খুলনা | মঙ্গলবার | ১৫ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬ |

রেলের অবৈধ দখলদারদের  উচ্ছেদে দ্রুত উদ্যোগ নিন

২৭ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০

রেলের অবৈধ দখলদারদের  উচ্ছেদে দ্রুত উদ্যোগ নিন

খুলনাসহ সারাদেশে সড়ক ও নদীর দখল হওয়া জমি উদ্ধারে দৃশ্যমান অভিযান শুরু হলেও রেলের জমি উদ্ধারে তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। বর্তমান সরকার নতুন করে ক্ষমতায় আসার পর রেল, নদী ও সড়কের অবৈধ দখলকৃত জমি উদ্ধারে ১০০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেয়। এতে বেদখল হওয়া ২০০ কোটি টাকা মূল্যের জমি উদ্ধার হয়। কিন্তু এ সময়ে বিভিন্ন স্থানে রেলের জমি উদ্ধারে অভিযান চললেও খুলনায় তেমন তৎপরতা চোখে পড়েনি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে কয়েক যুগ ধরে অবৈধভাবে রেলের জমি বেদখল হলেও এ বিষয়ে তেমন মাথা ব্যথা নেই সংশ্লিষ্টদের। তাদের দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তায় ইতোমধ্যে অনেক জায়গা পুরোপুরি বেদখল হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালীরা কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এ দখল চালিয়ে যাচ্ছে। এসব দখলদাররা অবৈধভাবে দখলকৃত জায়গায় কাঁচা-পাকা স্থাপনা এবং অবৈধ দোকান ও বস্তি বসিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রভাবাশালী অসাধু সিন্ডিকেট মাসোহারা নিয়ে স্থায়ীভাবে এ দখল টিকিয়ে রেখেছে। এসব কারণে রেল লাগাতার লোকসানের মধ্যে পড়ে রয়েছে। শুধু দখল করেই তারা ক্ষ্যান্ত নয়, দখলের সাথে সাথে রেল লাইনের দু’ধারে স্থায়ী বাজারের পাশাপাশি বড় বড় মাদকের আখড়াও গড়ে তুলেছে। এতে একদিকে রেল লাইনে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি যেমন বেড়েছে তেমনি জমি থেকে প্রাপ্ত বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এসব আখড়া থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে মাদক ছড়িয়ে পড়ায় যুব সমাজ ক্রমশ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। 
রেল লাইনের দু’পাশে ২৫ ফুট পর্যন্ত কোন জমি ব্যবহার করার জন্য লিজ দেওয়া হয় না। সরকারি নির্দেশনা ছাড়াও যে কোন দুর্ঘটনা এড়ানো ও বাড়তি সতর্কতার জন্য এমন বিধান। অথচ রাজধানীর মতো দেশের জেলা শহরগুলোর কোথাও এমন খালি রাখার চিত্র তেমন চোখে পড়ে না। সারা দেশে রেলওয়ের মালিকানাধীন জমি রয়েছে প্রায় ৬১ হাজার ৬০৫ দশমিক ৮৪ একর। এর মধ্যে রেলওয়ে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করছে ৩১ হাজার ৩১১ দশমিক ৫০ একর জমি। বাকি জমি ইজারাদার ও অবৈধ দখলকারীর কব্জায়। রেলওয়ের জমি ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে ১৮টি কঠিন শর্ত দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে এসব জমির ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু কোন শর্ত না মেনেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রেলওয়ের জমিতে অবকাঠামো গড়ে তুলছে। একসনা ইজারার নামে এভাবে রেলওয়ের জমি ঢালাওভাবে বেদখল হয়ে যাওয়ায় ২০১৭ সালে জাতীয় সংসদে এক অধিবেশনে নতুন করে জমি ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপের কথা বলা হয়। নতুন নিয়মের আওতায় নগরীতে সব ধরনের কৃষি জমির ইজারা বাতিল করা হয়েছে। আর বিভাগীয় পর্যায়ে সীমিত পরিমাণ জমি ইজারা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব নিয়ম না মেনে খুলনা রেললাইনের দু’পাশে অবৈধ দখলদারের রাজত্ব চলছে দাপটের সাথে। মহানগরী খুলনা, রূপসা, ফুলতলা ও বাগেরহাট এলাকার রেললাইনের পার্শ্ববর্তী জমিতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন শ্রেণীর দোকান, মার্কেট, বসতবাড়ি, মসজিদ, মন্দির, মাজার, স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামেই চলছে জমি দখলের রাজত্ব। বিশেষ করে ১৯৯৮ সালে রূপসা-বাগেরহাট রুটে রেললাইন চলাচল বন্ধ হওয়ার পর ঐ এলাকায় কৃষি জমির নামে লিজ নিয়ে বসতবাড়ি থেকে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রভাবশালীদের মাধ্যমে এসব অবৈধ দখলদাররা রেলওয়ের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেন।
দেশে চলমান নদীখেকো ও নদী তীর দখলকারীদের উচ্ছেদে সরকার অনেক সফলতা পেয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী অবৈধ দখলকৃত অনেক জায়গা উদ্ধারসহ অনেক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। রেলের জায়গা দখলকারীদের বিরুদ্ধে অনুরুপ একটি শক্তিশালী ও জোরালো অভিযান শুরু করলে খুব শিগগিরই রেলের দখলকৃত জমি উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০








পেঁয়াজ নিয়ে নয় ছয়

পেঁয়াজ নিয়ে নয় ছয়

০৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০




ব্রেকিং নিউজ






ফুলবাড়ীগেটে ইয়াবাসহ যুবক আটক

ফুলবাড়ীগেটে ইয়াবাসহ যুবক আটক

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০