খুলনা | সোমবার | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

কবরের তিনটি প্রশ্ন ও তার জবাব

মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ২১ জুন, ২০১৯ ০২:০৫:০০

কবর আরবী শব্দ। যার অর্থ গোরস্থান (সমাধী স্থল)। আর পরিভাষায় মানুষ মৃত্যুর পরে যে স্থানে বা মাটিতে দাফন করা হয় তার নাম “কবর”। মৃত্যুর পর কবরই হয় অন্তিম ঠিকানা এবং কবর পরকালের প্রথম ঘাটি। কবর জগতের প্রশ্ন বিষয়ে এবং উত্তর মালা নিয়ে নিম্নে আলোচনা পেশ করা হল : 
কবরের প্রশ্ন ও উত্তর সম্পর্কে ধারণা:- “মুনকার নকীরের পূর্বে আগমনকারী রূক্ষমান ফেরেশতা হযরত আঃ ইবনে সালাম (রাঃ) বলেন, “আমি একদা হযরত রাসূলে পাক (সাঃ) এর নিকট আরয করলাম কবরে মুনকার নকীরের পূর্বে কোন ফেরেশতা আসেন কিনা? তিনি এরশাদ করলেন ওহে ইবনে সালাম! সূর্যের ন্যায় দীপ্তিময় এক ফেরেশতা তাদের পূর্বে কবরে এসে মৃত ব্যক্তিকে জাগ্রত করবেন এবং তার পাপ পূণ্য লিপিবদ্ধ করতে বলবেন। মৃত ব্যক্তি তখন নিবেদন করবে আমি কি দিয়ে লিখব? আমার কাছে তো কাগজ, কলম, কালি কিছুই নেই। ফেরেশতা বলবেন স্বীয় আঙ্গুলকে কলম, শুখকে দোয়াত এবং থুথুকে কালি হিসেবে ব্যবহার কর। বান্দা বলবে কাগজ (পাব কোথায়?) ফেরেশতা কাফনের কিছু অংশ ছিড়ে দিয়ে বলবেন এতে লেখ। বান্দা তখন দ্বিধাহীনভাবে পূর্ণ সমূহ লিখে দিবে। কিন্তু ‘পাপরাশি লিখতে লজ্জায় ইতস্তত হবে তা দেখে ফেরেশতা ধমক দিয়ে বলবেন পাপাচারী, পৃথিবীতে পাপের কাজ করতে লজ্জিত হওনি, আজ আমার সামনে তা লিখে দিতে লজ্জা বোধ করছ? এ বলেই তাকে প্রহর করতে উদ্যত হবেন। তখন সে লোক বলবে আমাকে প্রহর করবেন না। আমি সব কিছু লিখে দিচ্ছি। এরপর সে সবই লিখে দিবে। ফেরেশতা উক্ত পাপ পূন্যের খতিয়ান মোহরা কিত করে দিতে বলায় সে বলবে আমার নিকট তো সীল মোহর করার কোন উপকরণ নেই। কিসের সাহায্যে আমি একাজ সম্পন্ন করব? ফেরেশতা বলবেন তোমার নখ দিয়ে এ কাজ সমাধান কর। সে তাই করবে, ফেরেশতা তখন সে আমলনামা তার গলায় ঝুলিয়ে দিয়ে প্রস্থান করবেন। এ আমলনামা মহা প্রলয় দিবস পর্যন্ত তার গলদেশে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকবে। মহান আল্লাহ্ তায়ালা এ ব্যাপারে ঘোষণা করেন, “এবং আমি প্রত্যেক মানুষের গলদেশে তার আমলনামা ঝুলানর ব্যবস্থা করেছি (সূরা বনী ইস্রাইল, আয়াত নং-১৩)। এ ফেরেশতা বিদায় নেয়ার পর পরই মুনকার নকীর ফেরেশতা দ্বয় করবে আগমন করবে। (সূত্র ঃ দাকায়েকুল আখবার, পৃষ্ঠা নং- ৪১)। 
মুনকার নকীরের প্রশ্নবান ঃ হাদীস শরীফের বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত আছে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, কোন বালেগ মানুষ মারা যাওয়ার পর যখন তাকে কবরে, রাখা হয় তখন নীল চক্ষু বিশিষ্ট দুজন কালো বর্ণের ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে প্রশ্ন করেন। ফেরেশতাদ্বয়ের একজনকে বলা হয় মুনকার এবং অপরজনকে বলা হয় নকীর। তারা কবরবাসীর জন্য তিনটি প্রশ্ন করে থাকেন।
প্রশ্ন : মান রাবক্ষুকা- (তোমার রব কে ? উত্তর : আমার রব আল্লাহ্!
প্রশ্ন : মান দীনুকা- (তোমার দীন কি ? উত্তর: আমার দীন ইসলাম!
প্রশ্ন : মান নাবিয়্যুকা- (তোমার নবী কে ? উত্তর : ইনি আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)
এরপর তাঁর কবরকে প্রশস্ত ও আলোকিত করা হবে এবং বলা হবে তুমি ঘুমিয়ে থাক। আর কাফির ও মুনাফিক ব্যক্তি সব প্রশ্নের জবাব দিতে ব্যর্থ হয়ে বলবে, হায়! হায়! আমি কিছুই জানি না। তখন তার কবরকে জাহান্নামের গর্তে পরিণত করা হবে এবং সে কবরে থেকেই জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে থাকবে (তিরমিযী ও আবু দাউদ, সূত্র আল আকীদাতুল ইসলামিয়া, পৃষ্ঠা নং ৬৪৪,৬৪৫)।
চিন্তার বিষয় কেন, এই তিনটি প্রশ্ন :- এখন চিন্তার বিষয় হচ্ছে এই যে, কবরের ঐ তিনটি প্রশ্নের উত্তরে যদি ঐ ৩টি বাক্য বলতে পারি, তাহলে গোর আযাব মাফ, দোজখের আযাব ও মাফ। নিম্নে প্রশ্নগুলোর তাৎপর্য সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হলঃ-
(ক) রব শব্দের অর্থ ও তাৎপর্য : বাংলা ভাষায় এমন একটি শব্দ ও খুঁজে পাওয়া যায় না, যাতে রব শব্দের প্রকৃত অর্থ বুঝায়। রব শব্দের অর্থ : অস্তিত্বদানকারী, প্রভু, প্রতিপালক, পর্যবেক্ষক, সংরক্ষক, পরিচালক, অভিভাবক, মনিব, হুকুমদাতা, আইনদাতা, শাসনকর্তা, সর্বময় কর্তা, রাজা-বাদশাহ ইত্যাদি। রব বলতে এর সবগুলোই বুঝায়। “যার পূর্বে কোন অস্তিত্ব ছিলনা, তাকে তিনি অস্তিত্ব দিয়েছেন, তিনিই হচ্ছেন, তর “রব” এবং অস্তিত্ব দানের সঙ্গে তার যে ব্যবস্থাপনার সম্পর্ক রয়েছে। মূলত রব হলেন যিনি, মানুষের প্রয়োজনের তাগিদে, যখন যা প্রয়োজন তখন তাই দিতে সক্ষম যিনি তিনি হলেন “রব”। তাই রবের প্রকৃত অর্থ ও তাৎপর্য বুঝে এই দুনিয়াতে রবের গোলামী করে কবরে যেতে পারলে প্রথম প্রশ্নের জবাব দেয়া যাবে। 
কবরের দ্বিতীয় প্রশ্ন : কবরের দ্বিতীয় প্রশ্ন তুমি দ্বীন হিসেবে কোনটা মেনে এসেছ। এই প্রশ্নের জবাব দিতে হলে দ্বীন সম্পর্কে জানতে হবে। দ্বীন কোন কোন অর্থে আল কুরআনে ব্যবহৃত হয়েছে? আল-কুরআনে দীন মোটা মুটি চার প্রকার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। (১) ধর্ম (২) কর্ম (৩) জীবন ব্যবস্থা (৪) রাষ্ট্রীয় সংবিধান। এই প্রশ্নের জবাব ‘আমার দ্বীন ইসলাম’। ইসলাম অর্থ আনুগত্য করা, আত্মসমর্পন করা, বিশ্ব জগতের একমাত্র শ্রষ্টা আল্লাহ্র প্রতি আন্তরিক বিশ্বাস স্থাপন করা, পরিপূর্ণ আনুগত্য করা এবং নির্দ্বিধায় তাঁর আদেশ নিষেধ মেনে চলা ও সে অনুযায়ী জীবন যাপন করার নাম ইসলাম। 
কবরের তৃতীয় প্রশ্ন : কবর জগতের সর্বশেষ প্রশ্ন “মান নাবীয়াকা”, তোমার নবি কে ছিলেন ? এর অর্থ হলো তোমার নেতা কে ছিলেন, আমি যাকে নবি-রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছে তিনি না অন্য কেহ? তুমি আদর্শ হিসেবে যাকে অনুসরণ কর। তিনি আমার মনোনিত কিনা? কেননা মহান আল্লাহ্ তায়ালা কুরআনে উল্লেখ করেন, নিঃসন্দেহে আপনি রসূলগণের মধ্যে অন্যতম (সূরা ইয়াসিনঃ ২) ।তাই করব জগতে এই প্রশ্নের জবাব দিতে হলে, বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর নীতি ও আদর্শ মেনে নিতে হবে, এবং তার পরিপূর্ণ আনুগত্যশীল হতে হবে, কারণ রাসূলের আনুগত্য করা উম্মাতের জন্য ফরজ। 
“পরিশেষে বলতে চাই, কবর হল নতুন জগতে চূড়ান্ত প্রবেশ। তাই কবর আযাব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বেশী বেশী নেক আমল করতে হবে। 
লেখক: প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মাতৃভাষা ডিগ্রী কলেজ। শরণখোলা, বাগেরহাট।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

গীবত বা পরনিন্দা ঘৃণ্যতম অপরাধ

গীবত বা পরনিন্দা ঘৃণ্যতম অপরাধ

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৮


মশা প্রসংগে মহাগ্রন্থ আল কুরআন

মশা প্রসংগে মহাগ্রন্থ আল কুরআন

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০

আশুরার তাৎপর্য ও শিক্ষা

আশুরার তাৎপর্য ও শিক্ষা

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:০৫

পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর

পবিত্র আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর

০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৩১

আল্ কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান

আল্ কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান

৩০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:০০




পবিত্র হজ্ব আজ

পবিত্র হজ্ব আজ

১০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫১


মিনায় হজযাত্রীরা

মিনায় হজযাত্রীরা

০৯ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৫৪


ব্রেকিং নিউজ











কয়রায় সাবেক ইউপি মেম্বরকে কুপিয়ে জখম

কয়রায় সাবেক ইউপি মেম্বরকে কুপিয়ে জখম

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৬