খুলনা | মঙ্গলবার | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২ আশ্বিন ১৪২৬ |

শিরোনাম :

Shomoyer Khobor

অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে সাধারণ রোগীরা

চিকিৎসকের অভাবে খুমেক হাসপাতালের চারটি ইউনিট বন্ধের উপক্রম

বশির হোসেন | প্রকাশিত ২৪ জুন, ২০১৯ ০১:১০:০০

চিকিৎসকের অভাবে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ চারটি ইউনিট বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ওয়ার্ডগুলোতে নেই রেজিস্ট্রার সহকারী রেজিস্ট্রার বা মেডিকেল অফিসার। এ ওয়ার্ডগুলো বন্ধ হলে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এ চিকিৎসা বাইরে থেকে করতে পারবে না সাধারণ রোগীরা। ফলে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডটি বিশেষায়িত সেবায় সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সরাসরি তত্ত্বাবধায়নে ৪টি বিশেষ রোগের সেবা বিনামূল্যে পেয়ে আসছে এ অঞ্চলের মানুষ। বিভাগগুলো হচ্ছে হেপাটলজি বিভাগ বা লিভার বিভাগ, এন্ডাক্রলোজি বা হরমোন, থাইরয়েড ও ডায়াবেটিক বিভাগ, রেসপেটোরি মেডিসিন বা বক্ষব্যাধি বিভাগ এবং নিউরো মেডিসিন ওয়ার্ড। হাসপাতালে আন্তঃবিভাগ সার্ভিস চালু রাখতে বিশেষ কিছু সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা থাকতে হয়। তার মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার, মেডিকেল অফিসার, সিনিয়র নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়াসহ আরও জনবল প্রয়োজন হয় আনুপাতিক হারে।
ওয়ার্ডটিতে গিয়ে দেখা যায়, চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলেও এখানে কোন রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার বা মেডিকেল অফিসার নেই। অধ্যাপক বা সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মেডিকেল কলেজে অধ্যাপনা পাশাপাশি ওয়ার্ড প্রতিদিন রাউন্ড দেয়া ছাড়া তেমন কিছু করতে পারেন না। সার্বক্ষণিক একজন রোগীর চিকিৎসার ফলোআপ করার জন্য প্রত্যেক ওয়ার্ডে একাধিক সহকারী রেজিস্ট্রার থাকলেও এই ওয়ার্ডটিতে কেউ নাই। ৪টি ইউনিট মিলে একজন মাত্র চিকিৎসক থাকলেও সম্প্রতি তাকেও বদলী করায় চিকিৎসক শূন্য হয়ে পড়েছে এই ওয়ার্ডটি। এছাড়া ওয়ার্ডটিতে চিকিৎসক ছাড়া অন্যান্য জনবলও সংকট রয়েছে। ইতোমধ্যে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক না থাকায় ছুটি দিয়ে অন্য ওয়ার্ডে লিভার বিভাগের কয়েকজন রোগীকে স্থানন্তর করতে বাধ্য হয়েছেন খুমেক’র সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ কুতুব উদ্দিন মল্লিক।
এদিকে এ সার্ভিস বন্ধ হলে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে সাধারণ রোগীরা। গতকাল শুক্রবার এ ওয়ার্ডে ভর্তির জন্য হাসপাতালে যান সোনাডাঙ্গা খাঁ বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোঃ লিয়াকত আলী খান। কিন্তু চিকিৎসকের অভাবে ওয়ার্ডটি রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না শুনে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। এখন অধিক অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই তার।
খুমেকের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ কুতুব উদ্দিন মল্লিক বলেন, আমরা প্রফেসররা সার্বক্ষণিক রোগীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে ওয়ার্ডটি চালু করেছিলাম। নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসাও দিয়ে আসছি। কিন্তু চিকিৎসক ছাড়া এভাবে কোন ওয়ার্ড চলতে পারে না। একজন রোগীর অফিস সময় পরে কোন সমস্যা হলে এর দায় কে নেবেন। রোগীরাতো আমাদের উপর দোষ দেবেন।
খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ বলেন, চিকিৎসক সংকট হাসপাতালের সর্বত্র। আগের জনবল কাঠামোতে এ রকম ওয়ার্ড ছিল না। রোগীদের কথা চিন্তা করে ওয়ার্ডটি বিশেষ ব্যবস্থাপনায় চালু করা হয়েছে। সামনে নতুন জনবল কাঠামো অনুযায়ী চিকিৎসক পেলে কোন সমস্যা থাকবে না।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ