পশ্চিমাঞ্চলেও ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতুতে  চলাচল করছে যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন


রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলেও ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতুতে চলাচল করছে যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন। রবিবার রাতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া উপবন এক্সপ্রেসের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক যাত্রী। এঘটনার পর রেলসেতুতে চলাচলে ভাবিয়ে তুলেছে যাত্রীসাধারণকে।
সংশ্লি¬ষ্ট সূত্রমতে, সারাদেশে ২ হাজার ৮৭৮ কিলোমিটার রেলপথ ছড়িয়ে আছে। তিন হাজার ৬২৯টি ছোট-বড় ব্রিজের ওপর দিয়ে গেছে দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা রেলপথ। এসব ব্রীজ দিয়ে চলছে ৩৩৯ যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন। পশ্চিমাঞ্চলে এক হাজার ৫৩৫টি ব্রীজ আছে। গুরুত্বপূর্ণ, মেজর ও মাইনর ব্রীজ এই তিন ভাগে ভাগ করেছে রেল বিভাগ। রেলের পশ্চিমাঞ্চল রুটে অন্তত দেড় শতাধিক সেতুতে রয়েছে ত্র“টি; কোনটি মেজর আবার কোনটি মাইনর ঝুঁকিতে থাকার কথা জানা যায় রেল সূত্রে। 
রেলওয়ের প্রকৌশলীদের মতে, নির্মাণের ৫০-৬০ বছর পর ব্রীজের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তাদের তথ্যমতে, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর অধিকাংশ নির্মিত ১৯৩০-৩৫ সালের মধ্যে। সেতুগুলোর প্রায় সবই ইটের গাঁথুনি দিয়ে তৈরি। গাঁথুনি করা হয় চুন-সুরকির সাহায্যে। ফলে সেতুগুলো তেমন মজবুত ও যুগোপযোগী নয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রকৌশলী বলেন, রেলওয়ের সেতুগুলোর বড় একটি অংশ এখন নড়বড়ে। তবে এগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই। কারণ ট্রেন চলার ক্ষেত্রে এসব সেতুতে সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করে দেয়া আছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
রেলওয়ে সংশ্লি¬ষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা এসব মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তথা সরকারকে অবহিত করেছেন। এবিষয়ে সংশ্লি¬ষ্টদের গাফিলতি কিংবা উদাসীনতায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণও হতে পারে বলে তিনি জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রেলপথে পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ব্রীজের মধ্যে ঝিনাইদহ শতবর্ষের পুরনো। এছাড়া দর্শনা থেকে রাজবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার রেলপথ ১৮৬২ সালে নির্মিত হয়। এ পথের মোট ৯৮টি রেল ব্রীজ রয়েছে। যার মধ্যে ১২টি রেল ব্রীজের দৈর্ঘ্য একশ’ থেকে দেড়শ’ ফুটের বেশি। এ পথের ব্রীজের বয়স দেড়শ’ বছর। জোড়াতালি দিয়ে এসব ব্রীজ রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন মাঠ পর্যায়ের রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মচারীরা। ২০১৫ সালের ১৯ জুন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার রেল সেতুটি ধসে পড়ে। এতে তেলবাহী তিনটি ওয়াগন নদীতে পড়ে তেল ছড়ায় কর্ণফুলী নদীতে। ২০১৩ সালে প্রবল বর্ষণে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ধসে যায় ৬০ ফুটের বড় সেতু। এতে তিনদিন ঢাকা ও সিলেটের সঙ্গে চট্টগ্রামের ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।
সূত্র জানায়, রেলসেতুর ব্যাপারে পরিদর্শন প্রতিবেদন সময়মতো তৈরি করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার প্রতি বছর নিয়মিত পরিদর্শনের কথা থাকলেও তা সঠিকভাবে করা হচ্ছে না। এছাড়া রয়েছে ফাইল চালাচালি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো সময়মতো মেরামত করা সম্ভব হয় না।
এ ব্যাপারে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার মোঃ আবদুল আউয়াল ভূঁইয়া সময়ের খবরকে বলেন, “প্রতি বছরই এসব ব্রীজ অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা পরিদর্শন করেন। রেলওয়ের ব্রীজ সংস্কার আমাদের রুটিন ওয়ার্ক। বলতে গেলে, পশ্চিমাঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু নেই। অধিক পুরনো ব্রীজগুলো নিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানা আছে। এসব পুরনো সেতুতে রেলেও গতি সীমা নির্ধারণ করে দেয়া আছে; যাতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব।”
পশ্চিমাঞ্চল রেলপথের সেতু বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এ অঞ্চলে ৮৩৬টি স্টিলের ব্রীজ আছে। তবে এসব ব্রীজ আর কত বছর মেরামত করে রাখা সম্ভব। আমাদের ওপরে অনেক কর্মকর্তা আছে, পুরনো ব্রীজগুলোর অবস্থা সম্পর্কে তারা অবহিত। ব্রীজগুলোর অবস্থা সম্পর্কে প্রতি বছরই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়।


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।