খুলনা | মঙ্গলবার | ১৫ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬ |

উপকূলবাসীর খাবার পানি সংকট  নিরসনে টেকসই উদ্যোগ নিন

২৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০

উপকূলবাসীর খাবার পানি সংকট  নিরসনে টেকসই উদ্যোগ নিন

গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতেই উপকূলীয় এলাকায় খাওয়ার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। খোলা পুকুরের অনিরাপদ পানি পান করে নানা ধরনের অসুখে পড়ছেন তারা। মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করতে আসেন সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামের নারীরা। গ্রামের অধিকাংশ মানুষজনই খোলা পুকুরের পানি খেয়ে থাকেন। অথচ একই পুকুরে স্থানীয় বাসিন্দারা গৃহস্থলী কাজে হাড়ি-পাতিল মাজাঘষার পাশাপাশি সাবান সোডা দিয়ে কাপড় পরিষ্কার করে। ফলে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষজন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা পুকুরের পানি খেয়ে নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আর যারা পানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সকালে বাড়িতে বের হন তাদের দুপুর গড়িয়ে যায় পানি নিয়ে বাড়ি ফিরতে। এতে করে সংসারের কাজ ব্যাহত হয়। এ অঞ্চলের ৭৯ শতাংশ নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ অঞ্চলের ৬০ লক্ষ অধিবাসীর মধ্যে প্রায় ৫০ লক্ষ এ সমস্যায় আক্রান্ত। ক্রমেই এ সমস্যা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে, যার কারনে জীবন-জীবিকায় ও বসবাসে মারাত্মক ধরনের সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। 
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের উপকূলীয় অঞ্চল খুলনা, সাতক্ষীরা ও  বাগেরহাট দুর্যোগপ্রবণ অতি ঝুঁকিপূর্ণ জেলা। উপকূলের এই তিন জেলায় প্রায় লাখ লোক বসবাস করে। যার ৫০ লাখই দীর্ঘদিন খাবার পানি সংকটে ভুগছে। গভীর নলকূপেও রয়েছে লবণাক্ততা ও আর্সেনিক। স্বাস্থ্যের জন্য এই পানি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সুপেয় পানি সংকটের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগকালীন সময়ে ও পরবর্তীতে এ এলাকার স্যানিটেশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে।  এ এলাকাটি ব-দ্বীপের নিম্নাংশ হওয়ায় সুক্ষè দানার পলিদ্বারা এর ভূমি গঠিত। এখানকার অধিকাংশ স্থানে ভূগর্ভের প্রায় ১২শ’ ফুটের মধ্যে পানির স্তর বা জলাধার পাওয়া যায় না। গভীর নলকূপ খনন করে পািন সংকট নিরসনের চেষ্টা করলেও বাস্তবে তাতে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। 
বিশ^ ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে দারিদ্র্য হার ২১.৬ শতাংশ। অথচ উপকূলীয় এসব জেলায় দারিদ্র্যের হার ৪৬ শতাংশ। তাদের পক্ষে পািন কিনে খাওয়া সম্ভব না হওয়ায় তারা আয়রণ, লবণ ও আর্সেনিকযুক্ত পানি খেয়ে নানা রোগের মুখে পড়ছে। একইভাবে দুর্যোগে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ল্যাট্রিন পুনঃনির্মাণ বা সংস্কার করার মতো আর্থিক সঙ্গতিও নেই। এ এলাকার ভূমি গঠন ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনায় না নিয়ে সরকার দেশের অন্যান্য এলাকার মতো এই অঞ্চলেও গভীর ও অগভীর নলকূপ নির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। কোনো প্রকার হাইড্রলজিক্যাল জরিপ ছাড়াই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করায় মানুষ তা থেকে কোন উপকার পচ্ছে না। আমরা মনে করি, ভূ-গর্ভস্থ পানির অবস্থান নিয়ে হাইড্রলজিক্যাল অনুসন্ধান পরিচালনা, পুকুর, দীঘি খনন করে দূষণমুক্ত জলাধার সৃষ্টি, দরিদ্র,  প্রতিবন্ধী, দলিত ও নারীদের জন্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দসহ সুপেয় পানির জন্য এ এলাকায় প্রযোজ্য নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি খাবার পানির সংকট দূরীকরণে পুকুরগুলো সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। এতে যেমন খাবার পানির সংকট কমবে, অন্যদিকে মানুষ  দৈনন্দিন কাজেও ব্যবহার করতে পারবে। এ এলাকায় সুপেয় পানি এবং ল্যাট্রিন সরবরাহ সহজলভ্য করলে তা দারিদ্র্য বিমোচনেও সহায়ক হবে।


 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০








পেঁয়াজ নিয়ে নয় ছয়

পেঁয়াজ নিয়ে নয় ছয়

০৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০




ব্রেকিং নিউজ






ফুলবাড়ীগেটে ইয়াবাসহ যুবক আটক

ফুলবাড়ীগেটে ইয়াবাসহ যুবক আটক

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০