো। ইনশাআল্লাহ্ ॥

লেখক: মুফাসসিরে কোরআন ও প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মাতৃভাষা ডিগ্রী কলেজ। শরণখোলা, বাগেরহাট।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







আজ পবিত্র শবে কদর

আজ পবিত্র শবে কদর

০১ জুন, ২০১৯ ০১:১৭


জুম্মাতুল বিদা আজ

জুম্মাতুল বিদা আজ

৩১ মে, ২০১৯ ০০:৩৯





ব্রেকিং নিউজ