খুলনা | সোমবার | ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

দুর্নীতিবাজ চক্রকে বাঁচাতে কাজ করছে একাধিক বোর্ড মেম্বর 

চিকিৎসক-কর্মচারীদের অব্যাহত কর্মসূচিতে বিএনএসবি চক্ষু  হাসপাতালে অচলাবস্থা : আজ ধর্মঘট ও মানববন্ধন 

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি | প্রকাশিত ১৯ জুন, ২০১৯ ০১:১৩:০০

চিকিৎসক-কর্মচারীদের অব্যাহত কর্মসূচিতে বিএনএসবি চক্ষু  হাসপাতালে অচলাবস্থা : আজ ধর্মঘট ও মানববন্ধন 

মাদকসহ গ্রেফতারের পর খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান তারিফ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন ৮ দিন ধরে। কিন্তু হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী তাকে বরখাস্ত করা হয়নি। অপর দিকে তার সাথে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ চিকিৎসক ও কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হচ্ছে না। অথচ হাসপাতালের পরিচালক ও বোর্ড মেম্বরদের কয়েকজন সদস্য এই চক্রকে বাঁচাতে কাজ করছে। বোর্ড মিটিং-এর দোহাই দিয়ে সব কিছু এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্বল্প সময়ের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে এ কথা বলেন হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ মোঃ সাইফুর রহমান। 
এদিকে হাসপাতালটি রক্ষায় সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে। হাসপাতালের মাদকসেবী দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং পরিচালকের অপসারণের দাবিতে আজ হাসপাতালে ধর্মঘট  ও মানববন্ধন পালন করবে আন্দোলনকারী চিকিৎসক কর্মকর্তা-কর্মচারী। সকাল ১০টায় এ কর্মসূচি পালন করা হবে জানান ডাঃ মোঃ সাইফুর রহমান। 
এদিকে মাদকসহ গ্রেফতার মাহমুদুল হাসান তারিফের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে সকাল ৮টায় থেকে এক ঘন্টা অবস্থান ধর্মঘট পালন করে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে ৩টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে ৯টায় কাজে যোগ দেয় তারা। কিন্তু সারাদিনে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় পরিচালকের অপসারণ এবং তারিফসহ দুর্নীতিবাজ চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে বলে হুঁশিয়ারী দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
ডাঃ সাইফুর রহমান জানান, খুলনার ঐতিহ্যবাহী এই হাসপাতালকে মাদকসেবী ও দুর্নীতিবাজ চক্রের হাত থেকে রক্ষা করতে আমরা সকলের সাথে আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। তবে দাবি আদায় না করা পর্যন্ত আজ বুধবার থেকে ধারাবাহিতভাবে মানববন্ধন, কর্মবিরতি, অবস্থান ধর্মঘট, প্রতিকী অবস্থানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। 
উল্লেখ্য প্রতিষ্ঠানের এ্যাডমিনিস্ট্রেটর মাহামুদুল হাসান তারিফ গত ১০ জ্নু ফেন্সিডিল সহ ধরা পড়ার পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি এবং নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ এনে ম্যানেজিং কমিটি বরাবর অন্তত ৪টি অভিযোগপত্র দেয়। তবে বোর্ড মেম্বরদের দোহাই দিয়ে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেননি হাসপাতালের পরিচালক।
বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ডাঃ শরফুদ্দিন আহমেদ সময়ের খবরকে বলেন, হাসপাতালের একটি নিজস্ব গঠনতন্ত্র আছে। কোন পরিস্থিতে কি করতে হবে তাও স্পষ্ট লেখা আছে। সে যেহেতু আন-অথরাইজ অনুপস্থিত আছেন, সেজন্য তাকে এ্যাবসেন্ট দেখাতে বলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ