খুলনা | মঙ্গলবার | ১৫ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

সুন্দরবনে বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির  অভিযোগ : দিশেহারা বনজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৮ জুন, ২০১৯ ১৩:১৬:০০

সুন্দরবনে বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির  অভিযোগ : দিশেহারা বনজীবীরা

সুন্দরবনকে প্রধানমন্ত্রীর দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর উপকূলীয় অঞ্চলের বনজীবীদের মাঝে ফিরে এসেছিল স্বস্তির নিঃশ্বাস। যুগ যুগ ধরে বনদস্যুদের হাতে জিম্মি হয়ে সর্বস্ব হারানো অসহায় মানুষগুলো গত পহেলা নভেম্বর দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর থেকে নিরাপদে নির্বিঘেœ জীবীকা নির্বাহে সুন্দরবনে ছুটছেন। তবে এসকল অসহায় বনজীবীদের মাঝে নতুন আতঙ্ক ভর করেছে। সুন্দরবন রক্ষায় নিয়োজিত খোদ বনরক্ষীদের হাতেই বর্তমানে জিম্মি এসকল অসহায় বনজীবীরা। অভিযোগ রয়েছে, অনেক আগে থেকেই চাঁদার সিস্টেম চালু থাকলেও তার মাত্রা এখন অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ওই সকল অসাধু বনরক্ষীরা। জীবীকা নির্বাহের জন্য জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালসহ বনজীবীরা সরকারি নিয়মকানুন মেনেই পাশ পারমিট নিয়ে সুন্দরবন অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। তবে তাদেরকে নানাভাবে হয়রানির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে নিমজ্জিত হয়েছে এসকল দুর্নীতিগ্রস্ত সদস্যরা। 
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ১৪ জুন সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের পাটকোস্টা টহল ফাঁড়িতে মৎস্যজীবীদের জিম্মি করে চাঁদা নিয়েছেন বনরক্ষীরা। ওই টহল ফাঁড়ির মোস্তাফিজুর রহমান (বাগানমালি) ও বনপ্রহরী অসিম কুমার ১০টি মৎস্য নৌকা ও জেলেদের আটকে রেখেছিল। এরপর তাদের চাহিদা অনুযায়ী দেড়লক্ষ টাকার বিনিময়ে মহাজনরা নৌকাসহ জেলেদের মুক্ত করেছেন। মোস্তাফিজুর রহমান তার নিজের ব্যববহৃত মোবাইল ফোন নম্বরের পারসোনাল বিকাশে এসকল চাঁদার টাকা নিয়ে থাকেন বলে জানিয়েছেন বনজীবীরা । 
ভুক্তভোগি বনজীবীরা আরও জানান, গত ১৪জুন পাটকোস্টা টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ আবুল কামাল সেদিন স্টেশনে অনুপস্থিত ছিলেন। জেলেরা ওই টহল ফাঁড়িতে খাবার পানি সংগ্রহের জন্য গেলে মোস্তাফিজুর রহমান (বাগানমালি) ও বনপ্রহরী অসিম কুমার ১৩টি নৌকাসহ ২৬ জনকে জিম্মি করে রাখেন। প্রতিটি নৌকা ও জেলের সরকারি পাশ পারমিট থাকায় তাদেরকে নিষিদ্ধ অভয়ারণ্যে প্রবেশের অপরাধে মামলা ঠুকে দেয়ার ভীতি প্রদান করা হয়। একপর্যায়ে ১০টি নৌকা ও জেলেদের মহাজনরা যোগাযোগ করে নিরূপায় হয়েই নৌকা প্রতি ১৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দেন। 
বনজীবীরা জানান, আগে বনদস্যুরা অপহরণ করে চাঁদা নিতো তবে প্রধানমন্ত্রী দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর ভালোই যাচ্ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে আমাদের ওপরে বনরক্ষীদের আগ্রাসন বেড়ে গেছে। দস্যুদের মতোই তাদের আচরণ, টাকা না দেয়া পর্যন্ত কোন রক্ষা নেই। 
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বনরক্ষীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে। 
এ বিষয়ে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ বশিরুল আল-মামুন বলেন, সুন্দরবনে কর্মরত কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্যায়ের সাথে জড়িত হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।   
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





ফুলবাড়ীগেটে ইয়াবাসহ যুবক আটক

ফুলবাড়ীগেটে ইয়াবাসহ যুবক আটক

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০









ব্রেকিং নিউজ






ফুলবাড়ীগেটে ইয়াবাসহ যুবক আটক

ফুলবাড়ীগেটে ইয়াবাসহ যুবক আটক

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০