খুলনা | বুধবার | ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

খুলনায় সোর্স নামধারী অপরাধীরা বেপরোয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৯ জুন, ২০১৯ ০১:১৫:০০

নগরীর স্টেশন রোডের সুইপার কলোনীর প্লাস্টিকের খালি বোতল বিক্রি প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে র‌্যাবের ক্যাপ্টেন পরিচয়ে চাঁদা দাবি ও ‘ক্রসফায়ারের হুমকি দেয় রূপসার নন্দনপুর এলাকার মোঃ মনিরুল সরদার মনির ও মিস্ত্রিপাড়ার সামসুর রহমান সামসু। প্রতিষ্ঠানের মালিক নাদিম খান বাবু ভয়ে ১০ হাজার টাকা দেন। গত বছরের ১৮ আগস্টের এ ঘটনা জানতে পেরে র‌্যাব-৬ এর স্পেশাল টিম অভিযান চালিয়ে তাদেরকে ১০ হাজার টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় র‌্যাবের স্পেশাল কোম্পানির এসসিপিও মোঃ সোলায়মান হাওলাদার বাদী হয়ে খুলনা থানায় মামলা করেন (নং-৩৪, ১৮-০৮-১৮)। জামিনে বের হয়ে আবারও শুরু করেছে সেই কর্ম। কখনও র‌্যাবের মেজর, কখনো ক্যাপ্টেন বা কখনো পুলিশের এএসপি পরিচয় দিয়ে অপরাধ করছে একাধিক চক্র। এসব সোর্সদের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যের রয়েছে সখ্যতা। এসব কথিত সোর্সদের নামে একাধিক মামলাও রয়েছে। ফলে মাঝে মধ্যে এসব অসাধু সদস্যদের নিয়ে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো কারণে সরাসরি অভিযোগ দিতেও ভয় পাচ্ছেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেছেন নগরীর সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, বড় বাজার, খানজাহান আলী হকার্স মাকের্ট, নিক্সন মার্কেট, শহিদ সোহরাওয়ার্দী মাকের্ট, স্টেশন রোড এলাকার ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করছে কথিত সোর্স নামধারী রূপসার নন্দনপুর এলাকার মনির, নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড়ের হারুন শরীফ, মিস্ত্রীপাড়া এলাকার সামসু ও রূপসা মিলকী দেয়াড়ার বাগানবাড়ি এলাকার মানিক। চাঁদা না দিলে তাদেরকে গ্রেফতার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনার হুমকি দেয়। ফলে এদের অত্যাচার, নির্যাতনে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। 
এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্তি উপ-কমিশনার (মিডিয়া) শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, সোর্সদের দ্বারা ব্যবসায়ীদের হয়রানী ও চাঁদাবাজির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই তা যাচাই-বাছাই করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সোর্স পরিচয় দিয়ে কেউ কোন বেআইনী কাজ করলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অন্যদিকে, জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সোর্সদের দাপট আরও বেশি। কথায় কথায় জামায়াত-বিএনপি’র বলে গণপিটুনির পাশাপাশি পুলিশে দেয়ার ভয়ও দেখায় তারা। পুলিশের সোর্সের পাশাপাশি স্বার্থন্বেষী কতিপয় রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিও সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের এ ধরনের হয়রানী করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের সাথে সখ্যতা রয়েছে থানা পুলিশের। ফলে পরবর্তীতে ঝামেলায় জড়ানোর ভয়ে অভিযোগের রেকর্ডও করেন না ক্ষতিগ্রস্তরা।
জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ্ বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। শুধু সোর্স নয়, তাদের পেছনেও যদি কেউ থাকে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ