খুলনা | শুক্রবার | ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

ফার্মাসিস্ট কোর্স জটিলতা  নিরসনে উদ্যোগ নিন

২৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০

ফার্মাসিস্ট কোর্স জটিলতা  নিরসনে উদ্যোগ নিন

বর্তমান সময়ে ওষুধের দোকান বা ফার্মেসীর ব্যবসা খুবই লাভজনক একটি ব্যবসা। এ ব্যবসায় করতে হলে প্রয়োজন হয় ড্রাগ লাইসেন্সের। ওষুধের দোকান বা ফার্মেসী খুলে বৈধভাবে ব্যবসা করতে চাইলে ড্রাগ লাইসেন্স নেয়া বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওষুধ প্রশাসনের কাছ থেকে এ  ড্রাগ লাইসেন্স নিতে হয়। কারা এ লাইসেন্স পেতে পারে তার সুনির্দিষ্ট নীতিমালাও রয়েছে। নীতিমালার সর্বশেষ সংযোজন ফার্মাসিস্ট কোর্স। আর এ ফার্মাসিস্ট কোর্স জটিলতায় খুলনায় ড্রাগ লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। নতুন ড্রাগ লাইসেন্স করতে কিংবা পুরাতন ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করতে গেলে ফার্মাসিস্ট কোর্স বাধ্যতামূলক করায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। খুলনায় ফার্মাসিস্ট কোর্স বন্ধ থাকায় এ সমস্যা আরও বাড়ছে। আর এ সুযোগে লাইসেন্স বিহীন ওষুধের দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ বিক্রি বাড়ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। 
ড্রাগ লাইসেন্স পাওয়ার জন্য প্রথম ওষুধ প্রশাসনের নির্ধারিত ফরম-৭ এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। আর সাথে জমা দিতে হয় কিছু কাগজপত্র। ফার্মাসিস্টের সনদের জন্য ফার্মেসী কাউন্সিল থেকে ছয় মাস মেয়াদী একটি কোর্স করতে হয়। প্রতি তিন মাস পর পর ওষুধ প্রশাসনের সভা হয়, যেখানে তথ্যগুলো যাচাই বাছাই সাপেক্ষে লাইসেন্স প্রদান করা হয়। নতুন লাইসেন্স নিতে হলে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য। আর লাইসেন্স নবায়নের জন্য পাঁচ থেকে সাত কর্ম দিবস অপেক্ষা করতে হয়।
বিগত দিনে ওষুধ ব্যবসায় শুধু ড্রাগ লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন ছিলো। তবে সরকারের নতুন নীতিমালায় নতুন ড্রাগ লাইসেন্স করা অথবা পুরাতন লাইসেন্স নবায়ন করতে ফার্মাসিস্ট কোর্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে জটিলতায় পড়েছে খুলনা অঞ্চলের ওষুধ ব্যবসায়ীরা। লাইসেন্স-এর মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা আবেদন করতে পারছে না। খুলনায় ড্রাগ লাইসেন্সধারী দোকানের সংখ্যা ৩ হাজার ৬শ’। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৬শ’ ফার্মেসীর লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অথচ ফার্মাসিস্ট সার্টিফিকেটের অভাবে তারা নবায়ন করতে পারছে না। এরই মাঝে খুলনায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ওষুধের দোকান বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এসব ওষুধের দোকানী সহজেই লাইসেন্স করতে পারছে না। বর্তমানে খুলনায় লাইসেন্স বিহীন ওষুধের দোকানের সংখ্যা প্রায় ৪শ’। তবে কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির হিসেবে এ সংখ্যা আরও বেশি। ফার্মেসী কাউন্সিল-এর ওয়েব সাইট থেকে পাওয়া তথ্যমতে গত এক বছর ধরে ফার্মাসিস্ট কোর্স বন্ধ রয়েছে। খুলনায় ২শ’ জনের একটি কোর্সের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করতে গেলে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের। কর্তৃপক্ষ ট্রেড লাইসেন্সের কপি চায়। সেক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে গেলে আরও হয়রানি হতে হয়। সব মিলে একটি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিনই নতুন নতুন ফার্মেসীর লাইসেন্স-এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। এছাড়া নতুন নতুন ফার্মেসী ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করায় একদিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না অন্যদিকে তারা নকল, ভেজাল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ এবং নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




ব্রেকিং নিউজ