খুলনা | শুক্রবার | ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

হাসপাতাল বা ক্লিনিক নিবন্ধনের আবেদনের শেষ সময় ৩০ জুন

নগরীতে বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতালে নেই নিয়মনীতি : স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চলছে প্রতারণা

বশির হোসেন | প্রকাশিত ২৬ জুন, ২০১৯ ০১:১০:০০

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রোগীর জীবন-মৃত্যু নিয়ে ব্যবসা করছেন খুলনার অধিকাংশ বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল। হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বেশির ভাগেরই হাসপাতাল পরিচালনার লাইসেন্স নবায়ন নেই। প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম ছাড়া ক্লিনিক হাসপাতাল চালাচ্ছে তারা। ফলে অব্যবস্থাপনায় রোগী মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগরীতে যেখানে-সেখানে গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক শ্রেণীর অসাধু ক্লিনিক মালিক, ভুয়া ডাক্তার ও দালাল চক্রের খপ্পড়ে পড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সহজ-সরল রোগী ও তার পরিবাররা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। মাঝে মধ্যে র‌্যাবের অভিযান ও মোবাইল কোর্টের জরিমানাও গুণতে হচ্ছে ওই সব প্রতিষ্ঠানকে। তবুও থেমে নেই তারা। মহানগরীতে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মিলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ১৬০টি। এর বাইরে লাইসেন্সবিহীন অসংখ্য ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে।
নগরীর খানজাহান আলী রোডে সোমবার ন্যাশনাল হাসপাতালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুবরণকারীর স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চেষ্টা করে, গেটে লাথি মারে। পড়ে গভীর রাতে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা হয় বলে জানা গেছে।
হাসপাতালটিতে সরেজমিনে দেখা যায়, বহুতল ভবনের হাসপাতালটিতে রোগী বহনে নেই লিফট। নেই পর্যাপ্ত পোষ্ট অপারেটিভ সেবা। আইসিইউ সেবা নেই। কিন্তু দেদারছে চলছে অপারেশন। ফলে অপারেশনের পরে কোন রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকলে তাকে পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে পাঠানো ছাড়া কোন কিছু করার থাকে না।
খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রমতে, মহানগরীতে বর্তমানে লাইসেন্স প্রাপ্ত ১৬০টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ক্লিনিকের সংখ্যা রয়েছে ৭৬টি। বাকীগুলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার। 
তবে নতুন নিয়মে বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক নিবন্ধনের জন্য আবেদনের মেয়াদ আগামী ৩০ জুন শেষ হচ্ছে। এরপর যারা আবেদন করেনি এমন সব সেরকারি ক্লিনিক হাসপাতাল অবৈধ হয়ে যাবে।
নগরীর শিপইয়ার্ড মেইন রোডের বেসরকারি আরাফাত হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দিলেও কৌশলে আবারও চালু হয়েছে। হাসপাতালটির মালিক পরিচয়ধারী দুই ভুয়া চিকিৎসক পালিয়ে থাকার কিছুদিন পর আবারও পরিচালনায় ফিরে এসেছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক রাশিদা খানম বলেন, চলতি মাস পর্যন্ত সময় আছে আবেদনের এরপর যাচাই-বাছাই করে সকল হাসপাতাল বা ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করা হবে। যার লাইসেন্স নেই, সে হাসপাতাল পরিচালনা করতে পারবেন না।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ