খুলনা | মঙ্গলবার | ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

চিঠি চালাচালি তিন বছর : জমি অধিগ্রহণের অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব

খুলনার দু’টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অগ্রগতি নেই

আশরাফুল ইসলাম নূর  | প্রকাশিত ১৯ জুন, ২০১৯ ০১:০৭:০০

খুলনার দু’টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অগ্রগতি নেই

পদ্মাসেতু খুলে দেবার পূর্বেই খুলনার অর্থনৈতিক অঞ্চল দু’টির পূর্ণাঙ্গ স্থাপন জরুরি। তা না হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ পদ্মাসেতুর পূর্ণাঙ্গ সুবিধা বঞ্চিত হবে বলে শঙ্কা অর্থনীতিবিদদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ২০১৭ সালে বটিয়াঘাটার তেঁতুলতলা মৌজায় ৫৯৪ একর জমি প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়। অন্যদিকে, তেরখাদা উপজেলার কোলা পাটগাতি মৌজায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে জমি চিহ্নিতকরণে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়া যায়নি। ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় খুলনার দু’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ।
জেলা প্রশাসনের এলএ শাখা সূত্রমতে, বটিয়াঘাটার ৫৯৪ একর জমির মধ্যে প্রায় ২১২ একর খাসজমি; বাকি ৩৮২ একর জমির মধ্যে কিছু অংশ বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। আর কিছু জমিতে মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। তবে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কোন জটিলতা হবে না। এছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে নৌ ও সড়ক পথে সংযোগ তৈরিতে আরও কিছু জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। জমি অধিগ্রহণের জন্য অন্তত ২৫০-৩০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে, বটিয়াঘাটা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য চিহ্নিত করা জমির একটি ম্যাপ তৈরি করেছে জেলা প্রশাসন। তবে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না থাকায় তেরখাদায় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জমি চিহ্নিত করার কাজই শুরু হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০১৫ সালে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে খুলনার বটিয়াঘাটা এবং তেরখাদায় দু’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বেজা)। ওই বছরের ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এতে সম্মত হয়। এরপর জমির নকশা, খতিয়ান, মূল্য নির্ধারণী তথ্য সংগ্রহ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। ২০১৭ সালে জেলা প্রশাসন বটিয়াঘাটার তেঁতুলতলা মৌজায় ৫৯৪ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত জানায়নি মন্ত্রণালয়। }} ২ পাতার ১ কলাম
খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন সময়ের খবরকে বলেন, বটিয়াঘাটা ও তেরখাদা উপজেলায় দু’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের জন্য অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কাজের গতি বাড়াতে জেলা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বৈঠক হয়েছে। আগামী মাসে বেজা চেয়ারম্যানের খুলনায় আসার কথা রয়েছে। তখন এসব বিষয়ে আলোচনা হবে।
বেজা’র কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিকভাবে জায়গা নির্ধারণ, সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্প গ্রহণ ও জমি অধিগ্রহণসহ এখনো অনেক কাজ বাকি। ফলে সবকিছু গুছিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগবে। এদিকে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ জানিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠন ও শিল্প উদ্যোক্তারা।
বাংলাদেশ অর্থনীতিক সমিতির সদস্য প্রভাষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সময়ের খবরকে বলেন, স্বপ্নের পদ্মাসেতু খুলে দেবার পূর্বেই খুলনার অর্থনৈতিক অঞ্চল দু’টির পূর্ণাঙ্গ স্থাপন জরুরি। তা না হলে পদ্মাসেতুর পূর্ণাঙ্গ সুবিধা বঞ্চিত হবো আমরা। এ দু’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিন বছরের অগ্রগতিতে হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বেজার যুগ্ম-সচিব মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, খুলনার অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য এখনো জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়নি। কয়েকটি জায়গায় কিছু জমি বন্দোবস্ত দেয়া রয়েছে। কিছু জমিতে মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে শুনেছি। জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি অনুমোদনের পরই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
জনদ্যোগ খুলনার আহ্বায়ক এড. কুদরত-ই খুদা সময়ের খবরকে বলেন, সস্তা শ্রম বাজার, সুলভ কাঁচামাল ও যাতয়াত ব্যবস্থা সহজতর হওয়ায় খুলনার অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করবে। অনগ্রসর অঞ্চলের উন্নয়নে সরকার এই অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নিলেও দীর্ঘসূত্রতায় হতাশার সৃষ্টি করছে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










আমরন অনশনে পাটকল শ্রমিকরা  

আমরন অনশনে পাটকল শ্রমিকরা  

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৮




ব্রেকিং নিউজ











আমরন অনশনে পাটকল শ্রমিকরা  

আমরন অনশনে পাটকল শ্রমিকরা  

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৮