খুলনা | বুধবার | ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ |

প্রি-পেইড মিটারের ভোগান্তি  কমাতে দ্রুত উদ্যোগ নিন

২১ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০

প্রি-পেইড মিটারের ভোগান্তি  কমাতে দ্রুত উদ্যোগ নিন

ব্যবহৃত বিদ্যুতের চেয়ে বেশি বিল, বিল পরিশোধে ভোগান্তি, বিদ্যুৎ চুরি এবং বকেয়া বিলসহ নানা অনিয়ম-হয়রানি দূর করার জন্য প্রি-পেইড মিটারকে ভালো সমাধান মনে করেছিলেন এই খাতের গ্রাহক ও সরবরাহকারীরা। অথচ নীতিগত ও ব্যবস্থাপনাগত ত্র“টির কারণে এই প্রি-পেইড মিটারই গ্রাহকদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বস্তির পরিবর্তে ভোগান্তি এর অতিরিক্ত খরচের বোঝা মাথায় নিয়েই চলতে হচ্ছে গ্রাহকদের। বর্তমানে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৬৭ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে অন্তত ৫ লাখ গ্রাহক বর্তমানে প্রি-পেইড মিটার ব্যবহার করছেন। অথচ কোনও ধরনের পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই প্রি-পেইড মিটারে বিদ্যুৎ সরবরাহ গ্রাহকদের ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রি-পেইড মিটারের বিদ্যুৎ বিল দিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে খুলনা মহানগরীতে নানা ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচিসহ আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে গ্রাহকরা। সাতক্ষীরায়ও আন্দোলনে নেমেছে ভুক্তভোগী নাগরিক সমাজ। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
‘প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রজেক্ট ফর-৫ এনওসিএস ডিভিশন আন্ডার ডিপিডিসি’ শীর্ষক প্রকল্পটি নেয়া হয় ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য। রাজধানীসহ খুলনা মহানগরীতে ২০১৮ সালের জুনে প্রি-পেমেন্ট মিটার বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়। সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকল্পটির কার্যকারিতা খতিয়ে দেখেছে। ভেনাস কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে চালানো সমীক্ষায় বেশকিছু অসঙ্গতি উঠে এসেছে, যা কাম্য নয়। বেসরকারি ভেনাস কনসাল্টিং সম্প্রতি দ্বিতীয় খসড়া প্রতিবেদন দিয়েছে আইএমইডির কাছে। এক্ষেত্রে যেসব সমস্যার কথা বলা হচ্ছে তা হলো রিচার্জে অসুবিধা, বেশি বিল আসা, সরকারি ছুটির দিনে রিচার্জ বুথ বন্ধ থাকা, মিটার লক হয়ে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার দায় চাপিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায় ইত্যাদি। এছাড়া প্রকল্পটির মূল্যায়নে ইতিবাচক যেসব সুবিধার কথা খসড়া প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে সেগুলো আশান্বিত হওয়ার মতো। প্রতিবেদনে বলা হয়, শতভাগ রাজস্ব আদায়, গ্রাহকদের উন্নত, নির্ভরযোগ্য ও ঝামেলামুক্ত বাণিজ্যিক সেবা প্রদান, গ্রাহক পর্যায়ে ওভারলোড প্রতিরোধ করে ডিমান্ড সাইড লোড ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নসহ ইতিবাচক অনেক সুবিধা রয়েছে প্রি-পেইড মিটার পদ্ধতিতে। ফলে সমস্যাগুলো দূর করে এ প্রকল্পটিকে এগিয়ে নেয়ার বিকল্প নেই।
মূল্যায়ন জরিপে অংশ নেয়া গ্রাহকরা বাড়তি ব্যয়, কার্ড দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া এবং রিচার্জের দুর্ভোগসহ যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন, সেগুলো সমাধানের পাশাপাশি আইএমইডির সুপারিশ-বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি, ছুটির দিনেও রিচার্জের ব্যবস্থা, বিকাশ-রকেট- ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিল পরিশোধ, মিটার মেরামতের চার্জ গ্রাহক থেকে না নেয়া, গ্রাহকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা ইত্যাদি আমলে নেয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি। কারণ এর মধ্য দিয়ে সরকারের শতভাগ রাজস্ব আদায় যেমন সম্ভব হবে, তেমনি বিদ্যুতের সিস্টেম লস, অনিয়ম-দুর্নীতিও বন্ধ করা যাবে। আমরা আশা করবো সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটারের সমস্যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবে। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ